পিক্সেল ১১ সিরিজসহ কী কী পণ্য উন্মোচন করলো গুগল?
গুগল আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেছে তাদের বহুল প্রতীক্ষিত পিক্সেল ১১ সিরিজের স্মার্টফোন, যার মধ্যে রয়েছে পিক্সেল ১১, পিক্সেল ১১ প্রো, পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল এবং ভাজযোগ্য মডেল পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড।
এই নতুন ফোনগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে গুগলের শক্তিশালী নতুন টেনসর জি৬ প্রসেসর, যা পূর্ববর্তী টেনসর জি৫-এর তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি শক্তি সাশ্রয়ী, ২৫ শতাংশ দ্রুত ব্রাউজিং এবং ১৫ শতাংশ দ্রুত অ্যাপ লোডিং সুবিধা নিশ্চিত করে। এর ফলে ডিভাইসের ভেতরে থাকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা 'জেমিনি ন্যানো' আরও কম সময়ে এবং কার্যকরভাবে লাইভ অনুবাদসহ অন্যান্য জটিল কাজ সম্পাদন করতে পারে। এছাড়া ক্যামেরা মডিউলটির ডিজাইনেও এসেছে পরিবর্তন, যেখানে ধাতব ফ্রেমের পাশাপাশি মসৃণ কাঁচের আবরণ ব্যবহার করা হয়েছে।
নতুন এই ফোনগুলোতে ক্যামেরা প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। পিক্সেল ১১ সিরিজের ক্যামেরা প্রসেসিং আগের চেয়ে অনেক দ্রুততর হওয়ায় অন্ধকার বা কম আলোতে ছবি তোলার ক্ষমতা প্রায় সাড়ে চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যাকে গুগল 'ইনস্ট্যান্ট নাইট সাইট' নামে অভিহিত করছে। একই সাথে প্রিমিয়াম মডেলগুলোতে ১২০ গুণ পর্যন্ত প্রো জুম সুবিধা রয়েছে।
পিক্সেল ১১ মডেলে রয়েছে ৬.৩ ইঞ্চির ওএলইডি ডিসপ্লে, যার সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ৩,০০০ নিটস। প্রিমিয়াম প্রো মডেলগুলোতে উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে ৩,৬০০ নিটস পর্যন্ত করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ স্ক্র্যাচ প্রতিরোধী। সাধারণ পিক্সেল ১১ মডেলে ৪৮ মেগাপিক্সেল প্রধান সেন্সর, ১৩ মেগাপিক্সেল আল্ট্রাওয়াইড এবং ১০.৮ মেগাপিক্সেল টেলিফোটো ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছে।
পিক্সেল ১১ প্রো এবং প্রো ফোল্ড মডেলে যুক্ত করা হয়েছে একটি সম্পূর্ণ নতুন ফিচার, যার নাম 'হাইলাইট'। এটি ফোনের পেছনের ক্যামেরার পাশে থাকা একটি বিশেষ চক্রাকার এলইডি আলো, যা ফোনটি উপুড় করে রাখা থাকলেও পছন্দের যোগাযোগের মানুষ থেকে কল এলে বা জেমিনি এআই কাজ করার সময়ে আলো জ্বেলে সংকেত দেয়।
ক্যামেরা অ্যাপে যুক্ত হয়েছে 'ম্যাজিক ক্যাপচার', যা এক ক্লিকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও ও ছবি তুলে তা স্পষ্ট করে দেয়। এছাড়া 'ক্যামেরা লুকস' ফিচারের মাধ্যমে পেশাদার শৈল্পিক ছোঁয়া যুক্ত করে ছবি তোলা সম্ভব। শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য গুগলের নতুন একটি অনন্য ফিচার আনা হয়েছে, যা ক্যামেরার সামনে আমেরিকান সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ বা সাংকেতিক ভাষায় কথা বললে তা সরাসরি লেখায় রূপান্তর করে দিতে পারে।
ব্যাটারি ও চার্জিং পারফরম্যান্সেও এবার বড় উন্নতি এসেছে। অ্যাডাপ্টিভ ব্যাটারি প্রযুক্তির কারণে নতুন ফোনগুলো ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় সচল থাকতে পারে, যদিও ভাজযোগ্য প্রো ফোল্ড সংস্করণে ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যাবে প্রায় ২৪ ঘণ্টা। পিক্সেলস্ন্যাপ ম্যাগনেটিক চার্জিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের গতিও ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
এবার উপাদানের খরচ বৃদ্ধির কারণে প্রতিটি ফোনের দাম ১০০ ডলার করে বাড়ানো হয়েছে। পিক্সেল ১১-এর প্রারম্ভিক মূল্য ধরা হয়েছে ৮৯৯ ডলার, পিক্সেল ১১ প্রো ১,০৯৯ ডলার, প্রো এক্সএল ১,২৯৯ ডলার এবং প্রো ফোল্ডের দাম শুরু হয়েছে ১,৮৯৯ ডলার থেকে। তবে সাধারণ ও প্রো মডেলের সর্বনিম্ন মেমোরি সংস্করণ ১২৮ জিবির বদলে বাড়িয়ে ২৫৬ জিবি করা হয়েছে। সকল ফোনই নতুন অ্যান্ড্রয়েড ১৭ অপারেটিং সিস্টেমে পরিচালিত হবে এবং এতে আইপি৬৮ স্তরের পানি ও ধুলা প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে।
স্মার্টফোনের পাশাপাশি গুগল উন্মোচন করেছে তাদের নতুন স্মার্টওয়াচ 'পিক্সেল ওয়াচ ৫' এবং অ্যাপলের এয়ারট্যাগের প্রতিদ্বন্দ্বী ট্র্যাকিং ডিভাইস 'পিক্সেল ট্যাগ'। কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ডব্লিউ৫ জেন ২ চিপসেট সমৃদ্ধ পিক্সেল ওয়াচ ৫ আগের সংস্করণের তুলনায় ২০ শতাংশ দ্রুত কাজ করতে সক্ষম এবং এতে দীর্ঘমেয়াদে রক্তচাপের ধরণ ও ইনসুলিন প্রতিরোধের সূচক পর্যবেক্ষণের মতো উন্নত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। ৪১ মিলিমিটার সংস্করণের এই ঘড়িটির ব্যাটারি স্থায়িত্ব ৩০ ঘণ্টা এবং দাম ৩৯৯ ডলার থেকে শুরু।
অন্যদিকে, বস্তুর অবস্থান সহজে চিহ্নিত করার জন্য ৩০ ডলার মূল্যের পিক্সেল ট্যাগ নামক একটি আল্ট্রা-ওয়াইডব্যান্ড ও ব্লুটুথ সুবিধা সংবলিত ট্র্যাকিং ডিভাইস আনা হয়েছে, যা পানির নিচে নিরাপদ থাকার পাশাপাশি সিআর২০৩২ মুদ্রাসদৃশ ব্যাটারিতে পুরো এক বছর সচল থাকবে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: এনগ্যাজেট





