২ কোটি শিশু ভার্চুয়াল হেনস্থার শিকার: ইউনিসেফ

২ কোটি শিশু ভার্চুয়াল হেনস্থার শিকার: ইউনিসেফ
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৩২  

বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিশুদের নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বিশ্বের ২১টি দেশের প্রায় দুই কোটি শিশু অনলাইনে যৌন নিপীড়ন ও শোষণের শিকার হয়েছে। 

ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে অন্তত একজন এই ধরনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছে। এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা এবং পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে পরিচালিত এই গবেষণা তথ্যপ্রযুক্তির যুগে শিশুদের সামাজিক সুরক্ষার ঘাটতিকে ব্যাপকভাবে স্পষ্ট করে তুলেছে।

সোশ্যাল মিডিয়া ও গেমের ফাঁদ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন বার্তা ও আপত্তিকর বিষয়বস্তুর মুখোমুখি হয়েছে প্রায় দেড় কোটি শিশু। এছাড়া জোরপূর্বক যৌন আলাপে বাধ্য করা কিংবা সম্মতি ছাড়া ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে অহরহ। এসব অপরাধের প্রায় ৬০ শতাংশই সংঘটিত হয়েছে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকের মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। 

এর বাইরে প্রায় ১৪ শতাংশ ক্ষেত্রে অনলাইন গেইমিং প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করা হয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, অর্ধেকেরও বেশি ক্ষেত্রে নিপীড়নকারী ছিল শিশুর পূর্বপরিচিত কোনো ব্যক্তি। তবে লোকলজ্জা ও ভয়ে শতকরা এক ভাগের কম শিশু বা পরিবার এসব ঘটনার বিষয়ে পুলিশ বা হেল্পলাইনে অভিযোগ দায়ের করেছে।

এআই প্রযুক্তি ও মানসিক বিপর্যয়
বর্তমানে নতুন আতঙ্ক হিসেবে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি। জরিপকৃত নয়টি দেশের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১১ লাখ শিশুর ছবি বিকৃত করে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে ভুয়া যৌন ছবি বা ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। 

অনলাইনে এমন নির্মম হেনস্থার শিকার শিশুরা মারাত্মক মানসিক সংকটে ভুগছে। গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্ত শিশুরা সাধারণ শিশুদের তুলনায় অন্তত চার গুণ বেশি আত্মহত্যার চিন্তা বা নিজেদের ক্ষতি করার প্রবণতায় আক্রান্ত হচ্ছে।

প্রযুক্তি খাতের দায় ও করণীয়
ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল জানিয়েছেন, এসব ঘটনা শিশুদের মনে গভীর মানসিক ক্ষত তৈরি করছে এবং সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে অধিকাংশ শিশু নীরবে সহ্য করে যাচ্ছে। 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মেটা, স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকের মতো প্রযুক্তি দানবগুলো তাদের স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা প্রযুক্তি এবং অ্যাকাউন্ট সুরক্ষার দাবি করলেও বাস্তবে অপরাধ থেমে নেই। ফলে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আন্তর্জাতিক আইন সংশোধন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষায় রাষ্ট্র ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে যৌথভাবে আরও কঠোর হওয়ার তাগিদ দিয়েছে ইউনিসেফ।

ডিবিটেক/বিএমটি   ।   সূত্র: রয়টার্স