যুক্ত হচ্ছে আধুনিক পরিচ্ছন্নতা সরঞ্জাম 

প্রযুক্তিনির্ভর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম

  • কমপেক্টর ডাম্প ট্রাক, সড়ক পরিষ্কার ও নালা পরিষ্কারের বিশেষায়িত গাড়ি যুক্ত করার পরিকল্পনা
  • ‘আমার চট্টগ্রাম’ অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিক সেবা ডিজিটাল ও সহজ করার উদ্যোগ
  • বর্জ্য অপসারণে দ্রুততা, নিয়মিত তদারকি ও নাগরিক সহযোগিতায় জোর দিয়েছেন মেয়র

প্রযুক্তিনির্ভর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪৪  

নগরীর বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও অপসারণে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এ লক্ষ্যে কমপেক্টর ডাম্প ট্রাক, সড়ক পরিষ্কারের গাড়ি এবং নালা পরিষ্কারের বিশেষায়িত যানসহ বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জাম সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর সড়ক, নালা ও জনপরিসর পরিষ্কারের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

১৮ অক্টোবর, রবিবার চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব পরিকল্পনার কথা জানান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের বিকল্প নেই। নগরীর জনসংখ্যা ও বর্জ্যের পরিমাণ বিবেচনায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে হবে। এ জন্য প্রচলিত ব্যবস্থার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রাংশ ও আধুনিক বর্জ্য পরিবহন সরঞ্জাম যুক্ত করার মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও অপসারণের কার্যক্রম আরও দক্ষ করা হবে। কমপেক্টর ডাম্প ট্রাকের মাধ্যমে বর্জ্য পরিবহন, রোড ক্লিনিং গাড়ির সাহায্যে সড়ক পরিষ্কার এবং বিশেষায়িত গাড়ির মাধ্যমে নালা পরিষ্কারের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নগরীর সড়ক, নালা ও জনপরিসর পরিচ্ছন্ন রাখার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

নাগরিক সেবায় ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা

নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মেয়র বলেন, চসিকের বিভিন্ন সেবা সহজ, দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক করতে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এরই মধ্যে ‘আমার চট্টগ্রাম’ অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে নগরবাসীর সঙ্গে সিটি করপোরেশনের যোগাযোগ বাড়ানো এবং নাগরিক সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মেয়র আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলা শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সহযোগিতা জরুরি। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলতে হবে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণে আরও আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের পরিচয় দিতে হবে। বর্জ্য অপসারণে অযথা বিলম্ব পরিহার, নিয়মিত তদারকি এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। শুধু পরিকল্পনা গ্রহণ নয়, এর বাস্তবায়ন এবং সুফল নগরবাসীর কাছে পৌঁছানোও নিশ্চিত করতে হবে।

মেয়র বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং নগরবাসীর সহযোগিতার সমন্বয়ে চট্টগ্রামে টেকসই ও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুল ইসলামসহ পরিচ্ছন্ন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
//ডিবিটেক/সিজেএনও/এসএমপি/এমআইএসটি//