জারার পর ফুয়াদেরও অনুদান লক্ষ্য ছুঁলো দ্রুতই
নির্বাচনে নতুন ট্রেন্ড: ফিনটেকে সহজেই মিলছে অনুদান
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণার পাশাপাশি আর্থিক অনুদান পেতেও ডিজিটাল মাধ্যম হয়ে উঠেছে অন্যতম অনুষঙ্গ। এরই মধ্যে নির্বাচনের ব্যয় নির্বাহে ফেসবুকে আর্থিক সহায়তা চেয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও প্রার্থীরা পোস্ট করেছেন। এদের মধ্যে ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা, ঢাকা-১৭ আসনের ডা. তাজনূভা জাবীন, ঢাকা-১২ আসনের তারেক রহমান, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের দিলশানা পারুল, নোয়াখালী-৬ আসনের আব্দুল হান্নান মাসুদ, ময়মনসিংহ-৪ আসনের এমদাদুল হক মিল্লাত এবং বরিশাল-৩ আসনের ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের নাম জানাগেছে। আর্থিক এই অনুদান পেতে এদের সবাই বেছে নেন নিজেদের সোশ্যাল হ্যান্ডেল। আর অনুদানের জন্য ব্যাংকের পাশাপাশি ব্যবহার করছেন মোবাইল ওয়ালেট।
পর্যবেক্ষণে ব্যাংকের চেয়ে এমএফএস হিসাবগুলোতের আর্থিক সহায়তা প্রাপ্তির হার দেখা গেছে বেশি। খুব কম সময়ে যেমন আর্থিক এই সহায়তা মিলছে; তেমনি অনেকের ক্ষেত্রেই প্রচারণার বেধে দেয়া ব্যয়ের চেয়েও উদ্বৃত্ত অর্থ জমা পড়ছে বলে প্রকাশ পেয়েছে। এতে নির্বাচনে ব্যয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অস্বচ্ছতায় একটা বাঁক বদল দেখা দেবে বলে ধারণা খাত সংশ্লিষ্টদের।
সবশেষ ৫ জানুয়ারি নিজের পেজ থেকে ভিডিও বার্তায় চাওয়া আর্থিক অনুদান প্রাপ্তির হিসাব প্রকাশ করেছেন বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ ও মুলাদী) আসনের প্রার্থী আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। ৭ জানুয়ারি (বুধবার) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্ট থেকে জানা যায়, মাত্র ৪৮ ঘন্টা সময়ের মধ্যে সাড়ে ৩৯ হাজার টাকার মতো অনুদান পেয়েছেন তিনি।
এক পোস্টে পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘প্রিয় দেশবাসী, আমার আসনে ভোটার সংখ্যা কমবেশি ৩,৩২,১০১ জন। নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা মোতাবেক ১০ টাকা জন প্রতি আমার খরচের সীমা ৩৩ লক্ষ ২১ হাজার দশ টাকা। আমার পেইজ ও আইডি অ্যাডমিন আমাকে জানিয়েছে যে ৭ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত জমা হয়েছে- বিকাশ মারফত ১৯, ২৩, ৫৫২ টাকা, নগদ মারফত ২,৩৫,০৫৬ টাকা ও ব্যাংকে - ১৮, ০৭, ৯৪৮ টাকা। মোট অনুদান এসেছে ৩৯, ৬৬, ৫৫৬ টাকা।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘দেশ/প্রবাস থেকে যারা অনুদান দিয়েছেন, তাদের সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। হাজার হাজার ভালোবাসার মানুষ ফোন করেছেন, ম্যাসেজ দিয়েছেন যাদেরকে উত্তর দেয়া সম্ভব হয়নি বলে আন্তরিকভাবে দুঃখিত। অতিরিক্ত অনুদানের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ মোতাবেক সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বচ্ছতার স্বার্থে অনুদান সংক্রান্ত সকল কাগজপত্র নির্বাচনের দিন পর্যন্ত অডিট করে প্রকাশ করা হবে এবং নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হবে। নির্বাচন কমিশন বা সরকারের অন্য যে কোন আর্থিক রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠান অডিট করতে চাইলে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। শুকরিয়া।’
এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর প্রথম কোনো প্রার্থী হিসেবে অনুদান চাওয়া ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও তৎকালীন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা মাত্র ৭ ঘণ্টাতেই ১২ লাখ টাকা অনুদান পেয়ে আলোচনায় আসেন। মাত্র ২৯ ঘণ্টায় তার ব্যয়যোগ্য ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৮০ টাকা পেয়ে যান। পরে ঘোষণা দিয়েই তাকে বন্ধ করতে হয় অনুদান গ্রহণ। এসময় তিনি স্পষ্ট করে জানান, কোনো নগদ নয়; পুরো অনুদান সংগ্রহ হয়েছে ফিনটেকের মাধ্যমে।
এদিকে ঢাকা-১৭ আসনের ডা. তাজনূভা জাবীন এনসিপি থেকে পদত্যাগের পর ফেসবুক পোস্টে প্রাপ্ত অনুদান ফেরত দেয়ার কথা উল্লেখ করলেও কত পেয়েছিলেন তার ব্যাখ্যা দেননি। একইভাবে একটি এমএফএস অ্যাকাউন্ট দিয়ে অনুদান চাওয়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) মনোনীত প্রার্থী এমদাদুল হক মিল্লাত এখনও জানাননি। অপরদিকে ঢাকা-১২ আসনের আমজনতার দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান ও নোয়াখালী-৬ আসনের আব্দুল হান্নান মাসুদ কত অনুদান চাওয়ার ৪৮ ঘণ্টা এখনও পূরণ হয়নি।
ডিবিটেক/এমইউএম/ইকে







