বিধিবহির্ভূত প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ; ২৩ দিন ধরে চলছে কমপ্লিট শাটডাউন
হাসপাতাল থেকে ফিরে মোবাইল মেসেজে সিন্ডিকেট সভা ডাকলেন চুয়েট উপাচার্য
- চমেক থেকে ছাড়া পেয়ে সার্কিট হাউসে উঠেই ভার্চ্যুয়াল সিন্ডিকেট আহ্বান উপাচার্যের
- রেজিস্ট্রারের আনুষ্ঠানিক চিঠি ছাড়া কেবল মেসেজে সভা ডাকার বৈধতা নিয়ে শিক্ষকদের প্রশ্ন
- তালা ভেঙে প্রবেশ ও ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধের পর সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে অচলাবস্থা
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রশাসনিক ভবনে শিক্ষার্থীদের হাতে টানা ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর উদ্ধার হওয়া উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে সার্কিট হাউসে ফিরেছেন। তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থা থেকে ছাড়া পেয়েই প্রচলিত প্রশাসনিক রীতিনীতি ও রেজিস্ট্রারের প্রাতিষ্ঠানিক নোটিশ ছাড়া কেবল মোবাইল ফোনে মেসেজ পাঠিয়ে ভার্চ্যুয়াল সিন্ডিকেট সভা ডাকার ঘটনায় জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও সিন্ডিকেট সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
১৫ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার দুপুরে চমেক হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে সার্কিট হাউসে ওঠেন উপাচার্য। এর পরপরই তিনি ১৬ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় ভার্চ্যুয়ালি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়ে সদস্যদের মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠান।
এ বিষয়ে সিন্ডিকেট সদস্য ও চুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও সংবিধি অনুযায়ী সিন্ডিকেটের আনুষ্ঠানিক নোটিশ সর্বদা রেজিস্ট্রারের দপ্তর থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জারি হতে হয়। এভাবে রেজিস্ট্রারের অনুমোদন বা স্বাক্ষর ছাড়া কেবল ব্যক্তিগত মোবাইল মেসেজে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সভা ডাকার কোনো আইনি ভিত্তি আছে কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। অন্য সিন্ডিকেট সদস্য ও স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান জানান, উপাচার্য ভার্চ্যুয়াল সভা ডাকলেও তিনি ব্যক্তিগত ছুটিতে থাকায় এতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে আকস্মিক অপসারণ করে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে সাবেক উপাচার্যকে স্বপদে পুনর্বহালের একদফা দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে লাগাতার ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন সর্বাত্মক অসহযোগ ও কর্মবিরতি শুরু করায় টানা ২৩ দিন ধরে চুয়েটের সমস্ত অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ অচল হয়ে রয়েছে।
এই অচলাবস্থার মধ্যেই গত ১২ অক্টোবর সোমবার সকালে উপাচার্য ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক অবস্থান নিয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করেন এবং বিদ্যুৎ-পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেন। টানা ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের মধ্যস্থতায় অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে উপাচার্যের পদত্যাগ ও সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণায় ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ।
//ডিবিটেক/সিআরএইচ/এসএমপি/এমআইএসটি//





