মেসেজ পাঠিয়ে ডাকা বৈঠকের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন; অচলাবস্থা অব্যাহত
উপাচার্যের ডাকা অনলাইন সিন্ডিকেট সভায় যাননি চুয়েট শিক্ষকরা
- শুক্রবার সন্ধ্যায় উপাচার্যের ভার্চ্যুয়াল সিন্ডিকেট সভায় অংশ নেননি অভ্যন্তরীণ শিক্ষকরা
- রেজিস্ট্রারের দাপ্তরিক নোটিশ ছাড়া কেবল মুঠোফোনের বার্তায় সভা ডাকার তীব্র প্রতিবাদ
- সাবেক উপাচার্যের পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কর্মবিরতি ও আন্দোলন চলমান
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরিফুল আলমের আহ্বানে অনুষ্ঠিত অনলাইন সিন্ডিকেট সভায় অংশ নেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেট সদস্য শিক্ষকরা। প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক রীতিনীতি ও রেজিস্ট্রারের দাপ্তরিক নোটিশ ছাড়া কেবল ব্যক্তিগত মুঠোফোনের বার্তায় এই জরুরি সভা আহ্বানের প্রতিবাদে তারা এ সিদ্ধান্ত নেন।
১৬ অক্টোবর, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে এ সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানিয়ে সদস্যদের মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠিয়েছিলেন উপাচার্য। তবে নির্ধারিত সময়ে চুয়েটের কোনো শিক্ষকই এই অনলাইন কার্যক্রমে যুক্ত হননি। চুয়েটের কোনো শিক্ষকের অংশ না নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিন্ডিকেটের বহিঃস্থ সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. জাহিদুর রহমান।
এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে রেজিস্ট্রারের সই বা দাপ্তরিক নোটিশ ছাড়া শুধুমাত্র এসএমএস পাঠিয়ে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সভা ডাকার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও ডিনরা।
এ বিষয়ে তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইন মন্তব্য করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও সংবিধি অনুযায়ী সিন্ডিকেটের আনুষ্ঠানিক নোটিশ সর্বদা রেজিস্ট্রারের দপ্তর থেকেই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জারি হতে হয়। রেজিস্ট্রারের অনুমোদন বা আনুষ্ঠানিক চিঠি ছাড়া কেবল মুঠোফোনের ব্যক্তিগত বার্তায় এমন গুরুত্বপূর্ণ সভা ডাকার কোনো আইনি বা বিধিবদ্ধ ভিত্তি নেই। একই সাথে ব্যক্তিগত ছুটিতে থাকার কারণে এই প্রক্রিয়ার সভায় অংশ না নেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান।
উপাচার্য পদে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগকে কেন্দ্র করে চুয়েট ক্যাম্পাসে গভীর অচলাবস্থা বিরাজ করছে। তাঁর নিয়োগ বাতিল করে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি পালন করায় ক্যাম্পাস স্থবির হয়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ।
//ডিবিটেক/সিআরএইচ/এসএমপি/এমআইএসটি//





