বিলম্বজনিত পাওনা ৩৩,১৪৭ কোটি টাকা দাবিতে আন্দোলনরতদের দাবি, আদালতে বিচারাধীন রয়েছে জানায় জিপি

গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের ৫% বকেয়া দাবিতে বিডার সামনে স্মারকলিপি ও মানববন্ধন

  • এনবিআরের পর এবার বাংলাদেশ বিনিয়োগ বিকাশ কর্তৃপক্ষের (বিডা) কার্যালয়ের সামনে গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের প্রতিবাদ সভা
  • বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী ২০১০ সাল থেকে অর্জিত ৫% মুনাফা ও বিলম্বজনিত পাওনা বাবদ প্রায় ৩৩,১৪৭ কোটি টাকা আদায়ের দাবি
  • বিষয়টিকে বিচারাধীন উল্লেখ করে আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে গ্রামীণফোন কতৃপক্ষ

গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের ৫% বকেয়া দাবিতে বিডার সামনে স্মারকলিপি ও মানববন্ধন
৯ আগষ্ট, ২০২৬ ১৯:০৪  

৯ আগস্ট, রবিবার: গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইনগত ৫ শতাংশ মুনাফা এবং বিলম্বজনিত পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ বিকাশ কর্তৃপক্ষের (বিডা/BIDA) আগারগাঁও কার্যালয়ের সামনে এক শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে জিপি হাউসের সামনে বিক্ষোভের পর গত জুলাই মাসে বিটিআরসি ও চলতি আগস্টের ৩ তারিখে এনবিআরের পর আজ ৯ আগস্ট বিডার কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

‘গ্রামীণফোন ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রতিনিধি খালিদ রহমান, ফজলুল করিম, আবু শাহাদাত সোয়েবসহ অন্যান্য সাবেক কর্মীবৃন্দ।

গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মী আদিবা জেরিন চৌধুরী বলেন, “গ্রামীণফোন একটি বহুজাতিক বহুজাতিক কোম্পানি। একটি বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিডার দায়িত্ব কেবল বিনিয়োগ সহজীকরণে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়, বরং তারা শ্রম আইন ও রাষ্ট্রের নীতিমালা যথাযথভাবে প্রতিপালন করছে কি না, তাও নজরদারি করা প্রয়োজন। চার হাজার সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইনগত পাওনা নিষ্পত্তির বিষয়টি সুরাহা না করে প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের বাইরে মুনাফা স্থানান্তরের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।”

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০১০ সালে সরকার মোবাইল অপারেটরদের 'ইন্ডাস্ট্রিয়াল আন্ডারটেকিং' হিসেবে ঘোষণার পর শ্রমিকরা ৫% মুনাফাভাজনের (WPPF) অধিকার লাভ করেন। তৎকালীন সময়ে গ্রামীণফোন সরকারের গেজেটকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করে পাওনা আটকে রাখে। ২০২৩ সালের মার্চে রিট প্রত্যাহার করা হলেও এতদিন অর্থ আটকে রাখার ফলে শ্রম আইন অনুযায়ী গঠিত বিলম্বজনিত সুদের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৩,১৪৭ কোটি টাকা।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে জিপি হাউসের সামনে কাফনের কাপড় পরাসহ শান্তিপূর্ণ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন সত্ত্বেও কোনো ইতিবাচক সংলাপ আয়োজন করেনি গ্রামীণফোন। উল্টো গত ২৭ ও ৩০ জুন দিবাগত গভীর রাতে পুলিশ দিয়ে সাটজন সাবেক কর্মীকে গ্রেপ্তার ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের মাধ্যমে আন্দোলন দমনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ সময় তারা দ্রুত বকেয়া পরিশোধ, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং ডাটার মেয়াদ বৃদ্ধি ও কলরেট কমানোর দাবি জানান।

গ্রামীণফোনের বক্তব্য: অন্যদিকে গ্রামীণফোনের তরফ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানটি দেশের আইন ও বিচারিক ব্যবস্থার প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। গ্রামীণফোন জানায়, “সমাবেশে অংশগ্রহণকারী সাবেক কর্মীদের বেশিরভাগই বহু বছর আগে প্রতিষ্ঠান ছেড়েছেন এবং আইন অনুযায়ী তাদের সকল প্রাপ্য গ্রহণ করেছেন।”

ডব্লিউপিপিএফ (WPPF) প্রসঙ্গে জিপি’র ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বিষয়টি যখন হাইকোর্টে বিচারাধীন ছিল, তখন কর্মীদের নির্বাচিত প্রতিনিধি দল 'জিপি পিপলস কাউন্সিল'-এর সর্বসম্মত প্রস্তাবনার ভিত্তিতে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সমঝোতা হয় এবং তারা রিট তুলে নেয়। কিন্তু সম্প্রতি কিছু প্রাক্তন কর্মী চুক্তি ভঙ্গ করে অতিরিক্ত সুদের দাবি তুলে নতুন করে মামলা দায়ের করায় একটি বিচারবিভাগীয় ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়েছে। বিষয়টির চূড়ান্ত আইনি সমাধানের লক্ষ্যে গ্রামীণফোন মহামান্য হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নতুন একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছে, তাই পুরো বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
//ডিবিটেক/এমআইএস/এসএমই//