সিসিক্যামে চট্টলার দুর্গম এলাকার পরীক্ষাকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ সহায়ক হবে

সিসিক্যামে  চট্টলার দুর্গম এলাকার পরীক্ষাকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ সহায়ক হবে
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:০৭  

জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও ট্রাফিক জ্যাম কমাতে নগরীর স্কুলগুলোতে 'ব্লেন্ডেড' (অনলাইন-অফলাইন) পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্তের কথা জানানোর পর এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একইসঙ্গে সিসিক্যামে  চট্টলার দুর্গম এলাকার পরীক্ষাকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ সহায়ক হবে মন্তব্য করেছেন তিনি। 

১০ এপ্রিল, শুত্রবার ঢাকার বাসা থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামসহ সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডগুলোর কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই নির্দেশনা দিলেন। বললেন, খাতায় যাই লেখা থাকুক, সঠিক উত্তর যাচাই করেই নম্বর দিতে হবে। কোনোভাবেই অতিরিক্ত বা কম নম্বর দেওয়া যাবে না। 

ভার্চুয়াল এই সভায় বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিয়া মো. নুরুল হক এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন। 

এ ছাড়া বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. এ কে এম সামছু উদ্দিন আজাদ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম চৌধুরী।

সভায় প্রশ্নপত্র ফাঁসকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন হুঁশিয়ারি দেন, এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  মন্ত্রী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এবারও তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

শিক্ষকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, শিক্ষকদের পূর্বেও আমি নিরাপত্তা দিয়েছি, এবারও দেব। আপনারা নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।

জুম প্লাটফর্মে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রতিটি পরীক্ষা কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টি পুণর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় নজরদারি চালু রাখতে আইপিএসের ব্যবস্থাও রাখতে হবে। এ ব্যবস্থা পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকার পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণেও সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। 

বরাবরের মতো তিনি জানিয়েছেন,  প্রযুক্তি-নির্ভর শিক্ষা ও পেপারলেস ক্লাসরুম গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।  

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে ইন-হাউজ কোচিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। এ ব্যবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে কোচিং কার্যক্রম পরিচালিত হলে শিক্ষকদের সম্মানী দেওয়া হবে। তবে প্রতিষ্ঠানের বাইরে কোনো শিক্ষক কোচিং করালে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানান, আগামী ২১ এপ্রিল শুরু হতে যাওয়া এই পরীক্ষায় অংশ নেবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলার ১ হাজার ২১৮টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ বছর পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৫৬ হাজার ৩২৫ জন ছাত্র ও ৭৪ হাজার ৩৪৩ জন ছাত্রী।পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ৭৬টি ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৬টি সাধারণ এবং ১০টি বিশেষ টিম রয়েছে। দুর্গম কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

ডিবিটেক/এসএইচ/ইকে