মঙ্গলবার দেশে ফিরছেন প্রতারিত তরুণরা
কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে মুক্ত ৩০ বাংলাদেশি
- কম্বোডিয়ায় জোরপূর্বক অনলাইন সাইবার স্ক্যামে নিয়োজিত ৩০ বাংলাদেশি মঙ্গলবার দেশে ফিরছেন
- ব্যাংককস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের যৌথ প্রচেষ্টায় মুক্তি
- দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে অনলাইন প্রতারণাগৃহে বন্দী হয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তারা।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়ায় জোরপূর্বক সাইবার স্ক্যামিং বা অনৈতিক অনলাইন প্রতারণামূলক কেন্দ্রে জিম্মি দশা থেকে উদ্ধারের পর সে দেশের ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি থাকা ৩০ জন বাংলাদেশি কর্মী অবশেষে দেশে ফিরছেন।
১৯ অক্টোবর, সোমবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড সূত্র থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। মঙ্গলবারে (২০ অক্টোবর ২০২৬) থাই এয়ারওয়েজের (টিজি-৩২১) একটি বিশেষ ফ্লাইটে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তাদের ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সংস্থা সূত্রে প্রকাশ, সামাজিক সংগঠন অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ব্যাংককে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম শাখার মাধ্যমে কম্বোডিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হয়। পরে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উপপরিচালক (আইআরপি) মোহাম্মদ জাকির হোসেনের সই করা এক চিঠিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে বন্দিদের দ্রুত মুক্ত ও দেশে ফেরানোর তাগিদ দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের স্বজনদের কাছ থেকে জানা যায়, উচ্চ বেতনে আইটি ও ডেটা এন্ট্রি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আন্তর্জাতিক দালাল চক্রের মাধ্যমে এসব তরুণকে কম্বোডিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁদের পাসপোর্টে টেকনিক্যাল জটিলতা তৈরি করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে উচ্চপ্রযুক্তিসম্পন্ন সাইবার স্ক্যামিং ও ফিশিং সেন্টারে আটকে রাখা হতো। প্রবাসীরা সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁদের ওপর চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো।
পরবর্তী সময়ে কম্বোডিয়া সরকারের নির্ধারিত নিয়মে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানী নমপেনের বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন পুলিশ অবৈধ অবস্থানের অভিযোগে ৩২ জন বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করে। পরে দুজন মুক্তি পেলেও বাকি ৩০ জন এতদিন দেশটির ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ছিলেন।
দেশে ফেরত আসতে যাওয়া ৩০ কর্মী হলেন— মো. হারুন অর রশীদ, মো. আব্দুল ওয়াদুদ, মো. তারলিব হাসান তিতুল, সুমিত চন্দ্র দাস, রাকিব হোসেন, বাপ্পি দাস, মো. লাবন শেখ, মো. আবদুর রহমান, মো. বিল্লাল হোসেন, মো. মোস্তফা, নূর নবী, মো. ইমন আলী, মো. বারকাতুল্লাহ, মো. রুবেল মিয়া, আলী আহমেদ, জাহিদুল ইসলাম, শামসুল আলম, মো. আবদুর রহমান, আবু জাহের সবুজ, শাওন, নাহিদ ঢালি, রাজু হোসেন, মো. তৈয়ব আলী শেখ, সাইমন ভূঁইয়া, মো. রাশেদুল, মো. আকাশ আহমেদ, মো. শিমুল আলী, আশিকুর রহমান, মো. আলামিন পিকে এবং মোহাম্মদ কবির।
//ডিবিটেক/বিটিএনআর/এসএমপি/ডিপিও//





