ভুয়া সনদে চিকিৎসার অভিযোগ

১৫ বছর ধরে বিশেষ ডিভাইসে রোগ নির্ণয়, জরিমানা ৫০ হাজার

  • চিকিৎসক হিসেবে বৈধ যোগ্যতার সনদ ছাড়াই প্রায় ১৫ বছর রোগী দেখার অভিযোগ
  • ল্যাপটপ ও বিশেষ ডিভাইসে রোগ নির্ণয়ের দাবি করতেন আলীমুল ইসলাম
  • ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, জব্দ চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কাগজপত্র

১৫ বছর ধরে বিশেষ ডিভাইসে রোগ নির্ণয়, জরিমানা ৫০ হাজার
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৫৭  

বরিশালের বাবুগঞ্জে ল্যাপটপ ও বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করে রোগ নির্ণয়ের দাবি এবং বৈধ চিকিৎসাগত যোগ্যতার সনদ ছাড়াই প্রায় ১৫ বছর ধরে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগে আলীমুল ইসলাম (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানের সময় তার ব্যবহৃত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জব্দ করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যাচাই-বাছাইয়ে তার দেখানো যোগ্যতার কাগজপত্র ভুয়া বলে শনাক্ত হয়েছে।

বাবুগঞ্জ উপজেলার কলেজ গেট এলাকার এনএমএস ফার্মেসিতে ১৮ অক্টোবর, রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।

রোগী সেজে চিকিৎসা নিতে গিয়ে সন্দেহ

জানা গেছে, চোখের সমস্যা ও মাথাব্যথার চিকিৎসা নিতে আলীমুল ইসলামের কাছে গিয়েছিলেন সালেহা বেগম। এক দালালের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, বাবুগঞ্জের কলেজ গেট এলাকায় এমন একজন চিকিৎসক রয়েছেন, যিনি বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা দেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তিনি তার কাছে চিকিৎসা নিতে যান। পরে চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখা ওই ব্যক্তির যোগ্যতা ও সনদপত্র নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে বলে জানতে পারেন।

বিভিন্ন এলাকায় রোগী দেখার অভিযোগ

প্রশাসন সূত্রের অভিযোগ, ল্যাপটপ ও বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করে রোগ নির্ণয়ের দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল সদর, উজিরপুর ও বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রোগী দেখতেন আলীমুল ইসলাম। বাবুগঞ্জের মাধবপাশা বাজার ও বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ গেট এলাকাতেও তিনি নিয়মিত রোগী দেখতেন।

তার ব্যবস্থাপত্রে নিজের নামের আগে ‘ডা.’ লিখতেন। সেখানে এমবিইএইচ (ভারত), ডিএমএফ (ঢাকা) এবং কলকাতার এনআরএস মেডিকেল কলেজে প্রশিক্ষণ নেওয়ার তথ্য উল্লেখ ছিল। পাশাপাশি মেডিসিন, চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জিজনিত রোগের চিকিৎসায় অভিজ্ঞ বলেও দাবি করতেন তিনি।

তবে এসব যোগ্যতার পক্ষে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি আলীমুল ইসলাম। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা তার দেখানো নথিপত্র যাচাই করে সেগুলো ভুয়া বলে শনাক্ত করেছেন।

প্রথমবার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা জানান, চিকিৎসক না হয়েও চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ পেয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। আলীমুল ইসলাম ব্যবস্থাপত্রে নিজের নামের আগে চিকিৎসক পরিচয় ব্যবহার করলেও বৈধ যোগ্যতার কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

তিনি আরও জানান, আলীমুল ইসলাম প্রায় ১৫ বছর ধরে এভাবে রোগী দেখার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে প্রথমবারের মতো ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো কার্যক্রমে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাকে কারাদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অভিযানের সময় তার ব্যবহৃত চিকিৎসা ডিভাইস ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে।

জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, আলীমুল ইসলাম বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বাহেরঘাট এলাকার আব্দুল আলী হাওলাদারের ছেলে।
//ডিবিটেক/এলআরজেএন/এসএমপি/ডিপিও//