সবুজ শিল্পে প্রযুক্তিনির্ভরতার আহ্বান
- পরিবেশ সুরক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব
- পানি পুনর্ব্যবহার ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগের তাগিদ
- পরিবেশবান্ধব উৎপাদনে অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান
তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পে পরিবেশগত অনুবর্তিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
১১ আগস্ট, মঙ্গলবার পরিবেশ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পখাতের পরিবেশগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আয়োজিত পর্যালোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সভায় শিল্পের পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার, পানি পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল ইটিপি থেকে নির্গত পানির রংয়ের মাত্রা, জিরো লিকুইড ডিসচার্জ (জেডএলডি) বাস্তবায়ন, পানি পুনর্ব্যবহার এবং রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেল—থ্রি-আর নীতি। পাশাপাশি পরিবেশগত নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা, মিরর টেস্টিং ব্যবস্থা, পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন, স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন, জেনারেটরের শব্দ নিয়ন্ত্রণ, বায়ুদূষণ ব্যবস্থাপনা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, পানির দক্ষ ব্যবহার ও রিজেক্ট ওয়াটার ব্যবস্থাপনাও আলোচনায় আসে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান লিখিত প্রস্তাবে এসব বিষয়সহ শিল্পখাতের পরিবেশগত অনুবর্তিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কারিগরি ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। একই সঙ্গে শিল্পের উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আরও পরিবেশবান্ধব, সম্পদ-সাশ্রয়ী ও টেকসই করতে পরিবেশগত আইন ও বিধিমালার যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্য অক্ষুণ্ন রেখে শিল্পের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় যৌক্তিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি বলেন, পরিবেশ সুরক্ষার সঙ্গে শিল্পের টেকসই উন্নয়নের সমন্বয় জরুরি। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি গ্রহণ, পানি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের দক্ষ ব্যবহার এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বাস্তবায়নযোগ্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ধাপে ধাপে তা অর্জনের আহ্বান জানান।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের পরিবেশগত অনুবর্তিতা আরও শক্তিশালী করতে মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, শিল্প সংগঠন ও অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে আলোচনা ও কারিগরি সমন্বয় অব্যাহত থাকবে।
ইটিপিতে কার্যকর রাসায়নিকের ব্যবহার ও স্লাজ ব্যবস্থাপনায় ইনসিনারেশন প্ল্যান্টের বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া হবে। সভায় উত্থাপিত অন্যান্য বিষয়ও সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা, প্রযুক্তিগত সম্ভাব্যতা এবং পরিবেশ সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। এ সময় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং বিজিএমইএর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
//ডিবিটেক/টিএনএন/এমএসআই//





