বিশ্বসেরা গবেষণাগারে বাংলাদেশি মেধা:

সিলিকন রিভার ও স্বনির্ভর উদ্ভাবনের রূপরেখা

সিলিকন রিভার ও স্বনির্ভর উদ্ভাবনের রূপরেখা
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:২৪  

হাইলাইটস

  • শীর্ষ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অভাবনীয় রূপান্তর: আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় গ্র্যাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশি অধ্যাপকের সংখ্যা বিগত দুই দশকে ৩ জন থেকে বেড়ে ১৯ জনে উন্নীত হয়েছে; যাদের রয়েছে ২ লাখেরও বেশি সাইটেশন এবং ২৫০টি আন্তর্জাতিক পেটেন্ট।

  • ডিপ-টেক ও মৌলিক গবেষণার পূর্ণাঙ্গ বিস্তার: সেমিকন্ডাক্টর ন্যানো-ডিভাইস, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ক্লাউড সিস্টেমস (অ্যাপাচি স্পার্ক), বায়ো-হাইব্রিড রোবটিক্স থেকে শুরু করে পরিচ্ছন্ন নিউক্লিয়ার এনার্জি পর্যন্ত বৈশ্বিক গবেষণায় বাংলাদেশিরা প্রথম সারিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

  • সিলিকন রিভার ও জাতীয় সক্ষমতার সেতুবন্ধন: আমদানিনির্ভর ভোক্তা না হয়ে প্রবাসী শীর্ষ গবেষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে জাতীয় শিল্পনীতি ও ডিজিটাল টুইন কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বনির্ভর প্রযুক্তি-অর্থনীতিতে রূপান্তর করার জোরালো রূপরেখা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত আধিপত্যের মূল ভিত্তি নিহিত রয়েছে তাদের প্রকৌশল ও প্রযুক্তির উৎকর্ষে। আর আমেরিকায় মেধা বিকাশের সবচেয়ে শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ প্রবেশদ্বার হলো তাদের শীর্ষ গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কাঁচা হীরার মতো উজ্জ্বল তরুণ মেধাবীদের ঘষে-মেজে বিশ্বমানের গবেষকে পরিণত করেন এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ফ্যাকাল্টি সদস্যরা। বাইরে থেকে দেখে সাধারণ মনে হলেও, একটি শীর্ষ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবের চাবি হাতে পাওয়ার পেছনের প্রতিযোগিতা অবিশ্বাস্য। ফ্যাকাল্টি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার মুহূর্তে তাঁদের গড়ে প্রায় ৪০০ জন বিশ্বসেরা প্রার্থীর সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে হয়।

গত ২৫ বছর ধরে মার্কিন গ্র্যাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষণার শীর্ষ তালিকায় রাজত্ব করা এক ডজন প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানে মাত্র দুই দশক আগেও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পূর্ণকালীন অধ্যাপক ছিলেন মাত্র তিনজন। আজ সেখানে সগৌরবে গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন অন্তত ১৯ জন বিজ্ঞানী। (আইভি লিগের কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপক তানজিম মোহাম্মদের অবদান পূর্বে আলোচিত হওয়ায়) নিচে বাকি শীর্ষ গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ১৮ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানীর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ইংরেজি নামের বর্ণানুক্রমে তুলে ধরা হলো। তাঁদের সম্মিলিত গবেষণাপত্রের সাইটেশন সংখ্যা ২ লাখেরও বেশি এবং অর্জিত আন্তর্জাতিক পেটেন্টের সংখ্যা আড়াই শতাধিক; যাঁদের মধ্যে অন্তত ১৩ জনই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রাক্তন শিক্ষার্থী:

১. ড. ফেরদৌস আলম | জর্জিয়া টেক (Georgia Tech):

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এই গবেষক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রের মেলবন্ধন ঘটিয়ে নতুন প্রজন্মের প্রকৌশল নকশা এবং অটোমেটেড উৎপাদনপ্রক্রিয়া তৈরিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর কাজ আগামী দিনের স্মার্ট কারখানার ধারণাকে বদলে দিতে পারে।

২. ড. মুহাম্মদ আশরাফুল আলম | পারডিউ ইউনিভার্সিটি (Purdue University):

সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস ফিজিক্স এবং রিলায়েবিলিটি বিজ্ঞানের বিশ্বখ্যাত গবেষক। ন্যানোস্কেল ট্রানজিস্টরের কার্যক্ষমতার মেয়াদ, অবক্ষয় এবং নতুন সেমিকন্ডাক্টর উপাদানের নির্ভরযোগ্যতা নিরূপণে তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এছাড়া সোলার সেল ও নমনীয় ইলেকট্রনিক্সে তাঁর অসামান্য অবদান রয়েছে।

৩. ড. সৈয়দ বাহাউদ্দিন আলম | ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইন (UIUC):

উন্নত পারমাণবিক শক্তি গবেষক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল টুইন এবং থার্মাল-হাইড্রোলিক সিমুলেশন ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরের সর্বাধুনিক নিরাপত্তা ও পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধির রূপরেখা নিয়ে তিনি কাজ করছেন।

৪. ড. ফয়সাল আলমগীর | জর্জিয়া টেক (Georgia Tech):

শক্তি সংরক্ষণ ও উন্নত ব্যাটারি প্রযুক্তির গবেষক। পারমাণবিক স্তরে বিভিন্ন উপাদানের মিথস্ক্রিয়া এবং সময়ের সঙ্গে কার্যক্ষমতা হ্রাসের কারণ উদ্ঘাটনে তিনি বিশেষায়িত এক্স-রে স্পেকট্রোস্কোপি ব্যবহার করছেন—যা আগামী দিনের বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি টেকসই করতে অত্যন্ত জরুরি।

৫. ড. মেখাইল আনোয়ার | ইউসি সান ফ্রান্সিসকো ও ইউসি বার্কলে (UCSF & UC Berkeley):

মাইক্রোইলেকট্রনিক্স এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। ন্যানো-সেন্সর, মাইক্রোচিপস ও উন্নত অপটিক্যাল ইমেজিং প্রযুক্তির মাধ্যমে মানবদেহের গভীরে ক্যানসার আক্রান্ত কোষকে নির্ভুলভাবে শনাক্ত ও অপসারণের জন্য সার্জিক্যাল রোবটিক্সে কাজ করছেন।

৬. ড. মোশাররফ চৌধুরী | ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান (University of Michigan):

বিগ ডেটা ও আধুনিক ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ভিত্তি বদলে দেওয়া বিখ্যাত ‘অ্যাপাচি স্পার্ক’ (Apache Spark)-এর অন্যতম মূল উদ্ভাবক। বর্তমানে তিনি এআই মডেলগুলোর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও উচ্চগতির ডেটা সেন্টার আর্কিটেকচার নিয়ে গবেষণা করছেন।

৭. ড. মুহাম্মদ মুস্তাফা হুসাইন | পারডিউ ইউনিভার্সিটি (Purdue University):

ফ্লেক্সিবল ও স্ট্রেচেবল সিলিকন ইলেকট্রনিক্স, ত্রিমাত্রিক (3D) চিপ ইন্টিগ্রেশন, ন্যানো-স্কেল ট্রানজিস্টর আর্কিটেকচার এবং বায়ো-কম্প্যাটিবল সিস্টেমস নিয়ে কাজ করছেন। শক্ত ও সমতল চিপকে কীভাবে অতি-পাতলা, ভাঁজযোগ্য ও জৈবিক আবহে কার্যকর করা যায়—তাঁর ল্যাব সেই অগ্রযাত্রায় নেতৃত্ব দিচ্ছে।

৮. ড. মো. তৌহিদুল ইসলাম | স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি (Stanford University):

চিকিৎসা ও রেডিওলজিক্যাল ইমেজিংয়ে এআই প্রযুক্তির পথিকৃৎ। ডিপ লার্নিং অ্যালগরিদম এবং মাল্টি-ওমিক্স ডেটা বিশ্লেষণ করে প্রাথমিক পর্যায়ে জটিল রোগ নির্ণয় ও সমন্বিত ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক রূপরেখা নিয়ে কাজ করছেন।

৯. ড. মোহাম্মদ এন. ইসলাম | ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান (University of Michigan):

অপটিক্যাল কমিউনিকেশন, হাই-পাওয়ার ফাইবার লেজার এবং বায়োমেডিকেল সেন্সিংয়ের শীর্ষ গবেষক ও সফল প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। আলো ব্যবহারের মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক বিশ্লেষণ এবং অপটিক্যাল পেটেন্টকে সফল বাণিজ্যিক শিল্পে রূপান্তরে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

১০. ড. মোহাম্মদ এফ. ইসলাম | কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটি (Carnegie Mellon University):

কার্বন ন্যানোটিউব, গ্রাফিন ও উন্নত ন্যানোম্যাটেরিয়ালের গবেষক। আণবিক স্তরে কণার স্ব-বিন্যাস নিয়ন্ত্রণ করে বিদ্যুৎ পরিবাহী ও নমনীয় পদার্থ তৈরির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ ইলেকট্রনিক্স ও সেন্সর তৈরিতে তাঁর গবেষণা মৌলিক ভূমিকা রাখছে।

১১. ড. রইসুল ইসলাম | পারডিউ ইউনিভার্সিটি (Purdue University):

নতুন প্রজন্মের মেমোরি ও পোস্ট-সিএমওএস কম্পিউটিং নিয়ে কাজ করছেন। প্রচলিত আর্কিটেকচারের সীমাবদ্ধতা দূর করতে তিনি নিউরোমর্ফিক কম্পিউটিং, ফেজ-চেঞ্জ মেমোরি এবং টু-ডি (2D) সেমিকন্ডাক্টরের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করছেন।

১২. ড. মো. কামরুজ্জামান | ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইন (UIUC):

কৃষিপ্রযুক্তি, টেকসই খাদ্যনিরাপত্তা ও হাইপার-স্পেকট্রাল ইমেজিংয়ের সমন্বয় ঘটিয়েছেন। কৃষিপণ্যের কোনো ক্ষতি না করেই তার পুষ্টিগুণ, সতেজতা ও নিরাপত্তা নির্ভুলভাবে যাচাইয়ের প্রযুক্তি নিয়ে তাঁর কাজ কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।

১৩. ড. আসিফ ইসলাম খান | জর্জিয়া টেক (Georgia Tech):

ফেরোইলেকট্রিক উপাদান, নেগেটিভ ক্যাপাসিট্যান্স এবং লো-পাওয়ার ট্রানজিস্টরের আন্তর্জাতিক গবেষক। আধুনিক চিপের মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ অপচয় ও তাপ উৎপাদন কমানোর মৌলিক পদার্থবিজ্ঞানে তিনি যুগান্তকারী অবদান রেখেছেন।

১৪. ড. আসির ইন্তিসার খান | ইউসি বার্কলে (UC Berkeley):

আল্ট্রা-লো পাওয়ার মেমোরি ও লজিক ডিভাইস, থ্রিডি মাইক্রোইলেকট্রনিক্স এবং অভিনব ন্যানোম্যাটেরিয়াল গবেষক। ক্ষুদ্র পরিসরে শক্তির অপচয় কমিয়ে অতি-উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রসেসিং পাওয়ার নিশ্চিত করাই তাঁর কাজের মূল লক্ষ্য।

১৫. ড. এম. তাহের এ. সাইফ | ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইন (UIUC):

ইউএস ন্যাশনাল একাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (NAE) নির্বাচিত সম্মানিত ফেলো। বায়োমেকানিক্স, জীবন্ত কোষের যান্ত্রিক আচরণ এবং কৃত্রিম কোষের সমন্বয়ে ‘বায়ো-হাইব্রিড রোবট’ তৈরির বৈশ্বিক পথিকৃৎ—যাঁর গবেষণা জীববিজ্ঞান ও মেকানিক্যাল সিস্টেমের দূরত্ব ঘুচিয়ে দিয়েছে।

১৬. ড. সাইফ সালাহউদ্দিন | ইউসি বার্কলে (UC Berkeley):

সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস ফিজিক্সের বিশ্বনন্দিত বিজ্ঞানী। বিশেষ করে নেগেটিভ ক্যাপাসিট্যান্সভিত্তিক ফিল্ড-ইফেক্ট ট্রানজিস্টরের (NC-FET) ধারণা উদ্ভাবনে তাঁর কাজ চিপের ভোল্টেজ হ্রাস এবং আধুনিক প্রসেসরের গতি বৃদ্ধিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

১৭. ড. নাভিদ সালেহ | ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিন (UT Austin):

এনভায়রনমেন্টাল ন্যানোটেকনোলজি ও আধুনিক পানিশোধন প্রযুক্তির গবেষক। প্রাকৃতিক পরিবেশে ন্যানো-পার্টিকেলের বিস্তৃতি, ক্ষতিকর উপাদানের বিষাক্ততা হ্রাস এবং মেমব্রেন প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাপদ পানীয় জলের টেকসই সমাধান নিয়ে তিনি কাজ করছেন।

১৮. ড. শরিফা সুলতানা | ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইন (UIUC):

হিউম্যান-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন (HCI), তথ্যপ্রযুক্তি নীতি এবং গ্লোবাল সাউথের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষার গবেষক। গ্রামীণ নারী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রাত্যহিক জীবনে প্রযুক্তির ব্যবহার ও তাদের ডিজিটাল ক্ষমতায়নের পথ সুগম করতে তিনি মাঠপর্যায়ে গবেষণা পরিচালনা করছেন।

আমরা যখন বাংলাদেশে একটি স্বনির্ভর সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং ‘সিলিকন রিভার’ (Silicon River) ও ‘বিয়ার সামিট’ (BEAR Summit)-এর মতো উদ্যোগ গড়ে তোলার কথা বলি, তখন অনেকেই প্রশ্ন তোলেন—আমাদের ফ্যাব কোথায়? কোটি কোটি ডলারের যন্ত্রপাতি কোথায়? স্থানীয় বাজার কোথায়?

প্রশ্নগুলো অবশ্যই যৌক্তিক। কিন্তু তার চেয়েও মৌলিক প্রশ্নটি হলো: যে জাতির সন্তানেরা বিশ্বের শীর্ষ গবেষণাগারে ট্রানজিস্টর, ন্যানোম্যাটেরিয়াল, ক্লাউড কম্পিউটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছেন, সেই দেশ কি নিজের মেধার ওপর দাঁড়িয়ে একটি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী অর্থনীতি গড়ে তোলার সাহস দেখাতে পারে না?

আমাদের মেধার কোনো অভাব নেই—সেটি আন্তর্জাতিকভাবে বহু আগেই প্রমাণিত। এখন সময় এসেছে সেই মেধা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে বাংলাদেশের নিজস্ব শিল্প, প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতায় রূপান্তর করার। বিশ্বমঞ্চে সেই জাতিই মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়, যার নিজস্ব জ্ঞান, পেটেন্ট ও পণ্য অন্যদের কিনতে হয়। আমরা বাংলাদেশকে কেবল আমদানিনির্ভর বাজার নয়, বরং বিশ্বমানের একটি আত্মনির্ভরশীল ‘নেশন অব ইনোভেশন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

পুনশ্চ: বর্তমানে এমআইটি (MIT) ও ক্যালটেকে (Caltech) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কোনো স্থায়ী ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টি নেই (২০০৭ সালে ড. সাইফ সালাহউদ্দিন এমআইটির অফার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন)। প্রিন্সটন, ইউসিএলএ বা ইউসিএসবি-র মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে আমাদের বহু গুণী গবেষক থাকলেও, এই তালিকায় গত ২৫ বছর ধরে মার্কিন গ্র্যাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষণার শীর্ষ র‍্যাঙ্কিংয়ে থাকা এক ডজন প্রতিষ্ঠানের গবেষকদের তুলে ধরা হয়েছে।


লেখক || আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সেমিকন্ডাক্টর গবেষক ও প্রযুক্তিবিদ; প্রধান স্থপতি, সিলিকন রিভার (Silicon River); অধ্যাপক, স্কুল অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, পারডিউ ইউনিভার্সিটি (Purdue University), ইন্ডিয়ানা, যুক্তরাষ্ট্র। পূর্বে তিনি সেমাটেক (SEMATECH), টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টস, ইউসি বার্কলে এবং কাউস্টে (KAUST) উন্নত নোড সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস ও ফ্যাব্রিকেশন গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।


[সম্পাদকীয় নোট]

উন্নত বিশ্বের শীর্ষ গবেষণাগারে কর্মরত প্রবাসী মেধাবীদের তালিকা প্রণয়নের চেয়েও এই নিবন্ধের মূল গুরুত্ব নিহিত এর উন্নয়ন দর্শনে। লেখক তুলে ধরেছেন যে, মেধা বিকাশের চূড়ান্ত পর্যায়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পরও একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য আসল রূপান্তর তখনই ঘটে, যখন সেই মেধা স্বদেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় রূপ নেয়। সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক অবকাঠামো গড়ে তুলতে কেবল শত শত কোটি ডলারের কারখানা কেনা মূল বিষয় নয়; মূল বিষয় হলো তার বিজ্ঞান ও মেকাট্রনিক্স বোঝার মতো দেশীয় প্রকৌশলী তৈরি করা। বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্বদানকারী এই ১৯ জন গবেষকের উদাহরণ প্রমাণ করে যে বৌদ্ধিক সক্ষমতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে নেই। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই প্রতিভাদের অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় ‘সিলিকন রিভার’ রূপকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশ জ্ঞান ও প্রযুক্তির আমদানিকারক থেকে উৎপাদকে পরিণত হতে পারবে। লেখাটি লেখকের মূল বয়ান ও প্রযুক্তিগত সততা সমুন্নত রেখে সম্পাদকীয় প্রমিতকরণসহ প্রকাশ করা হলো।


দ্রষ্টব্য: অভিমত-এ প্রকাশিত পুরো মতামত লেখকের নিজের। এর সঙ্গে ডিজিটাল বাংলা মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বহুমতের প্রতিফলন গণমাধ্যমের অন্যতম সূচক হিসেবে নীতিগত কোনো সম্পাদনা ছাড়াই এই লেখা প্রকাশ করা হয়। এতে কেউ সংক্ষুব্ধ বা উত্তেজিত হলে তা তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।