স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চীনা রাষ্ট্রদূতের বৈঠক এবং আবাসন প্রকল্প প্রস্তাব

অবকাঠামো ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চীনের প্রযুক্তি বিনিয়োগ

  • বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, দাশেরকান্দি প্ল্যান্ট পাইপলাইন সম্প্রসারণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চীনের সহযোগিতা
  • কড়াইল ও মহাখালী বস্তি আধুনিকায়নে ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকৌশল আবাসন প্রস্তাব
  • আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চুক্তি স্বাক্ষর করতে আগামী সেপ্টেম্বরে চীন সফরের উদ্যোগ

অবকাঠামো ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চীনের প্রযুক্তি বিনিয়োগ
২৭ আগষ্ট, ২০২৬ ১১:৪৫  

দেশের অবকাঠামো প্রকৌশল, বন্দর ব্যবস্থাপনা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন খাতে চীনের যৌথ সহযোগিতা আরও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে তাঁর দফতরে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে রাজধানী ঢাকার সমন্বিত বর্জ্য নিষ্কাশন, পয়ঃনিষ্কাশন আধুনিকায়ন, টেকসই আবাসন, জাতীয় শিক্ষা কারিকুলামে চীনা ভাষা অন্তর্ভুক্তি, দাশেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) পূর্ণমাত্রায় কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় পাইপলাইন নেটওয়ার্ক প্রকৌশল সম্প্রসারণ এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, রাজধানীর কড়াইল, গুলশান ও মহাখালী বস্তির উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চীনের কাছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার একটি বৃহৎ বিনিয়োগ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নে চীনা প্রতিনিধিদল প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে।

সাক্ষাতের শুরুতে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, "চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার। পানি সরবরাহ প্রকৌশল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নগর উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি খাতে চীনের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও টেকসই করবে।"

চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং চীন অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে আগ্রহী।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উল্লেখ করেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি খাতে চীনের কারিগরি সহযোগিতা কার্যকর সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে তাঁর চীন সফরের সময় এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহীদুল হাসান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মনিরুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কারিগরি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
//ডিবিটেক/এইচএমসিএল/ইএমএস/এমআইএসটি//