ডিজিটাল ঋণ ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় বাজেটকে স্বাগত বেজিয়ার
বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস ইনভেস্টরস অ্যাসোসিয়েশন (বেজিয়া) বলেছে, ডিজিটাল ই-লোন, ২৪ ঘণ্টায় কোম্পানি নিবন্ধন, প্লাগ অ্যান্ড প্লে শিল্পসুবিধা এবং বিনিয়োগবান্ধব সংস্কারের কারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
ডিজিটাল আর্থিক সেবা সম্প্রসারণ, দ্রুত কোম্পানি নিবন্ধন, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা প্রদান এবং বিনিয়োগবান্ধব সংস্কারের কারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছে বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস ইনভেস্টরস অ্যাসোসিয়েশন (বেজিয়া)।
সংগঠনটির নির্বাহী কমিটির সভা গত ১৬ জুন অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করে বেজিয়ার নেতারা বলেন, বাজেটটি সামগ্রিকভাবে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গঠনে সহায়ক।
বেজিয়ার মতে, বাজেটে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, ইজ অব ডুয়িং বিজনেস, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটি বিশেষভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করে। বাজেটে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল ই-লোন চালুর ঘোষণা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ এবং নতুন ব্যবসায়ীদের জন্য অর্থায়নের সুযোগ বাড়াবে বলে মনে করছে বেজিয়া। পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণ উদ্যোক্তাদের সময় ও ব্যয় কমাবে।
বেজিয়ার মতে, নতুন কোম্পানি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিবন্ধনের সুযোগ, মুনাফা দেশে ফেরত নেওয়ার সুবিধা, শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের জন্য কাঁচামাল আমদানিতে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধা এবং স্টার্টআপের জন্য ৯ বছরের ভ্যাট অব্যাহতি বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করবে।
সভায় বলা হয়, ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ শিল্প অবকাঠামো চালুর উদ্যোগ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্পাঞ্চলে দ্রুত কারখানা স্থাপন এবং উৎপাদন শুরু করতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি সম্প্রসারণ এবং দ্বৈত কর পরিহার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করবে।
বেজিয়া আরও উল্লেখ করে, বৈদ্যুতিক যান (ইভি), কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে কর, সম্পূরক শুল্ক ও নিয়ন্ত্রক শুল্ক হ্রাস দেশের প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তবে সংগঠনটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিনিয়োগকারীদের জন্য পূর্বের ১০ বছরের ধাপভিত্তিক কর অবকাশ পুনর্বহাল, মূলধনী যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো নির্মাণসামগ্রী আমদানিতে শূন্য শুল্ক সুবিধা পুনঃপ্রবর্তন এবং পরিচালনার প্রথম ৫ থেকে ৭ বছর টার্নওভারভিত্তিক ন্যূনতম কর থেকে অব্যাহতির দাবি জানিয়েছে।
সভায় অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের নির্ভরযোগ্য সময়সূচি প্রকাশ এবং শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সহায়তা জোরদারের আহ্বানও জানানো হয়।
শেষে বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠান এবং নীতিনির্ধারকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সভা সমাপ্ত হয়





