শিক্ষাছুটিতে শিক্ষকরা সেশনজটের আশঙ্কা

নোবিপ্রবিতে শিক্ষকসংকট ৩০ শতাংশের বেশি ছুটিতে

  • নোবিপ্রবিতে মোট শিক্ষকের ৩০.১৪ শতাংশ শিক্ষাছুটিসহ বিভিন্ন ছুটিতে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন
  • ব্যবসায় প্রশাসন, অর্থনীতি ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে আশঙ্কাজনক হারে শিক্ষক ঘাটতি দেখা দিয়েছে
  • সংকট নিরসনে ইউজিসির অনুমোদনক্রমে গেস্ট টিচার ও বিকল্প শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা উপাচার্যের

নোবিপ্রবিতে শিক্ষকসংকট ৩০ শতাংশের বেশি ছুটিতে
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:১০  

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশ্যে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক একসঙ্গে শিক্ষাছুটিতে থাকায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) তীব্র শিক্ষকসংকট দেখা দিয়েছে। একাডেমিক ডেটা বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে সীমিত জনবল দিয়ে ক্লাস-পরীক্ষা পরিচালনা করতে গিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

১৮ অক্টোবর, রবিবার বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, মোট ৪২৮ জন শিক্ষক পদের বিপরীতে বর্তমানে ১২৮ জন শিক্ষক বিভিন্ন ধরনের ছুটিতে রয়েছেন, যা মোট শিক্ষকের ৩০.১৪ শতাংশ। সবচেয়ে নাজুক অবস্থা ব্যবসায় প্রশাসন (ডিবিএ) বিভাগে, যেখানে ১৫ জন শিক্ষকের মধ্যে ৯ জনই (৬০%) ছুটিতে। এছাড়া অর্থনীতি বিভাগে ১৮ জনের মধ্যে ১০ জন (৫৫.৫৫%), মাইক্রোবায়োলজিতে ২৩ জনের মধ্যে ১১ জন (৪৭.৮৩%), বিজিই-তে ২০ জনের মধ্যে ৮ জন (৪০%) এবং বিএমবি-তে ১০ জনের মধ্যে ৪ জন (৪০%) শিক্ষক শিক্ষাছুটিতে রয়েছেন।

শিক্ষাছুটির পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের আপত্তির মুখে ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স (ফিমস) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনিসুজ্জামান, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর এবং আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বাদশা মিয়া অফলাইন ক্লাসে অংশ নিচ্ছেন না। অন্য দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ও প্রোপো-উপাচার্য পদে প্রেষণে রয়েছেন দুজন অধ্যাপক। ফলে সেশনজট এড়াতে রসায়ন, সিএসই, আইআইটি, পরিসংখ্যান ও বিএমবিসহ কয়েকটি বিভাগে অস্থায়ী শিক্ষক দিয়ে বিকল্প উপায়ে ক্লাস চালানো হচ্ছে।

সংকট কাটাতে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার ছুটির বিরোধিতা না করে অনতিবিলম্বে বিকল্প বা খণ্ডকালীন (গেস্ট) শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

শিক্ষকসংকট ও শিক্ষাছুটি প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী জানান, শিক্ষাছুটি শিক্ষকদের অধিকার এবং একাডেমিক উৎকর্ষের জন্য অপরিহার্য। তবে সংকট কাটাতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে নতুন নিয়োগ কিংবা অনুমোদনক্রমে গেস্ট টিচার রেখে দ্রুত শূন্যতা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

//ডিবিটেক/এসএইচএম/এসএমপি/বিপিও//