পশুরোগ নির্ণয় ও ল্যাবরেটরি উন্নয়নে শ্রীলঙ্কায় সার্ক সম্মেলন

সার্ক ল্যাবরেটরি ডিরেক্টরস ফোরামের সভা

  • শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডিতে সার্ক ল্যাবরেটরি ডিরেক্টরস ফোরাম (এসএলডিএফ)-এর ষষ্ঠ সভা অনুষ্ঠিত
  • পশুরোগ নির্ণয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানদণ্ডের সামঞ্জস্যতা ও যৌথ প্রযুক্তিগত গবেষণায় জোর
  • দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্যনিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আঞ্চলিক ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্ক গঠনের সিদ্ধান্ত

সার্ক ল্যাবরেটরি ডিরেক্টরস ফোরামের সভা
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১৪:২২  

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে পশুরোগ নজরদারি, রোগ নির্ণয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক ভেটেরিনারি ল্যাবরেটরি ব্যবস্থার সুসংহত উন্নয়নে কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সার্ক ল্যাবরেটরি ডিরেক্টরস ফোরাম’ (SLDF)-এর ষষ্ঠ সাধারণ সভা। আজ শুক্রবার সার্ক সচিবালয় এবং শ্রীলঙ্কার প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর ভেটেরিনারি ল্যাবরেটরির পরিচালক, শীর্ষ বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি কর্মকর্তারা অংশ নেন।

উল্লেখ্য, ফোরামের সর্বশেষ ও পঞ্চম সভাটি ২০১৮ সালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত এই ষষ্ঠ আসরে উদীয়মান ও সীমান্ত অতিক্রমকারী পশুরোগ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং জৈবনিরাপত্তা জোরদারের বিষয়গুলো বিশেষ প্রাধান্য পায়।

টেকসই প্রাণিসম্পদ ও সীমান্ত অতিক্রমকারী রোগ প্রতিরোধ
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শ্রীলঙ্কার প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক ড. বি.এস.এস. পেরেরা স্বাগত বক্তব্যে বলেন, "জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, খাদ্যনিরাপত্তা ও প্রাণিসম্পদ খাতের টেকসই রূপান্তরে উচ্চপ্রযুক্তিসম্পন্ন ভেটেরিনারি ল্যাবরেটরি ব্যবস্থা অপরিহার্য।" তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর যৌথ গবেষণার ওপর বিশেষ জোর দেন।

সার্ক কৃষি কেন্দ্রের (SAC) সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (লাইভস্টক) ড. মো. ইউনূস আলী রোগ নির্ণয়ের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, উন্নত গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক তানভীর আহমেদ তরফদার বলেন, অভিন্ন প্রাণিসম্পদ সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্কিং ও ডেটা শেয়ারিং সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

ফোরামের চেয়ারম্যান এবং নেপালের প্রতিনিধি ড. বরুণ শর্মার উদ্বোধনী ঘোষণার মাধ্যমে সভার মূল কাজ শুরু হয়। সভায় জাতীয় ল্যাবরেটরিগুলোর মধ্যে রোগ নির্ণয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, জৈবঝুঁকি ব্যবস্থাপনা (Biorisk Management) এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।

দিনব্যাপী এ সভায় পূর্ববর্তী সুপারিশসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আঞ্চলিক কারিগরি উপদেষ্টা গ্রুপের (ল্যাব-ট্যাগ) খসড়া কার্যপরিধি এবং সদস্য দেশগুলোর ল্যাবরেটরি সক্ষমতা বিষয়ে দেশভিত্তিক আধুনিক উপস্থাপনা প্রদর্শিত হয়। খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) এবং বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (WOAH)-এর সাথে কৌশলগত অংশীদারত্ব বৃদ্ধি এবং একটি নতুন ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে সম্মেলনটি সমাপ্ত হয়।
//ডিবিটেক/ এবিএম/ এসএমই//