২০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ ও এআই ব্যবহারের সুবাদে এসেছে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি
গত ৪ বছরে রবির কর-পূর্ব আয় বেড়েছে ৫০%, গ্রাহকের দুই-তৃতীয়াংশই এখন তাদের ঘরে
- গত চার বছরে ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে দেশের মোট টেলিযোগাযোগ গ্রাহকের দুই-তৃতীয়াংশই এখন রবির গ্রাহক।
- এ সময় রবি আজিয়াটার কর-পূর্ব আয় বেড়েছে ৫০ শতাংশ এবং ডেটা খাত থেকে আয় বেড়েছে ৪৪ শতাংশ।
- রবির মোট গ্রাহকের ৭৯ শতাংশ মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, যার মধ্যে ৯১ শতাংশই ৪জি নেটওয়ার্কে সংযুক্ত।
- বর্তমানে রবির প্রায় ৪৪ শতাংশ গ্রাহক ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমে রিচার্জ ও অন্যান্য সেবা গ্রহণ করছেন।
- ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (কিউ-২) ফলাফল অনুযায়ী টেলিকম বাজ
গত চার বছরে ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে দেশের মোট গ্রাহকের দুই-তৃতীয়াংশই এখন রবির ঘরে। ফলে এই সময়ে অপারেটরটির কর-পূর্ব আয় বেড়েছে ৫০ শতাংশ। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ডেটা খাত থেকে আয় বাড়িয়েছে ৪৪ শতাংশ। বর্তমানে রবির মোট গ্রাহকের মধ্যে ৭৯ শতাংশ মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেন এবং তাদের ৯১ শতাংশই ৪জি প্রযুক্তিতে সংযুক্ত। এজন্য ১.৫ শতাংশ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের ফলে বিনিয়োগ বেড়েছে ৩.৪ শতাংশ এবং বিনিয়োগকারী পর্যায়েও লভ্যাংশ বেড়েছে ১.৮ শতাংশ।
৪ আগস্ট (মঙ্গলবার) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে রবির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) রুহুল আমিন একটি পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। কোম্পানি সচিব শাহেদ আলমের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন রবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জিয়াত সাতারা।
সংবাদ সম্মেলনে রবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জিয়াত সাতারা বলেন, “নেটওয়ার্কে এআই-এর (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ব্যবহার ও ধারাবাহিক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন এবং কর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলেই প্রতিষ্ঠানটি শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। রবির মূল লক্ষ্য সবসময় গ্রাহকের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করা এবং সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিনিয়ত বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন অব্যাহত রেখেছে।”
তিনি জানান, গত পাঁচ বছরে রবি দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে অন্যতম দ্রুতগতিতে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করেছে। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে নেটওয়ার্কে বড় বিনিয়োগ করেছে এবং আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে সেবার মান আরও উন্নত করেছে। বর্তমানে রবির নেটওয়ার্কের প্রায় ৭৫ শতাংশ আধুনিকায়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের কার্যক্রমও দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ তা সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রবির সিইও আরও বলেন, “২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের (কিউ-২) ফলাফল অনুযায়ী, রবি বাজারে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। সামগ্রিক টেলিযোগাযোগ বাজারের প্রবৃদ্ধি সীমিত থাকলেও রবি তুলনামূলক ভালো অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এর পেছনে উন্নত নেটওয়ার্ক, গ্রাহকসেবা এবং কর্মীদের নিরলস পরিশ্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”
তিনি তুলে ধরেন যে, বর্তমানে রবির প্রায় ৪৪ শতাংশ গ্রাহক ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমে রিচার্জ, ডেটা প্যাক কেনা এবং বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করছেন। ডিজিটাল সেবারের ব্যবহার বাড়তে থাকায় গ্রাহকদের অভিজ্ঞতাও আরও সহজ ও উন্নত হচ্ছে। রবির সিইও জোর দিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের ডিজিটাল রূপান্তর ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার অংশীদার হিসেবে ভবিষ্যতেও রবি অব্যাহতভাবে বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং গ্রাহকসেবার মান বৃদ্ধিতে কাজ করবে। বাংলাদেশের মানুষের প্রতি গভীর আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, দেশের উন্নয়নযাত্রার সঙ্গে থেকে সফলতার গল্পের অন্যতম অংশ হতে চায় রবি।
//ডিবিটেক/আইএইচ/এমআই//





