রাজশাহী পলিটেকনিকে স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশনের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

রাজশাহী থেকে ঢাকার টিকিট পেলো ৪ পলিটেকনিকের ৬ প্রকল্প

রাজশাহী থেকে ঢাকার টিকিট পেলো ৪ পলিটেকনিকের ৬ প্রকল্প
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:২৬  
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:১৫  

রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে ১১ এপ্রিল, শনিবার অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় ‘স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’ এর আঞ্চলিক পর্ব। প্রতিযোগিতায় মোট ৮৪টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে রাজশাহী অঞ্চলের ২৮টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এর মধ্য থেকে নির্বাচিত সেরা ৬টি উদ্ভাবন আগামী ১৭ মে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় জাতীয় পর্বের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী ও পাবনা পলিটেকনিকে থেকে দুইটি করে প্রকল্প নির্বাচিত হয়েছে জাতীয় পর্বের জন্য।

জাতীয় পর্বের টিকিট পেয়েছে আইওটি ভিত্তিক রাজশাহী পলিটেকনিকের ইন্ডাস্ট্রি অটোমেশনের জন্য স্মার্ট বাজেট ফ্রেন্ডলি লজিক কন্ট্রোলার (পিএলসি) ও আইওটি নির্ভর হোম অটোমেশন প্রকল্প ;  চাপাইনবাবগঞ্জ পলিটেকরিকের শিক্ষার্থীদের স্মার্ট হিউম্যান হেলথ মনিটরিং সিস্টেম; পাবনা পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের স্মার্ট রেলওয়ে প্রকল্প ও মাল্টি ফাংশনাল রোবটিক কার এবং বগুড়া পলিটেকনিকের অটোমেটিক ফিশ ব্রিডিং প্রকল্প। 

তবে প্রতিযোগিতায় অল্প নম্বরের জন্য ছিটকে গেছে বগুড়া পলিটেকনিকের আইওটি ভিত্তিক স্কুল ব্যবাস্থাপনা সিস্টেম; চাপাইনবাবগঞ্জ পলিটেকরিকের শিক্ষার্থীদের হট অ্যান্ড কুল ওয়াটার ডিসপেন্সার প্রকল্প; সিরাজগঞ্জ পলিটেকেনিকের টিভেট রক্তসেবা ও ক্লিন এয়ার প্রকল্প। শেষ হাসি হাসতে পারেনি ইকো-ব্রিক, ভূমিকম্প সহনশীল ভবন ও হাইড্রোলিক ব্রিজের মতো ধারণাগুলো। 

এদিকে প্রতিযোগিতা উপলক্ষ্যে নগরিতে একটি একটি বর্ণাঢ্য রালি, কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বিষয়ক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় প্রকল্প প্রদর্শনীতে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং রাজশাহী বিভাগ ও জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পাশাপাশি এ অঞ্চলের কারিগরি, মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, শিল্পকারখানা, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও অভিভাবকরাও এতে যোগ দেন। 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন Accelerating and Strengthening Skills for Economic Transformation (ASSET) প্রকল্পের আয়োজনে দিনব্যাপী প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মোঃ দাউদ মিয়া

রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মোঃ আক্কাস আলী। 

অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো: রুহুল আমিন, রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো: আবু হানিফ। এছাড়া প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ASSET প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মো: মঞ্জুরুল ইসলাম এবং রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইন্সটাক্টর এস এম তাহমিদ সাদিক।  

অনুষ্ঠানের শুরুতেই উপস্থিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং কারিগরি শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও সম্প্রসারণে করণীয় সম্পর্কে জানতে চান শিক্ষামন্ত্রী  ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং লিখিতভাবে তাকে অবহিত করার জন্য আহ্বান জানান। 

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “কারিগরি শিক্ষা আজ আর বিকল্প কোনো ধারা নয়, এটি এখন আমাদের জাতীয় উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।” “দক্ষ জনশক্তি তৈরি ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়” উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, “যেভাবে জাপান, জার্মানী প্রভৃতি দেশ উন্নতি করেছে, আমাদেরকেও সেভাবে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের লক্ষ্য শুধু সনদ প্রদান নয়, বরং এমন দক্ষতা তৈরি করা, যা সরাসরি কর্মসংস্থানের সাথে যুক্ত এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষম।” 

স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশনের সাফল্য কামনা করে তিনি বলেন, “যুবসমাজকে দক্ষ, উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদে রূপান্তর করাই আমাদের সরকারের অগ্রাধিকার এবং কারিগরি শিক্ষা সেই রূপান্তরের প্রধান মাধ্যম। এ ক্ষেত্রে “স্কিলস কম্পিটিশন শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি আমাদের তরুণদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস তুলে ধরার একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম।” তিনি এ সময় নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কারিগরি শিক্ষা ও সৃজনশীলতার বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা পুন:ব্যক্ত করেন।

 এর আগে স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন-এর প্রাতিষ্ঠানিক পর্বটি  ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী ২১১টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩ হাজার২০৯টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। এভাবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেয়া প্রকল্পগুলোর মধ্য থেকে ৩টি করে প্রকল্প আঞ্চলিক পর্বের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য বাছাই করা হয়। আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা শেষে স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন-এর জাতীয় পর্বটি আগামী ২৭ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। ৮টি অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা থেকে নির্বাচিত মোট ৫০টি উদ্ভাবনী প্রকল্প এতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। চূড়ান্ত বা জাতীয় পর্বে বিজয়ী তিনটি উদ্ভাবনী প্রকল্পের উদ্ভাবকদের পুরস্কৃত করা হবে। 

ডিবিটেক/কেএস/এমইউআইএম