কলেজ শাখার দ্বিতীয় শিক্ষাবর্ষ শুরু
যবিপ্রবি কলেজে ৪৪ নবীন শিক্ষার্থীকে বরণ
- ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিভাগে ৪৪ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে
- উপ-উপাচার্য শেখ মাহমুদুল হাসান শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখতে বলেন
- বরণ শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাং
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণিতে ২০২৬–২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া ৪৪ শিক্ষার্থীকে ফুল ও উপহার দিয়ে বরণ করা হয়েছে। গত বছর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা কলেজ শাখাটি নতুন শিক্ষার্থীদের বরণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বছরে পা রেখেছে। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখতে এবং সততা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় যবিপ্রবি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে নবীন বরণ অনুষ্ঠান হয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষার্থীদের ফুল ও উপহারসামগ্রী দিয়ে স্বাগত জানান। প্রধান অতিথি ছিলেন যবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, “স্বপ্ন সেটাই, যা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না। শিক্ষার্থীদের স্বপ্নকে বড় করতে হবে। লক্ষ্যের প্রতি মনোযোগ থাকলে কোনো বাধাই সামনে দাঁড়াতে পারে না।” পারিবারিক মূল্যবোধ ও বাবা-মায়ের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বাবা-মা সন্তানের সবচেয়ে শুভাকাঙ্ক্ষী। তাঁদের শাসন ও আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করা এবং তাঁদের মুখ উজ্জ্বল করা প্রতিটি সন্তানের দায়িত্ব।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিযোগিতা এড়িয়ে সন্তানের নিজস্ব মেধা, মানসিকতা ও আগ্রহকে সম্মান জানানোর অনুরোধ করেন। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা যেন শুধু ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধ করতে শিক্ষার পাশাপাশি সততা, নীতি-নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার বিকল্প নেই।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সন্তানের মধ্যে তৈরি হওয়া সংকোচ দূর করতে বাবা-মা ও শিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে। সন্তানকে শুধু শাসন না করে ভালোবেসে কাছে টেনে নিতে হবে। কোনো সমস্যা হলে তারা যেন নির্দ্বিধায় পরিবার ও শিক্ষকদের সঙ্গে তা ভাগ করে নিতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতি অহেতুক রাগ না করে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে হবে এবং তাদের মেধা ও চিন্তার বিকাশের সুযোগ দিতে হবে। “একটু মমতার সঙ্গে সুযোগ দিলে আমাদের শিশুরাই ভবিষ্যতে বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াবে,” বলেন তিনি। নবীন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি বাবা-মা ও শিক্ষকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে এবং যেকোনো সমস্যা তাঁদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে বলেন। তিনি শিক্ষার্থীদের এমনভাবে মেধা ও দক্ষতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে শুধু দেশেই নয়, বিশ্বমঞ্চেও তাঁদের নাম মর্যাদার সঙ্গে উচ্চারিত হয়।
যবিপ্রবি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন যশোর সদরের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. হায়দার আলী, কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য ড. মো. জহুরুল ইসলাম ও ড. ফারহানা ইসলাম। কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। নবীন বরণ শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
//ডিবিটেক/এনএইচজে/বিপিও/এফএনএফ//





