প্রেসক্লাবে মানববন্ধনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি

চুয়েট ভিসি পুনর্বহালে নগরে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

  • প্রথমবার ক্যাম্পাসের বাইরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি
  • ১৫ দিনের আন্দোলনেও সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ
  • ক্লাস, পরীক্ষা ও গবেষণা ক্ষতির কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা

চুয়েট ভিসি পুনর্বহালে নগরে শিক্ষার্থীদের অবস্থান
৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৫৬  

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে এবার ক্যাম্পাসের বাইরে চট্টগ্রাম নগরে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ ১৫ দিনের আন্দোলনেও সংকটের সমাধান না হওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অচলাবস্থার কারণে ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণা ও তাদের একাডেমিক ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

৬ অক্টোবর, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে এক ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো চুয়েট ক্যাম্পাসের বাইরে চট্টগ্রাম নগরে কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। চুয়েট থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরের প্রেসক্লাব এলাকায় পাঁচটি বাসে করে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। নগরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত চুয়েটের শিক্ষার্থীরাও পরে কর্মসূচিতে যোগ দেন।

কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের হাতে ‘চুয়েট সচলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ’, ‘চুয়েট রিভোল্টস ফর সায়েম স্যার’ এবং ‘পিএম, কনসিডার আওয়ার অ্যাপিল’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এ সময় তারা ‘দফা এক, দাবি এক, অনলাইন ভিসির পদত্যাগ’ এবং ‘দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মানববন্ধনে পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ হিল গালিব বলেন, “আমরা দীর্ঘ ১৫ দিন ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ সংকট সমাধানের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না। আমরা এর নিন্দা জানাই। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি অনন্য নজির যে, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা সবাই একজনকে উপাচার্য পুনর্বহাল চান। আশা করি, সরকার আমাদের দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে সায়েম স্যারকেই উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করবে।”

কর্মসূচিতে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব, মাহিরা তাজরিন ও যুলকারনাইন মিহাদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এতে তারা বলেন, চুয়েটের সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন অচল থাকায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি; বরং একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ন্যায্য পুনর্বিবেচনা চাইছে।

লিখিত বক্তব্যে তারা আরও বলেন, চুয়েটে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের ৫৬ দিনের কার্যকালে নেওয়া পরিকল্পিত উদ্যোগগুলো বিবেচনায় নিয়ে তাকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের বিষয়ে সরকারকে দ্রুত ও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপও কামনা করেন তারা।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমদাদুল হক বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু এখনো আমাদের দাবির বিষয়ে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তাই বাধ্য হয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে এসে আমাদের দাবি তুলে ধরতে হচ্ছে। আমরা চাই, সরকার দ্রুত বিষয়টি বিবেচনা করে চুয়েটের চলমান সংকটের সমাধান করবে এবং স্যারকে পুনর্বহাল করবে।”

প্রসঙ্গত, ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে ওই দিন থেকেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

এর পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু হয়। আন্দোলনের ১৪তম দিনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এ সময়ে শিক্ষার্থীরা লাল কার্ড প্রদর্শন, মশাল মিছিল, মুখোশ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। তবে উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে এখনো কোনো সমাধান না হওয়ায় চুয়েটে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

//ডিবিটেক/ইবাদ হোসেন/এসএমই/এমএসআই//