ঘরে বসেই টিকিট, কিউআর স্ক্যানে প্রবেশ—ডিজিটাল সেবায় নতুন ধাপ

মাইগভ ই-টিকিটিং সেবায় যুক্ত হলো ময়নামতি জাদুঘর ও শালবন বিহার

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও এটুআই-এর উদ্যোগে ময়নামতি জাদুঘর ও শালবন বিহারে চালু হয়েছে মাইগভ ই-টিকিটিং। এতে টিকিট সংগ্রহ, প্রবেশ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় আসছে আরও স্বচ্ছতা ও গতি।

মাইগভ ই-টিকিটিং সেবায় যুক্ত হলো ময়নামতি জাদুঘর ও শালবন বিহার
১২ জুন, ২০২৬ ২০:২৩  

কুমিল্লার ঐতিহাসিক প্রত্নস্থল ময়নামতি জাদুঘর ও শালবন বিহারে চালু হলো ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবস্থা। দর্শনার্থীদের জন্য সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতাধীন এই দুই স্থাপনাকে যুক্ত করা হয়েছে এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)-এর মাইগভ ই-টিকিটিং প্ল্যাটফর্মে।

১২ জুন, শুক্রবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে সেবাটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এখন থেকে আগ্রহীরা অনলাইনে পেমেন্ট সম্পন্ন করে আগেভাগেই টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন এবং ভিজিটের সময় কিউআর কোড স্ক্যান করে সরাসরি প্রবেশ করতে পারবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সাবিনা আলম। অনুষ্ঠানে তিনি নিজ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করেন এবং কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে প্রবেশ করে সেবাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এটুআই-এর যুগ্ম প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. রশিদুল মান্নাফ কবীর, মাইগভ টিম লিড (উপসচিব) ফজলুল জাহিদ পাভেল, আঞ্চলিক পরিচালক ড. মোছাঃ নাহিদ সুলতানা, কাস্টোডিয়ান মো. শাহীন আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবিনা আলম বলেন, এর আগে লালবাগ দুর্গ, ষাট গম্বুজ প্রত্নস্থল ও বাগেরহাট জাদুঘর, জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান, বলধা গার্ডেন এবং রোজ গার্ডেনে ই-টিকিটিং চালুর পর এবার যুক্ত হলো ময়নামতি জাদুঘর ও শালবন বিহার। ফলে দর্শনার্থীদের আর লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে হবে না।

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে কাগজের ব্যবহার কমবে, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ হবে এবং তথ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়বে।

এটুআই-এর যুগ্ম প্রকল্প পরিচালক মো. রশিদুল মান্নাফ কবীর জানান, ২০২৫ সালের ৩০ জুন মাইগভ ই-টিকিটিং চালুর পর গত ১১ মাসে পাঁচটি সাইটে ৬ লাখ ৩ হাজার দর্শনার্থী সেবা নিয়েছেন। এ থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ ৯৭ হাজার ৮৩০ টাকা।

তিনি বলেন, কুমিল্লার ঐতিহাসিক ও পর্যটন সম্ভাবনাময় এই দুই স্থাপনায় ই-টিকিটিং চালুর ফলে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা আরও দ্রুত ও ঝামেলাহীনভাবে সেবা নিতে পারবেন। পর্যায়ক্রমে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতাধীন আরও ৩০টি ঐতিহাসিক ও পর্যটন স্থাপনাকে এই প্ল্যাটফর্মে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

মাইগভ টিম লিড ফজলুল জাহিদ পাভেল জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর, শশীলজ জাদুঘর, পাহাড়পুর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর, তাজহাট জমিদার বাড়ি, শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি, পানাম নগর ও ডুলাহাজারা সাফারি পার্কেও এই সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল সরকারি সেবার সম্প্রসারণে মাইগভ ই-টিকিটিং এখন শুধু সুবিধা নয়, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও তথ্যনির্ভর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

//ডিবিটেক/এমআরআই/ইকে//