চীনা ভাষা প্রশিক্ষণ, ভাষা-প্রযুক্তি ও যৌথ সনদায়নের নতুন দিগন্ত

দেশে প্রথমবারের মতো ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ’ অকুপেশনের টাস্ক অ্যানালাইসিস ও অকুপেশনাল ম্যাপিং করল এনএসডিএ

  • তথ্য-প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার এবং চীন-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও কূটনৈতিক চাহিদা মেটাতে ভাষা-প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিশেষ প্রশিক্ষণ কারিকুলাম প্রণয়ন
  • বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক (BNQF)-এর লেভেল ২ ও ৩ এবং চীনা HSK ১ ও ২-এর সমমান কাঠামোর পরিকল্পনা।

দেশে প্রথমবারের মতো ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ’ অকুপেশনের টাস্ক অ্যানালাইসিস ও অকুপেশনাল ম্যাপিং করল এনএসডিএ
৯ আগষ্ট, ২০২৬ ২০:২৩  

ঢাকা, ৯ আগস্ট, রবিবার: দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শিল্পখাত এবং উদীয়মান শ্রমবাজারের চাহিদার সাথে সংগতি রেখে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (NSDA) দেশে প্রথমবারের মতো ‘চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ’ অকুপেশনের টাস্ক অ্যানালাইসিস ও অকুপেশনাল ম্যাপিং সম্পন্ন করেছে। চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এবং প্রযুক্তিগত যোগাযোগের পটভূমিতে চীনা ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন আধুনিক দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে এই দূরদর্শী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চীনা ভাষাকে কেবল সাধারণ ভাষাগত জ্ঞান হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে, এটিকে তথ্য-প্রযুক্তি ও পেশাগত দক্ষতার একটি স্বতন্ত্র 'অকুপেশন' হিসেবে কাঠামোবদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে এনএসডিএ। এ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মশালায় আধুনিক ভাষা-প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে স্মার্ট প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম প্রণয়ন এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতার স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। এনএসডিএ নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানে কোর্স শুরুর অংশ হিসেবে আগামী ১৬-১৯ আগস্ট চার দিনব্যাপী ডেভেলপমেন্ট কর্মশালা এবং ২৫ আগস্ট ভ্যালিডেশন কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।

কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনএসডিএ-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সরকারের সচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী। তিনি বলেন, “বদলে যাওয়া শ্রমবাজার ও আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির যুগে আমাদের তরুণদের বহুমুখী ও সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতার সাথে পরিচিত করতে হবে। চীনা ভাষা শেখার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিগত যোগাযোগে দক্ষ জনবল তৈরি করতে পারলে বিশ্ববাজারে নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে। টাস্ক অ্যানালাইসিস ও অকুপেশনাল ম্যাপিংয়ের ফলে প্রশিক্ষণ ও অ্যাসেসমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ চাহিদাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানের হবে।”

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, যৌথ সনদায়নের (Joint Certification) সুবিধার্থে চীনের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সাথে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক (BNQF)-এর লেভেল ২ ও ৩ এবং চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্ট (HSK)-এর লেভেল ১ ও ২-এর সমমান ধরে নতুন কারিকুলাম তৈরি হচ্ছে।

কর্মশালায় উপস্থিত বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের মধ্যে ছিলেন উই স্পিক ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাবের জেনারেল সেক্রেটারি লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) শাহাদাৎ হোসেন, ইদাই ইলু চাইনিজ ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল ড. মো. সাদি, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটির পরিচালক মো. মহিউদ্দিন তাহের, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ড. রফিকুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজের পরিচালক ড. মো. রাকিবুল হক, চেংদু ইউনিভার্সিটির হাই লেভেল ফরেন এক্সপার্ট ড. মো. আলতাব হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চাইনিজ ডিরেক্টর ড. ইয়াং হুই, বাউবি-র সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, সাস্ট-এর মো. রোজিবুল ইসলাম, ঢাবি আইএমএল-এর জান্নাতুন নাহার ও আগা মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের শিক্ষক নিলু আক্তার ও মা ঝিয়াং, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির মো. শরিফুল হাসান এবং ইউনিভার্সিটি অব ইলেকট্রনিক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না-এর শিক্ষক ইন শিয়াওহুয়া।
//ডিবিটেক/এমএএফ/এসএমআই//