চতুর্থ আইইউটি; আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের ঝুলিতে মোট চার পুরস্কার

যুক্তরাষ্ট্রে এসিআই মর্টার ওয়ার্কেবিলিটি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ‘টিম চুয়েট সি’

  • জর্জিয়ার আটলান্টায় ৪০টি বৈশ্বিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দলকে হারিয়ে সামগ্রিক চ্যাম্পিয়ন চুয়েট
  • অর্থনৈতিক ক্যাটাগরিতে চুয়েটের দ্বিতীয় স্থান; পরিবেশ নকশা ও এস্থেটিকসে দ্বিতীয় আইইউটি
  • প্রবাহক্ষমতা, কম কার্বন নিঃসরণ ও সাশ্রয়ী নির্মাণ প্রযুক্তির মূল্যায়নে বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের সাফল্য

যুক্তরাষ্ট্রে এসিআই মর্টার ওয়ার্কেবিলিটি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ‘টিম চুয়েট সি’
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪৫  

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ ‘এসিআই মর্টার ওয়ার্কেবিলিটি কম্পিটিশন ২০২৬’-এ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পেছনে ফেলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীদের দল ‘টিম চুয়েট সি’। প্রতিযোগিতার মূল বা সামগ্রিক বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সাশ্রয়িতা ক্যাটাগরিতেও দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে দলটি।

একই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের আরেক শীর্ষ প্রকৌশল বিদ্যাপীঠ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) দল সামগ্রিক ক্যাটাগরিতে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে। পাশাপাশি আইইউটির দলটি পরিবেশগত নকশা (এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন) এবং ‘এস্থেটিকস ইন কংক্রিট’ বিভাগে রানার্সআপ (দ্বিতীয় স্থান) অর্জন করেছে। ফলে এ আন্তর্জাতিক আয়োজনে দুই বাংলাদেশি দলের সম্মিলিত অর্জনে যুক্ত হয়েছে চারটি শীর্ষ পুরস্কার।

আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউটের (এসিআই) আয়োজনে গত ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর ২০২৬ আটলান্টায় এই বৈশ্বিক সম্মেলন ও চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জমা দেওয়া শত শত কারিগরি গবেষণাপত্র ও প্রতিবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচিত সেরা ৪০টি দল সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে মূল পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।

প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন চুয়েট দলের অনুষদ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার-চুয়েটের মেন্টর ড. জি এম সাদিকুল ইসলাম। মূল পর্বে সশরীরে চুয়েটের প্রতিনিধিত্ব করেন খন্দকার ফাহাদ আলম, স্বরূপ চন্দ্র মোদক, তানজিম মুশাররাত তুশিন ও সুমাইয়া বিনতে মান্নান। অন্যদিকে এসিআই বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক উদ্দিনের নির্দেশনায় আইইউটির প্রতিনিধিত্ব করেন আরিনা তাহরিনা আমিন, রাজিত মুহাম্মদ চৌধুরী, জাসিয়া জুবায়ের, লামিয়া তাবাসসুম, রাগীব শাহরিয়ার, মো. হুমায়েদ তাহসিন হক, মো. মাহাদী হাসান নিলয় এবং মো. জুবায়ের আনজুম।

প্রতিযোগিতার মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক ও টেকসই নির্মাণ প্রযুক্তির নিরীখে মর্টারের বিভিন্ন রাসায়নিক ও গাঠনিক বৈশিষ্ট্য যাচাই করা হয়। এতে প্রবাহক্ষমতার (ফ্লোয়েবিলিটি) ওপর ৫০ শতাংশ এবং স্থিতিশীলতার (স্ট্যাবিলিটি) ওপর ২০ শতাংশ নম্বর নির্ধারিত ছিল। এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব নির্মাণ বিবেচনায় কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে ১০ শতাংশ, অর্থনৈতিক সাশ্রয়িতায় ৫ শতাংশ এবং বিস্তারিত প্রযুক্তিগত প্রতিবেদনের মানের জন্য বাকি ১৫ শতাংশ নম্বর বরাদ্দ ছিল।

বিশ্বজয়ের অনুভূতি প্রকাশ করে চুয়েট দলের সদস্য স্বরূপ চন্দ্র মোদক জানান, আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশ নিয়ে তাঁরা প্রমাণ করেছেন সুযোগ ও পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বিশ্বমানের যেকোনো গবেষণায় দেশীয় প্রকৌশলীরা নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।

চুয়েট দলের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি এম সাদিকুল ইসলাম জানান, ২০১৮ সালে চ্যাপ্টার চালুর পর থেকে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে দলগুলো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেও আমেরিকার মাটিতে সশরীরে অংশ নিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া ছিল তাঁদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন। এই গৌরবময় অর্জন চুয়েট তথা সমগ্র বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার আন্তর্জাতিক সক্ষমতাকে তুলে ধরেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ।

//ডিবিটেক/সিআরএইচ/এসএমপি/এসএমই//