ইউজিসি ও ইউএন উইমেনের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সমঝোতা স্মারক

বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি রোধে ডিজিটাল তদারকি জোরদার

  • ১৬ শতাংশ তরুণী প্রযুক্তিভিত্তিক সহিংসতার শিকার হওয়ায় ক্যাম্পাসে ডিজিটাল নজরদারি ও সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ
  • হাইকোর্টের নির্দেশনায় গঠিত কমিটিগুলোর কার্যকারিতা নিশ্চিতে জাতীয় পর্যায়ের তদারকি কমিটি গঠনের উদ্যোগ
  • পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু

বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি রোধে ডিজিটাল তদারকি জোরদার
২৭ আগষ্ট, ২০২৬ ১৪:৩৮  

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন হয়রানি ও প্রযুক্তিভিত্তিক লিঙ্গীয় সহিংসতা প্রতিরোধে কমিটিগুলোর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সমন্বিত তদারকি কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। ২৭ আগস্ট, ২০২৬ বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে ইউজিসি ভবনে কর্মক্ষেত্র, জনপরিসর ও উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রকল্পের আওতায় ইউজিসি ও ইউএন উইমেনের মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের জাতীয় জরিপের প্রযুক্তিগত তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে জানানো হয়, দেশে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণীদের মধ্যে ১৬ শতাংশই প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শুধু কমিটি গঠন করাই যথেষ্ট নয়; কমিটিকে অর্পিত দায়িত্ব পালনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সকল অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দ্রুত তদন্ত করে নিষ্পত্তি করতে হবে। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি হলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।" তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিযোগ গ্রহণ, অনলাইন ও অফলাইন রেফারেল ব্যবস্থা এবং প্রতিকারমূলক কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ইউজিসির সমন্বয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের ডেপুটি হেড বেইবা জেরিনা বলেন, উচ্চশিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে নারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য নিরাপদ ও প্রযুক্তিবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

সমঝোতার আওতায় প্রথম পর্যায়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অটোমেটেড কমপ্লেইন্ট ট্র্যাকিং ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। এ কার্যক্রমে ইউএন উইমেন ও আইন ও সালিশ কেন্দ্র যৌথভাবে কাজ করবে।

ইউজিসির পক্ষে সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম এবং ইউএন উইমেনের পক্ষে বাংলাদেশ প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক ড. সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়া, শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম, বেরোবি উপাচার্য মো. শওকত আলী, এআইইউবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম, ডিআইইউ উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আর. কবির, টাস্ক টিমের আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক মেহেরুন নেছা তাসলিমা খাতুন, ফারহীন হাসান, নাজিয়া ফারহানা, অধ্যাপক ড. শরীফা সুলতানা এবং ইউজিসি পরিচালক জেসমিন পারভীন।
//ডিবিটেক/আইএইচইউপি/ইএমএস/ এমআইএসটি//