শিক্ষায় ৫৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব; সংসদীয় কমিটির ৭ দফা সুপারিশ
এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ দিচ্ছে সরকার
- প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও মেধা বিকাশে কৃতী শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
- ইএফটি ও আইবাস++ এর মাধ্যমে ৭০ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বকেয়া পরিশোধ
- পাসের হারের বদলে বছরভিত্তিক শিখনফল মূল্যায়ন ও স্থায়ী শিক্ষানীতির তাগিদ সংসদীয় কমিটির
মাধ্যমিক ও সমমানের পর্যায়ে মেধা বিকাশ ও শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতায় সমৃদ্ধ করার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ‘গোল্ডেন জিপিএ-৫’ অর্জনকারী প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে একটি করে ল্যাপটপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের প্রায় ৭০ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীর দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) এবং আইবাস++ (iBAS++) প্রযুক্তির মাধ্যমে সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রেরণের ঐতিহাসিক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।
জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকের আনুষ্ঠানিক কার্যবিবরণী সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস-এর তথ্যানুযায়ী, বৈঠকের কার্যবিবরণীতে দেশের শিক্ষা খাতের যুগান্তকারী কাঠামোগত রূপরেখা তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক জানান, শিক্ষার অবকাঠামো ও মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এই বরাদ্দ বিগত সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার লক্ষ্যে গোল্ডেন জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের জন্য এ প্রযুক্তি উপহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। মেধাভিত্তিক এ উদ্যোগ ও শিক্ষক কল্যাণে নেওয়া পদক্ষেপের জন্য বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সর্বসম্মতভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।
এর আগে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের ডিজিটাল গ্যাজেট দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছিলেন। পরবর্তীতে গত ১ সেপ্টেম্বর শিক্ষামন্ত্রীর মিডিয়া সেলের আনুষ্ঠানিক বার্তায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের ল্যাপটপ দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়।
এদিকে কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দেশের সামগ্রিক শিক্ষার গুণগত মান রূপান্তরে ৭ দফা সুপারিশ প্রণয়ন করা হয়। সভায় কমিটির সদস্যরা প্রচলিত ত্রুটিপূর্ণ মূল্যায়ন পদ্ধতির সমালোচনা করে জানান, কেবল পরীক্ষার পাসের হার বৃদ্ধি শিক্ষার প্রকৃত সাফল্যের মাপকাঠি হতে পারে না। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জনে বছরব্যাপী মূল্যায়নের পাশাপাশি তিন বা ছয় মাস অন্তর সুনির্দিষ্ট শিখনফল মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা জরুরি। মালয়েশিয়ার টেকসই শিক্ষানীতির আদলে দেশে একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় শিক্ষা-ভাবনা প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়, যাতে সরকার পরিবর্তন হলেও শিক্ষাক্রমের মৌলিক দর্শন বারবার বদলে না যায়। এ ছাড়া কমিটির সদস্য রেজা কিবরিয়া গণিত ও বিজ্ঞানের মতো মৌলিক বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক সক্ষমতা বজায় রাখতে সুনির্দিষ্ট বছরভিত্তিক আন্তর্জাতিক সূচক অনুসরণের তাগিদ দেন।
সংসদীয় কমিটির ৭ দফা সুপারিশের মধ্যে রয়েছে—আন্তর্জাতিক মান অর্জনে বছরভিত্তিক পরিমাপক তৈরি, বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতে সংসদীয় কমিটির সদস্যদের দ্বারা স্কুল-কলেজ পরিদর্শন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাবোর্ড প্রধানদের কমিটির বৈঠকে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ও হজে গমনেচ্ছু শিক্ষকদের বকেয়া মেটাতে অগ্রাধিকারভিত্তিক তালিকা তৈরি। শিক্ষাবিদরা সংসদীয় কমিটির এই উদ্যোগগুলোকে মুখস্থনির্ভর ও কৃত্রিম ফলাফলের বিপরীতে শিক্ষার গুণগত রূপান্তরের অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ।
//ডিবিটেক/বিএসএস/এসএমপি/এমআইএসটি//





