চার দিনে লোকসানি ইনটেকের শেয়ার দর বেড়েছে ২৬%!
শেষ পাঁচ বছরে চার বার লোকাসান গুণেও মাত্র চার দিনে পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত প্রযুক্তি কোম্পানি ইনটেক লিমিটেডের শেয়ার দর বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ। সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানির ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা নিট লোকসান থাকলেও ৫ মার্চ দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে যায়।
সম্পদের তুলনায় দায় বেশি থাকলও কিভাবে এই শেয়ার দর বাড়ছে-এমন প্রশ্ন উঠেছে নেট দুনিয়ায়। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মোস্তাকুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগের দুই দিন আগে থেকেই ইনটেকের শেয়ারদর বাড়তে শুরু করে। গভর্নর নিয়োগের পরদিন শেয়ারদর প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে যায়। ২২ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি মাত্র চার দিনে শেয়ারদর ২৯ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৩৭ টাকা ৪০ পয়সায় পৌঁছায়।
সূত্র মতে, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস ৫ মার্চ, বৃহস্পতিবার ডিএসইতে সর্বোচ্চ ইনটেক লিমিটেডের শেয়ারদর আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১ টাকা ৬ পয়সা বা ৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে কোম্পানিটি দর বৃদ্ধি তালিকায় প্রথম স্থান দখল করে নেয়।
হঠাৎ শেয়ারে দাম বাড়ার কারণ এবং ইনটেক লিমিটেডে গভর্নরের ভূমিকা বিষয়ক প্রশ্ন এড়িয়ে যাচ্ছেন কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ জায়েদুল ইসলাম।
তবে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দর হঠাৎ বাড়ার পেছনে দুইটি গুজব বাজারে কাজ করছে বলে জানাগেছে।
প্রথম গুজব হলো, কোম্পানিটি গভর্নরের স্বার্থ সংক্রান্ত এবং তার বড় অংশের মালিকানা আছে। তবে বাস্তবে গভর্নরের মালিকানার অংশ মাত্র ০.৫০ শতাংশ। তার শেয়ার বিএসইসির নিয়ম অনুযায়ী বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয় গুজব হলো, ইনটেকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদে নেতৃত্ব দিচ্ছে চট্টগ্রামের বিতর্কিত এস আলম গ্রুপ, যাদের সঙ্গে গভর্নরের সম্পর্ক আছে। কিন্তু বাস্তবে গভর্নর বড় অংশের শেয়ার আগেই ছাড়েন, আর এস আলম গ্রুপ ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডারদের থেকে শেয়ার কিনে মালিক হয়েছেন। আর অন্য উদ্যোক্তা-পরিচালকরা নতুন করে কোম্পানির মালিকানা বাড়াতে উৎসাহী না হওয়ায় গভর্নর দীর্ঘ বছরে তার ধারণকৃত শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানাও বিক্রি করতে পারেননি নতুন গভর্নর।
সূত্রমতে, ২০০২ সালে ইনটেক যখন শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়, তখন বর্তমান গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ছিলেন কোম্পানিটির উদ্যোক্তা ও চেয়ারম্যান। সে সময় তার কাছে কোম্পানির মোট শেয়ারের ৬৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ ছিল। বর্তমানে তার শেয়ারের পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ। কোম্পানিটিতে গভর্নরের কোনো ভূমিকা নেই এবং দীর্ঘ বছর ধরে তিনি পরিচালনা পর্ষদে ছিলেন না।
অর্থনৈতিকভাবে ইনটেক অনেক দুর্বল। ২০২০-২১ অর্থবছরে ৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। পরের বছরগুলোতেও লোকসান চলেছে। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ সালে নিট লোকসান হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। পুঞ্জীভূত লোকসান ৩২ কোটি ৭২ লাখ টাকা। কোম্পানির সম্পদের পরিমাণ ঋণাত্মক ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
ডিবিটেক/এনএইচটি/এমইউএম







