আড়িয়াল খাঁ নদীর তলদেশে তিতাসের পাইপলাইনে ছিদ্র: ৪৫ দিন ধরে গ্যাস লিক

অবৈধ সংযোগের চেষ্টা নাকি কারিগরি ত্রুটি—প্রশ্ন তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও শাস্তির দাবি স্থানীয়দের

  • কটিয়াদী উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদীতীরবর্তী কাজীর চর এলাকায় উচ্চচাপের পাইপলাইন লিক হয়ে বিরামহীন গ্যাস অপচয়
  • স্থানীয় চুন কারখানার জন্য অবৈধ গ্যাস সংযোগের চেষ্টা থেকে এই ছিদ্রের সৃষ্টি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর
  • নদী ও তীব্র স্রোতের প্রতিকূলতায় মেরামতকাজ ব্যাহত হলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত লিকেজ বন্ধে কাজ করছে তিতাস

অবৈধ সংযোগের চেষ্টা নাকি কারিগরি ত্রুটি—প্রশ্ন তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও শাস্তির দাবি স্থানীয়দের
২ আগষ্ট, ২০২৬ ০০:৪৬  

সারাদেশে যখন তীব্র গ্যাস সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত ও বাসাবাড়িতে ভোগান্তি চরমে, ঠিক তখনই কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসুয়া ইউনিয়নের আড়িয়াল খাঁ নদীর তলদেশ থেকে টানা প্রায় ৪৫ দিন ধরে উড়ছে লাখ লাখ ঘনফুট গ্যাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই লিকের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে জনমনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, নদীতীরে অবস্থিত একটি চুন কারখানায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিতাসের মূল পাইপলাইনে ছিদ্র করতে গিয়েই এই বিপত্তি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের চরম অপচয় ঘটেছে।

অবৈধ সংযোগের অভিযোগ ও কারখানা বন্ধের গুঞ্জন
স্থানীয় বাসিন্দা ও ছাত্রনেতাদের অভিযোগ, গত জুনের শুরুতে স্থানীয় ইউপি সদস্য মিলন মিয়ার সহযোগিতায় নদীতীরে একটি চুন কারখানা গড়ে তোলেন সুনামগঞ্জের ছাতকের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন তালুকদার। অভিযোগ রয়েছে, রাতের আঁধারে তিতাসের উচ্চচাপের পাইপলাইন থেকে গ্যাস চুরি করার চেষ্টা চালায় একদল লোক। এ সময় নদীর তলদেশের পাইপলাইনে ছিদ্র তৈরি হলে বুদবুদ ও তীব্র গন্ধের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরবর্তীতে কারখানা বন্ধ করে অভিযুক্তরা এলাকা ছাড়েন।

তবে ইউপি সদস্য মিলন মিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আমাকে ফাঁಸাতে এই মিথ্যা রটাচ্ছে। উক্ত চুন কারখানার দলিলেও আমার কোনো স্বাক্ষর নেই।" মসূয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন।

কিশোরগঞ্জে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ও তিতাসের প্রতিক্রিয়া
কিশোরগঞ্জ তিতাস গ্যাস জোনাল বিক্রয় অফিসের ব্যবস্থাপক মো. মোশাররফ হোসেন জানান, কিশোরগঞ্জ জেলার পুরো গ্যাস সরবরাহ এই সঞ্চালন লাইনের ওপর নির্ভরশীল। নিরাপত্তার স্বার্থে কিশোরগঞ্জের প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ও পাইপলাইনের চাপ কমানো হয়েছে।

তিতাস গ্যাসের ভালুকা ডিভিশনের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. শামীম হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "এটি মনোহরদী থেকে কিশোরগঞ্জ ডিআরএস পর্যন্ত বিস্তৃত একটি উচ্চচাপের সঞ্চালন লাইন, যা থেকে সরাসরি গ্রাহক সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। নদী তলদেশে প্রবল স্রোত ও মাটি ধসে যাওয়ায় কাজ কিছুটা ব্যাহত হলেও দক্ষ প্রকৌশলীরা লিকেজ বন্ধে দিনরাত কাজ করছেন।"

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, "উপজেলা প্রশাসন ও তিতাস কর্তৃপক্ষ স্থানটি পরিদর্শন করেছে। লিকেজ পুরোপুরি মেরামত শেষে যদি প্রমাণ পাওয়া যায় যে কেউ অবৈধ সংযোগের চেষ্টা করেছে, তবে তিতাস আইনগত ব্যবস্থা বা মামলা দায়ের করবে।"

নদীর তলদেশে বাঁশ ও লোহার পাত দিয়ে বাঁধ তৈরি করে তিতাসের মেরামতকাজ চলমান থাকলেও প্রায় দেড় মাস ধরে লাখ লাখ ঘনফুট গ্যাস অপচয়ের পরও সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা বা অপরাধী চিহ্নিত না হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।
//ডিবিটেক/ এসআই/ এমআই//