মানবকেন্দ্রিক সুশাসন ও অ্যালগরিদম স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ৩ দিনের যৌথ সম্মেলন সম্পন্ন

অবিলম্বে জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতিমালা অনুমোদনের তাগিদ বিটিআরসি ও বিআইজিএফের

  • ঢাকায় ৩ দিনের সম্মেলনে দেশি-বিদেশি ৮২ জন বিশেষজ্ঞ বক্তার সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত হলো ১২টি সেশন ও ১টি কর্মশালা
  • সাইবার নিরাপত্তা, প্রযুক্তিভিত্তিক লিঙ্গ সহিংসতা প্রতিরোধ এবং বাংলা ভাষার এআই গবেষণায় বিনিয়োগের আহ্বান
  • উদ্বোধনে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী ও জাতিসংঘের প্রতিনিধি আনিয়া জেঙ্গো

অবিলম্বে  জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতিমালা অনুমোদনের তাগিদ বিটিআরসি ও বিআইজিএফের
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৩৯  

দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর দায়িত্বশীল ব্যবহার, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন সুরক্ষা এবং মানবিক সুশাসন নিশ্চিতে অবিলম্বে ‘জাতীয় এআই নীতিমালা’ অনুমোদনের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও অংশীজনেরা। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম (বিআইজিএফ)-এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী জাতীয় সম্মেলনের সমাপনী ঘোষণাপত্রে এ আহ্বান জানানো হয়।

১৫ থেকে ১৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ‘বুদ্ধিমত্তার যুগে ইন্টারনেট গভর্নেন্স: একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও মানবকেন্দ্রিক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ’ প্রতিপাদ্যে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডিজিটাল রূপান্তর, ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি ও ইন্টারনেট সুশাসন নিয়ে ১২টি পূর্ণাঙ্গ সেশন এবং একটি বিশেষ কর্মশালা পরিচালিত হয়; যেখানে ৫ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিসহ মোট ৮২ জন বক্তা এবং ৩৫০ জনের বেশি অংশগ্রহণকারী অংশ নেন।

সম্মেলনের সমাপনী প্রস্তাবে বলা হয়, দ্রুত পরিবর্তনশীল এআই প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে একটি নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ উদ্ভাবনী পরিবেশ তৈরিতে সুনির্দিষ্ট জাতীয় নীতিমালার কোনো বিকল্প নেই। বক্তারা মত দেন যে, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পাশাপাশি নাগরিক অধিকার সুরক্ষা, অ্যালগরিদমের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বৈষম্যহীনতা এবং তথ্য সুরক্ষার আইনি কাঠামো থাকা আবশ্যক। এছাড়া এআই-এর সুফল সব স্তরে পৌঁছে দিতে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং ডিজিটাল সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বাংলা ভাষার নিজস্ব প্রেক্ষাপটে এআই গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইজিএফ মহাসচিব মোহাম্মদ আব্দুল হক অনু এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী। ভার্চুয়ালি বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের আইজিএফ সচিবালয়ের ডিজিটাল পলিসি বিশেষজ্ঞ আনিয়া জেঙ্গো।

উদ্বোধনী সেশনে জাতিসংঘের ইউএনজিআইএস-এর সদস্য ও রেসপনসিবল এআই অ্যাম্বাসেডর এএইচএম বজলুর রহমান সাইবার আক্রমণ ও প্রযুক্তিভিত্তিক লিঙ্গ সহিংসতার ঝুঁকি নিরসনে মানবাধিকারকেন্দ্রিক ডিজিটাল পলিসির তাগিদ দেন। বিটিআরসির এসএস বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ খলিলুর রহমান বলেন, কেবল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ নয়, বরং ইন্টারনেট ব্যবহারের মান ও কার্যকর ডিজিটাল দক্ষতা নিশ্চিতের মাধ্যমেই ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে হবে।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে এআই যুগে প্রযুক্তিভিত্তিক লিঙ্গ সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল। এ ছাড়া বিভিন্ন সেশনে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান, বিএনএনআরসি-র প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী হীরেন পণ্ডিত, নাগরিকতা তহবিলের বিশেষজ্ঞ মো. নুরুল ইসলাম এবং জাতীয় সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী। সমাপনী দিনে তরুণ ও শিশুদের মাঝে এআই-এর দায়িত্বশীল ব্যবহার নিয়ে সচেতনতামূলক বিশেষ সেশন আয়োজনের মধ্য দিয়ে তিন দিনের এই জাতীয় আয়োজনের পর্দা নামে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ।

//ডিবিটেক/এইচপিজেআইএফ/এসএমপি/এমআইএসটি//