প্রযুক্তিতে প্রথম নৌযান শুমারি শুরু ২০ আগস্টে

  • ট্যাবলেটে সিএপিআই পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ
  • ২ লাখ ৪৪ হাজার নৌযান শনাক্ত

প্রযুক্তিতে প্রথম নৌযান শুমারি শুরু ২০ আগস্টে
১৩ আগষ্ট, ২০২৬ ০০:২১  
১৪ আগষ্ট, ২০২৬ ০৭:৪৫  

দেশের নদী ও নৌপথকে নিরাপদ, আধুনিক ও সুসংহত করতে প্রথমবারের মতো প্রযুক্তিনির্ভর ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’ শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও নৌপরিবহন অধিদপ্তর। আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট মূল তথ্য সংগ্রহে ৩ হাজার ৪৬৯ জন গণনাকারী ট্যাবলেটের মাধ্যমে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করবেন। পুরো কার্যক্রমে কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পারসোনাল ইন্টারভিউয়িং (সিএপিআই) পদ্ধতি এবং সমন্বিত শুমারি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে।

শুমারির জন্য নৌমন্ত্রণালয় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য সংগ্রহ ও আইটি অবকাঠামো প্রণয়ন করেছে। এ অবকাঠামোর আওতায় ওয়েবভিত্তিক সমন্বিত শুমারি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা বা ইন্টিগ্রেটেড সেনসাস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিএমএস) ব্যবহার করে গণনাকারী ও সমন্বয়কারীদের মাঠ কার্যক্রম, তথ্য সমন্বয় এবং প্রশাসনিক তদারকি পরিচালিত হবে।

বিবিএস সদর দপ্তরে স্থাপিত নেটওয়ার্ক অপারেশনস সেন্টার থেকে মাঠপর্যায়ের অগ্রগতি ও তথ্যের গুণগত মান রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। তথ্য সংগ্রহের সময় কোনো প্রযুক্তিগত জটিলতা দেখা দিলে কেন্দ্রীয় আইটি সাপোর্ট টিম দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করবে।

রাজধানীর পরিসংখ্যান ভবন অডিটোরিয়ামে ১১ আগস্ট, মঙ্গলবার বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সমন্বয়কারীদের নিয়ে শুরু হওয়া প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে শুমারির আইটি আর্কিটেকচার, সিএপিআইভিত্তিক আধুনিক তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি এবং রিয়েল-টাইম মনিটরিং কাঠামো তুলে ধরেন ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা মোঃ আরিফ হোসেন।

কর্মশালার উদ্বোধনীতে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী মোঃ রাজিব আহসান বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই তথ্যভাণ্ডার ভবিষ্যতে দেশের নৌপরিবহন খাতের নীতি নির্ধারণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও টেকসই উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মোঃ ফিরোজ সরকার প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে প্রয়োগের প্রত্যাশা জানান। তিনি নির্ভুল, নির্ভরযোগ্য ও ব্যবহারযোগ্য নৌযান পরিসংখ্যান তৈরিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মোঃ শফিউল বারী, এনডি, ওএসপি, এনডিসি, পিএসসি, বিএন বলেন, নদীবন্দর, ঘাট, কারখানা, ডকইয়ার্ড, নৌযান মালিকদের অবস্থান এবং প্রত্যন্ত জলাঞ্চলে নৌযান শনাক্ত ও তথ্য সংগ্রহে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন হবে।

এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন, নৌযান মালিক, চালক, নাবিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ ও সহযোগিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। প্রয়োজনে নৌপরিবহন অধিদপ্তর সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বলেও জানান।

বিবিএস মহাপরিচালক মোঃ শামীমুল হক প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশ্নপত্রের প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক প্রয়োগ, নৌযান শনাক্তকরণ, তথ্য যাচাই, প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য সংগ্রহ ও তদারকি পদ্ধতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

তিনি দায়িত্ব পালনে সততা, নিরপেক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠা বজায় রাখার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নৌযান মালিক, চালক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সৌজন্যপূর্ণ ও পেশাদার আচরণের নির্দেশনা দেন।

নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া বলেন, দুই প্রতিষ্ঠানের পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে শুমারিটি সফলভাবে সম্পন্ন হবে এবং দেশের নৌপরিবহন খাতের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্যভাণ্ডার গড়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানের ডাটাবেইজ তৈরির লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও বিবিএসের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌপরিবহন খাতের সঠিক পরিসংখ্যানের ঘাটতি দূর করে খাতটিকে আধুনিক ও নিরাপদ করতে প্রথমবারের মতো পরিচালিত এই শুমারি একটি মৌলিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে জানানো হয়।

শুমারির প্রস্তুতি হিসেবে ৪ থেকে ১৭ মে লিস্টিং ও ম্যাপিং অপারেশন, ৯ থেকে ১৪ জুলাই জোনাল অপারেশন এবং মূল শুমারির আগে প্রস্তুতি যাচাইয়ের জন্য ৩ ও ৪ আগস্ট পাইলট অপারেশন পরিচালনা করা হয়। এসব কার্যক্রমে গণনা এলাকা গঠন, গণনাকারী নিয়োগ ও মানচিত্র প্রণয়নসহ বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে ৪ থেকে ১৭ মে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক লিস্টিং অপারেশনে মোট ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮০৮টি ইঞ্জিনচালিত নৌযান শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৭টি ঘাটভিত্তিক এবং ৭০ হাজার ৭৬১টি খানাভিত্তিক নৌযান। এসব নৌযানকে মৎস্য শিকারি বোট, যাত্রীবাহী লঞ্চ, কার্গো, বালিবাহী নৌযান, ড্রেজার, স্পিডবোটসহ ২৫টি পৃথক শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে।
//ডিবিটেক/কেএবি/এমএসইউ//