প্রত্যেকে নাগরিকের থাকবে স্বতন্ত্র ডিজিটাল আইডি ও ডিজিটাল ওয়ালেট

টেলিকম সেবায় বিগত সময়ের কালেক্টিভ ফেইলরকে অপারচুনিটি হিসেবে দেখছি

টেলিকম সেবায় বিগত সময়ের কালেক্টিভ ফেইলরকে অপারচুনিটি হিসেবে দেখছি
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:৫৫  
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:০৩  

স্মার্টফোনের দাম আড়াই হাজার টাকার মধ্যে নামিয়ে আনতে এবং মনিটরের ওপর কর ভার কমানো এবং টেলিকমের কেপিআই প্রতিষ্ঠানকে জ্বালানি প্রাপ্যতায় অগ্রাধিকার দেয়ার কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি ও টেলিকম উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। 

তিনি বলেছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নাগরিকের পরিচয় ও আর্থিক লেনদেন একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আসবে। এতে করে সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণ হবে আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর। আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে এ কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

২৫ এপ্রিল, শনিবার রাজধানীর হলিউডে ইনে অনুষ্ঠিত নতুন টেলিকম পলিসি এবং উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা নিয়ে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। 

প্রধানমন্ত্রীর ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা বলেন, 'টেলিকম খাতে কোনো রাজনীতি নয়, এটি দেশের জন্য ভবিষ্যত শিল্প খাত। আমরা চাই দেশের ৯০ শতাংশ জনগণকে ১০০এমবি ব্রডব্যন্ডন কানেক্টিভিটি এবং ৫জি মোবাইল নেটওয়ার্কে আনতে কাজ করছে সরকার। দেশের প্রত্যেকে নাগরিকের থাকবে স্বতন্ত্র ডিজিটাল আইডি ও ডিজিটাল ওয়ালেট। ভোক্তার কাছ থেকে কর নেয়ার বিষয়ে ভারসাম্য রাখতেও কর কাঠামো পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে।'

তিনি আরও বলেন, ১০০ টাকার সেবা কিনে ৩৮ টাকা কর নেয়া যৌক্তিক নয়। ইন্টার কানেক্টেড ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। একসঙ্গে আইএসপিদের ইন্টার কানেক্টিভিটি দেয়ার কথা দেন তিনি।

মোবাইল সাবসক্রাইবার হিসেবে বাংলাদে তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও সেবায় ১৪১তম অবস্থান নিয়ে আক্ষেপ করে উপদেষ্টা বলেন,  মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড সেবার বর্তমান চিত্র একটি সমষ্টিগত ব্যর্থতা। তবে একইসঙ্গে এটি একটি বড় সুযোগও তৈরি করেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ ব্রডব্যান্ড সেবায় পিছিয়ে আছে, যা স্বীকার করে সামনে এগোতে হবে। তাছাড়া সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে দেশের মানুষ বা ভোক্তা। দ্বিতীয়ত, ব্যবসা ও অর্থনীতির বিকাশ এবং তৃতীয়ত বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানো। আগামীতে এফডিআই জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে, যা প্রায় ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধির সমান।

তিনি আরও বলেন, টেলেকম সেবায় বিগত সময়ের কালেক্টিভ ফেইলরকে অপরচুনিটি হিসেবে দেখছে সরকার। তাই সবার আগে বাংলাদেশ স্লোগানে আমরা গ্রাহকের স্বার্থ দেখি। তবে ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এরজন্য সাইবার সুরক্ষায় আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। শিক্ষাক্রমে এআই অন্তর্ভূক্তি করতে কাজ করছি।

টেলিকম খাতের কর কাঠামো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরো ভ্যালু চেইন—ডিভাইস, উৎপাদন, সেবা ও রাজস্ব ভাগাভাগি—সবকিছু পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। শিল্পটি আর্থিকভাবে টেকসই না হলে ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই ভারসাম্যপূর্ণ কর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

দেশের টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দ্রুত বদলে যাওয়া প্রযুক্তির সঙ্গে ব্যবসায়ীদের নিজেদেরকে বদলে যাওয়ার আহ্বান জানান  বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী। তিনি বলেন, সবাই মিলে উইন উইন হয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে কোনো সমালোচনা না করার আহ্বান জানিয়ে  তিনি বলেন, আমরা অবকাঠামো উন্নয়নে বিদেশি বিনিয়োগে সুযোগ রেখেছি। এনএসপি'রা সাবসিডিয়ারির মাধ্যমে এই কাজ করতে পারবেন। সিএমএসপিদের বিষয়ে ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে। 

টেলিকম নীতিমালয় বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, আমরা উদ্ভাবক নই। ব্যবহার কারি। তাই বিদেশি কোম্পানিকে সুযোগ দিতে হয়। 

প্রযুক্তি ও প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তুলনা করে এমদাদ উল বারী বলেন, প্রবৃৃদ্ধি আসে ল্যাবরেটরি থেকে বিজ্ঞানের ব্যবহারে নতুন নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে। বিজ্ঞান ইনভেন্ট করে। ব্যবসায়িরা তা দিয়ে ইনোভেশন করে। তাই টিম টিম করে না জ্বলে; কোয়ন্টাম লিপ করতে হবে। পুরোনোকে আকড়ে না রেখে ভয়েস থেকে ডেটায় গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

এর আগে মোবাইল অপারেটরগুলোর আনলিমিটেড ওয়াইফাই সেবা নিয়ে আতঙ্কে প্রকাশ করেন কলামিস্ট ও ইউটিউবার সাংবাদিক মাসুদ কামাল। তিনি বলেন, সরকারের ওপর মাস্তানি করে বিদেশি অপারেটররা। সরকারের টেলিটককে সেবার জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। 

মাসুদ কামাল আরও বলেন, ইউটিউবে কন্টেন্ট দিয়ে আমার সংসার চলে। তাই আমি মোবাইল অপারেটরের সব সিম ব্যবহার করি। কিন্তু গ্রামে গিয়ে পাশের বাড়ি গিয়ে ব্রডব্যান্ড ব্যবহার করে কন্টেন্ট আপলোড করতে হয়। অথচ শহরে তাদের ফ্রি ওয়াইফাই সেবা রয়েছে।

এর আগে  ‘নতুন টেলিকম পলিসি : উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রযুক্তিবিদ সুমন আহমেদ সাবির।

টিআরএনবির সভাপতি সমীর কুমার দের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন টিআরএনবির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান রবিন। এসময় আলোচনায় আরও অংশ নেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি এম এ হাকিম, ফাইবার এট হোমের চেয়ারম্যান মইনুল হক সিদ্দিকী, মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (এমটব) মহাসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকারসহ অন্যান্যরা।

সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখছেন অ্যাসোসিয়েশন অব আইসিএক্স অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এআইওবি) সাধারণ সম্পাদক নূরুল আলম, টিআইওবি সদস্য সচিব দিদারুল ইসলাম, আইজিডব্লিউ অপারেটরস ফোরামের (IOF) চিফ অপারেটিং অফিসার (COO) মুশফিক মনজুর , এমটব মহাসচিব মোহাম্মদ জুলফিকার, আইআইজিডব্লিউ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ জুনায়েদ, আইএসপিএবি সভাপতি আমিনুল হাকিম এবং ফাইবার অ্যাট হোম চেয়ারম্যান মইনুল হক সিদ্দিকী।

ডিবিটেক/এসএ/এমইউআইএম