কৃষি উদ্ভাবন ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আহ্বান

এগ্রো-টেকে বাড়বে কর্মসংস্থান: ইউজিসি

  • এগ্রো-টেক শিল্পে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা
  • কৃষি গবেষণা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে জোর
  • কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে খাস জমিকে অগ্রাধিকার

এগ্রো-টেকে বাড়বে কর্মসংস্থান: ইউজিসি
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৫৯  

কৃষিপ্রযুক্তিভিত্তিক (এগ্রো-টেক) শিল্পের সম্প্রসারণ ঘটাতে পারলে দেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।

তিনি বলেন, কৃষি গবেষণা, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন এবং কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কুড়িগ্রামের মতো কৃষিসমৃদ্ধ জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।

২৭ জুলাই, সোমবার কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কৃষির ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিতে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে জোর
অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, কৃষি ও কৃষিপ্রযুক্তি খাতে সরকারের বিনিয়োগের সুফল শিক্ষার্থী, গবেষক এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। কৃষিভিত্তিক শিল্পের পাশাপাশি কৃষি পর্যটনের সম্ভাবনাও কাজে লাগিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

তার মতে, গবেষণাগার থেকে উদ্ভাবনকে মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দিয়ে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মূল্য সংযোজন এবং প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি উদ্যোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব।

স্থায়ী ক্যাম্পাসে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আহ্বান
পরে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য ভূমি নির্বাচন বিষয়ে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে আয়োজিত সমন্বয় সভায় ইউজিসি সদস্য বলেন, জমি নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং কৃষিজমি সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, তিন ফসলি ও এক ফসলি কৃষিজমি অধিগ্রহণ না করে খাস জমিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সহজ যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান।

সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব
ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে জেলার সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি জানান, চলতি বছরের মধ্যেই কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য উপযুক্ত জমি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ইউজিসি কাজ করছে।

সমন্বয় সভার আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থানগুলো পরিদর্শন করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং স্থানীয় উচ্চশিক্ষা-সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
//ডিবিটেক/ আইএইচইউ/ এমএসআই//