আইইবিতে বায়ো-বেসড ও কম-কার্বন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ বিশেষজ্ঞদের 

টেকসই ভবন নির্মাণে কার্বন নিঃসরণ কমানোর তাগিদ

  • টেকসই ভবন নির্মাণে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সামগ্রীর উৎপাদন ও পরিবহন থেকে সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণও কমানো প্রয়োজন
  • আইইবির সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা বায়ো-বেসড ও কম-কার্বন নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বৃদ্ধি এবং লাইফ সাইকেল অ্যাসেসমেন্টের তাগিদ দেন
  • বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের বিপুল অংশ সিমেন্ট শিল্প থেকে তৈরি হওয়ায় প্রচলিত নির্মাণব্যবস্থা নতুন করে ভাবার সময় এসেছে

টেকসই ভবন নির্মাণে কার্বন নিঃসরণ কমানোর তাগিদ
১৩ আগষ্ট, ২০২৬ ২৩:২৮  
১৪ আগষ্ট, ২০২৬ ০৯:৩৪  

ভবন নির্মাণে শুধু শক্তি সাশ্রয়ী নকশা করলেই চলবে না, বরং নির্মাণসামগ্রী উৎপাদন, পরিবহন ও ব্যবহারের পুরো জীবনচক্রে কতটা কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে, তাও হিসাবের আওতায় আনতে হবে। ভবিষ্যতের টেকসই ও জলবায়ুবান্ধব নির্মাণব্যবস্থায় কম-কার্বন ও জৈবভিত্তিক (বায়ো-বেসড) নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন প্রকৌশল ও স্থাপত্য বিশেষজ্ঞরা।

১৩ আগস্ট, বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) সদর দপ্তরের শহীদ প্রকৌশলী ভবনের কাউন্সিল হলে 'ইঞ্জিনিয়ারিং লো-কার্বন অ্যান্ড বায়ো-বেসড বিল্ডিংস: ফ্রম ম্যাটেরিয়াল ক্যারেক্টারাইজেশন অ্যান্ড এলসিএ টু ইপিডি অ্যান্ড বিল্ডিং পারফরম্যান্স' শীর্ষক সেমিনারে এমন অভিমত ব্যক্ত করেন তারা। আইইবির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আইইবির ভাইস-প্রেসিডেন্ট (একাডেমিক ও আন্তর্জাতিক) প্রকৌশলী খান মনজুর মোরশেদ সভাপতিত্ব করেন।

সভাপতির বক্তব্যে খান মনজুর মোরশেদ বলেন, "গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন মানুষের জীবনকে সহজ করেছে। তবে কোনো প্রযুক্তি বা আবিষ্কারের সুফল নির্ভর করে সেটি কী উদ্দেশ্যে এবং কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর।" তিনি ডিনামাইট এবং তথ্যপ্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাবের উদাহরণ টেনে প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের আহ্বান জানান।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন আইইবির সম্মানী সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা ওয়াসার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা خان। তিনি বলেন, "পুরকৌশলের ভবিষ্যৎ চর্চায় নির্মাণসামগ্রী ও ম্যাটেরিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। একটি অবকাঠামো কতটা নিরাপদ, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব হবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করে সঠিক নির্মাণসামগ্রী নির্বাচন এবং সেই উপকরণের প্রকৌশলগত বৈশিষ্ট্য বোঝার ওপর।" তিনি উপকূলীয় এলাকার আবহাওয়া বিশ্লেষণের তাগিদ দেন।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে বিএইচটিইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী তানভীর মঞ্জুর বলেন, "বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের প্রায় ৭ থেকে ৮ শতাংশের সঙ্গে সিমেন্ট শিল্পের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তাই ভবিষ্যতের কম-কার্বন ভবন নির্মাণে শুধু ভবন ব্যবহারের সময় বিদ্যুৎ খরচ কমানোর বিষয়টি দেখলে হবে না। নির্মাণসামগ্রী উৎপাদন ও সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট এমবডিড কার্বন নিঃসরণও হিসাবের মধ্যে আনতে হবে।"

সেমিনারে যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েলশ স্কুল অব আর্কিটেকচারের সহযোগী অধ্যাপক ড. এশরার লতিফ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, "ভবনের কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতে হলে নকশার শুরু থেকেই নির্মাণসামগ্রী নির্বাচন, নির্মাণপদ্ধতি এবং ভবনের শক্তি ব্যবস্থাপনা বিবেচনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে লাইফ সাইকেল অ্যাসেসমেন্ট (LCA) ও এনভায়রনমেন্টাল প্রোডাক্ট ডিক্লারেশন (EPD) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।"

আইইবির পুরকৌশল বিভাগের সম্পাদক প্রকৌশলী নেসার উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোছা. ফেরদৌস বেগম, আইইবির সম্মানী সহকারী সাধারণ সম্পাদক (প্রশাসন ও অর্থ) প্রকৌশলী মুহাম্মদ আহসানুল রাসেলসহ কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সদস্য ও বিভিন্ন দপ্তরের প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।
//ডিবিটেক/ এসআইএস/এমআইএস//