ঐতিহাসিক দামে স্পেকট্রাম মূল্যায়ন অচল: জিয়াদ সাতারা

  • ঐতিহাসিক দামে স্পেকট্রাম মূল্যায়ন না করার দাবি
  • ১৮০০ ও ২১০০ মেগাহার্টজে দাম বেশি বলে অভিযোগ
  • সাশ্রয়ী তরঙ্গে নেটওয়ার্ক বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান

ঐতিহাসিক দামে স্পেকট্রাম মূল্যায়ন অচল: জিয়াদ সাতারা
১৫ আগষ্ট, ২০২৬ ১৭:৪৯  

সময়ের সঙ্গে টেলিকম খাতের ব্যবসায়িক মডেল ও প্রযুক্তি বদলে যাওয়ায় স্পেকট্রাম বা তরঙ্গের মূল্য নির্ধারণে পুরোনো কিংবা ঐতিহাসিক মূল্যকে আর ভিত্তি হিসেবে নেওয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস বাংলাদেশ (এমটব) সভাপতি ও রবি আজিয়েটা লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জিয়াদ সাতারা।

টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। টিআরএনবি সভাপতি এস এম মাসুদুজ্জামান রবিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি ও টেলিকম উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. এমদাদ উল বারী।

জিয়াদ সাতারা বলেন, অতীতে যে প্রযুক্তিতে স্পেকট্রাম ব্যবহার করা হতো এবং বর্তমানে যে প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা হচ্ছে, তার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। ২জি যুগে ২০০ কিলোহার্টজ চ্যানেলে মূলত ভয়েস কল পরিচালনা করা যেত। কিন্তু বর্তমান প্রযুক্তিতে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গিগাবিট গতির সেবা দিতে অপারেটরদের ১০০ মেগাহার্টজ পর্যন্ত চওড়া চ্যানেলের প্রয়োজন হচ্ছে। ফলে পুরোনো সময়ের প্রতি মেগাহার্টজের মূল্য দিয়ে বর্তমান প্রযুক্তির স্পেকট্রামের মূল্য নির্ধারণ যৌক্তিক নয়।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বেঞ্চমার্ক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৮০০ ও ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে বাংলাদেশের স্পেকট্রামের দাম প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। এ অবস্থায় স্পেকট্রামের উচ্চ মূল্য টেলিকম অপারেটরদের বিনিয়োগ সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করছে।

বিদেশি বিনিয়োগকারী হিসেবে দেশের বাজেট ঘাটতি কমা এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেলিকম অপারেটরদেরও কাম্য উল্লেখ করে রবি সিইও বলেন, দুর্বল অর্থনীতিতে কোনো ব্যবসাই টেকসইভাবে সফল হতে পারে না। তাই স্পেকট্রামের দাম বাড়িয়ে সরকারের সাময়িক বাজেট ঘাটতি মোকাবিলার উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে ডিজিটাল অর্থনীতিকে কতটা শক্তিশালী করবে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

জিয়াদ সাতারা আশা প্রকাশ করেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি ও সরকার আধুনিক প্রযুক্তিগত এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দেশের সার্বিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে স্পেকট্রাম নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ও অংশীজনভিত্তিক সংস্কার আনবে।

এর আগে রবি’র চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার শাহেদ আলম সহনীয় ফ্লোর প্রাইজ এবং বিনিয়োগের টেকসই কাঠামোর ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, স্পেকট্রাম অর্জনের ব্যয় টেলিকম খাতের পরিচালন ও বিনিয়োগ সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করছে।

তার মতে, টেলিকম অবকাঠামোতে একজন অপারেটরকে সাধারণত মোট রাজস্বের প্রায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ বার্ষিক মূলধনী বিনিয়োগ (ক্যাপেক্স) করতে হয়। ফলে স্পেকট্রামের পেছনে অতিরিক্ত ব্যয় হলে নেটওয়ার্ক অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেবার মান বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়।

শাহেদ আলম বলেন, স্পেকট্রামের দাম যৌক্তিক ও সাশ্রয়ী হলে অপারেটরদের আর্থিক চাপ কমবে। এতে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ৪জি ও ৫জি সেবার মান উন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, স্পেকট্রাম কেনায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পরিবর্তে সেই অর্থ নেটওয়ার্ক অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগের সুযোগ থাকলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও টেলিকম খাতে বড় বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন। সাশ্রয়ী মূল্যে দ্রুত স্পেকট্রাম বরাদ্দ করা গেলে দেশের ডিজিটালাইজেশনের গতি বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

টেলিকম বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা যদি স্পেকট্রামকে কেবল এককালীন সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের মাধ্যম হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অবকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে, তাহলে গ্রাহক, অপারেটর ও দেশ—সব পক্ষই লাভবান হবে।

//ডিবিটেক/আইএইচ/এমআইএস//