সাইবার সচেতনতায় সিআইডি–বিকাশের যৌথ উদ্যোগ

সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলার কৌশল জানল ভিকারুননিসার প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সিআইডি ও বিকাশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সাইবার সচেতনতা কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহার, তথ্য সুরক্ষা এবং অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধ বিষয়ে সচেতন করা হয়।

সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলার কৌশল জানল  ভিকারুননিসার প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী
১২ জুন, ২০২৬ ০১:০৬  

প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের জীবনের বড় অংশজুড়ে রয়েছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। তবে প্রযুক্তির এই বিস্তারের সঙ্গে সমানতালে বাড়ছে সাইবার প্রতারণা, পরিচয় চুরি, তথ্য ফাঁস, অনলাইন হয়রানি ও ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো ঝুঁকি। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সাইবার অ্যাওয়ারনেস এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম’।

বৃহস্পতিবার আয়োজিত এ কর্মসূচির আয়োজন করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) এবং বিকাশ লিমিটেড। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সানা শামিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিসির বিশেষ পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ এবং বিকাশের ইভিপি ও হেড অব এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স এ কে এম মনিরুল করিম। প্রধান বক্তা ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাহিদুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিআইজি সানা শামিনুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রজন্ম একই সঙ্গে বাস্তব ও ডিজিটাল—দুই জগতেই বসবাস করছে। প্রযুক্তির প্রসার যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে, তেমনি নতুন ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রও তৈরি করেছে। ফলে প্রযুক্তির ব্যবহার জানার পাশাপাশি এর নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি শিক্ষার্থীদের শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, ওটিপি ও পিন নম্বর গোপন রাখা, অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

সানা শামিনুর রহমান বলেন, “সাইবার অপরাধীরা মানুষের অসতর্কতাকেই সবচেয়ে বড় সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে। সচেতনতাই এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।”

তিনি আরও বলেন, যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান বক্তা অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা, যোগাযোগ, বিনোদন এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার বড় অংশ এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মনির্ভর। ফলে সাইবার নিরাপত্তা আর শুধু প্রযুক্তিবিদদের বিষয় নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক জীবনদক্ষতার অংশ হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, একটি ওটিপি শেয়ার করা, সন্দেহজনক লিংকে প্রবেশ করা কিংবা অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ একজন মানুষকে বড় ধরনের আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। তাই সচেতনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দেবে। প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি তাদের পরিবার ও সমাজে সচেতনতার দূত হিসেবেও ভূমিকা রাখতে হবে।

অন্যদিকে বিকাশের ইভিপি ও হেড অব এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স এ কে এম মনিরুল করিম বলেন, মোবাইল আর্থিক সেবার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণার ঝুঁকিও বেড়েছে। তবে সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে ব্যবহারকারীদের সতর্কতাও আগের তুলনায় বেড়েছে। অনুষ্ঠানে মোবাইল আর্থিক সেবাকেন্দ্রিক প্রতারণার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে দৃশ্যচিত্রও উপস্থাপন করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম এ ধরনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞান পরিবার ও সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের পথে প্রযুক্তির বিস্তারের পাশাপাশি দায়িত্বশীল ও নিরাপদ ডিজিটাল নাগরিক তৈরি করাও যে সমান গুরুত্বপূর্ণ—এই আয়োজন সেই বার্তাই সামনে নিয়ে এসেছে।

//ডিবিটেক/ডিপিও/ইকে//