ওভার ভোল্টেজে ৩০০ বাড়ির ইলেকট্রনিকস পুড়ে ছাই
ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগের পর ভয়াবহ ওভার ভোল্টেজে রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার তিন মহল্লার প্রায় ৩০০ বাড়ির টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসি, বৈদ্যুতিক বাল্বসহ বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিকস পণ্য পুড়ে গেছে। সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে বাখরাবাজ এলাকায় অকেজো ট্রান্সফরমার মেরামতের পর নতুন একটি বহনযোগ্য ট্রান্সফরমার দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করার সঙ্গে সঙ্গে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
১২ আগস্ট, বুধবার স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাখরাবাজ এলাকার মসজিদের সামনে থাকা একটি ট্রান্সফরমার সোমবার রাতে অকেজো হয়ে গেলে বাখরাবাজ মোল্লাপাড়া, বাখরাবাজ মধ্যপাড়া ও বাখরাবাজ স্কুলপাড়া মহল্লায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয়রা নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির কাটাখালী কার্যালয়ে ফোন করেন।
পরে নেসকোর কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রান্সফরমারটি অকেজো দেখতে পান। রাত ২টার দিকে তারা একটি বহনযোগ্য ট্রান্সফরমার নিয়ে গিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করেন। সংযোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মসজিদের সামনে থাকা একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব পুড়ে যায়। বিষয়টি দেখে নেসকোর কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে সংযোগ বন্ধ করে দেন। তবে এর আগেই তিন মহল্লার বহু বাড়ির ইলেকট্রনিকস পণ্য পুড়ে যায়।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নেসকোর কর্মীদের আটকে রাখেন। কেউ কেউ তাদের মারধরও করেন। পরে পুলিশ গিয়ে নেসকোর কর্মীদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী জেলা কমিটির আহ্বায়ক ও স্থানীয় বাসিন্দা নাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘তিনটি মহল্লার প্রায় সব বাড়ির ইলেকট্রনিক পণ্য পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন অভিযোগ জানাতে আমার বাড়িতেই আসছেন। ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন। অন্তত ৩০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’
নেসকোর রাজশাহীর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৫-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় তিনটি লাইনের মাধ্যমে। কোনও কারণে দুটি লাইন এক হয়ে গেলে আনলিমিটেড বিদ্যুৎ যাবে। এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই ক্ষেত্রে এমনই হয়েছে। এটা কোনও গ্রাহকের বাড়িতেও হতে পারে, মূল লাইনেও হতে পারে। কোথায় হয়েছে, সেটা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সানা বলেন, তার বাড়ির বৈদ্যুতিক বাতির পাশাপাশি টেলিভিশন, ফ্রিজ ও এসিও পুড়ে গেছে। তার অভিযোগ, নেসকোর কর্মীরা ওভার ভোল্টেজ চালু করায় পোর্টেবল ট্রান্সফরমার চালুর সঙ্গে সঙ্গে এসব ইলেকট্রনিকস পণ্য পুড়ে যায়। তিনি ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
এদিকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাটাখালী পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম বলেন, ওই এলাকায় প্রায় ৩০০ বাড়ি রয়েছে। কোন বাড়িতে কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে, তার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুতের ভালো ও খারাপ দুটি দিকই আছে। আমরা সব সময় ভালো কাজের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করি। এখন দুর্ঘটনা ঘটে গেলে তো আর এতগুলো বাড়ির ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব নয়।’
নেসকোর সার্কেল-১-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম চৌধুরী এবং প্রধান প্রকৌশলী (অপারেশন) জিয়াউল ইসলাম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ থেকে তাদের কিছু জানানো হয়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন তারা।
//ডিবিটেক/বিএনও/এমএসইউ//





