মানসিক ঝুঁকিতে এআই চ্যাটবট ব্যবহারকারীরা

মানসিক ঝুঁকিতে এআই চ্যাটবট ব্যবহারকারীরা
১৫ মার্চ, ২০২৬ ২০:০০  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত চ্যাটবট ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তিকর ধারণা ও ভ্রম সৃষ্টি করতে পারে। সম্প্রতি দ্য ল্যানসেট সাইকিয়াট্রি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে যারা মানসিকভাবে দুর্বল, তাদের জন্য এআই চ্যাটবট বিশেষ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা।

গবেষণাপত্রটির লেখক লন্ডনের কিংস কলেজের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও গবেষক ডা. হ্যামিল্টন মরিন বলেন, এআই চ্যাটবট ব্যবহারকারীদের ‘ভ্রান্ত ধারণা ও অহংকারী মনোভাব’ (গ্রান্ডিওজ ডিলুশন) জোরদার করতে পারে। বিশেষ করে ওপেনএআই-এর জিপিটি-৪ মডেল আধ্যাত্মিক ধরনের ভাষা ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের নিজেদের বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ মনে করিয়ে দেয়। এরকম অনেক উদাহরণ পাওয়া গেছে, যেখানে চ্যাটবটরা ব্যবহারকারীদের নিজেদের ‘ব্রহ্মাণ্ডের বিশেষ সত্তা’ বলে প্রতিপন্ন করেছে।

মরিন বলেন, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও গবেষণাপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যারা আগে থেকেই মানসিক রোগের ঝুঁকিতে ছিলেন, তারাই এআই চ্যাটবটের কারণে বেশি প্রভাবিত হয়েছেন। তবে এখনও প্রমাণ মেলেনি যে চ্যাটবট সরাসরি কাউকে মানসিক রোগী বানিয়ে ফেলতে পারে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডা. ডমিনিক অলিভার বলেন, আগে মানুষ ভিডিও বা বই দেখে তাদের ভ্রান্ত ধারণা জোরদার করত। এখন চ্যাটবট তা অনেক দ্রুত ও জোরালোভাবে করতে পারে। পাশাপাশি এটি কথোপকথনের মাধ্যমেও প্রভাব ফেলে।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকিয়াট্রির অধ্যাপক ডা. রাগি গিরগিস বলেন, চ্যাটবটের নতুন সংস্করণ পুরোনো সংস্করণের তুলনায় কিছুটা উন্নত হলেও তারা এখনও ‘খারাপ’ পারফর্ম করে। তিনি মনে করেন, এআই কোম্পানিগুলো ইচ্ছে করলেই তাদের চ্যাটবটকে নিরাপদ করে তুলতে পারে।

ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের চ্যাটবট পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিকল্প নয়। তারা জিপিটি-৫ নিরাপদ করতে ১৭০ জন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কাজ করেছে। তবে এখনও এতে সমস্যা রয়েছে। অন্যদিকে, অ্যানথ্রপিক এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ডিবিটেক/বিএমটি