সোশ্যাল হ্যান্ডেলে মায়ের পথচলা এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি
মায়ের পথচলা যেখানে থেমেছে, সেখানে থেকে পথযাত্রাকে এগিয়ে নিতে চান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী, দলের চেয়ারপারসন ও মা খালেদা জিয়াকে দাফনের পরদিন ১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন তিনি।
“লক্ষ-লক্ষ মানুষ একসাথে এসে যেভাবে সম্মান জানিয়েছে, ভালোবাসা দিয়েছে এবং এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছে; তা আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে: তিনি শুধু আমার মা ছিলেন না; অনেক দিক থেকে, তিনি ছিলেন সমগ্র জাতির মা,” লিখেছেন তিনি।
দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং উন্নয়ন সহযোগীরা সশরীরে উপস্থিত থেকে খালেদা জিয়াকে যেভাবে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, সেজন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
তিনি আরো লিখেছেন, খালেদা জিয়া সারাজীবন নিরলসভাবে মানুষের সেবা করেছেন। তাই খালেদা জিয়ার “সেই দায়িত্ব ও উত্তরাধিকার” তিনি গভীরভাবে অনুভব করছেন।
‘একাগ্রতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি: যেখানে আমার মা’র পথচলা থেমেছে, সেখানে আমি চেষ্টা করবো সেই পথযাত্রাকে এগিয়ে নিতে। সেই মানুষদের জন্য, যাদের ভালোবাসা ও বিশ্বাস তাকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত শক্তি দিয়েছে, প্রেরণা যুগিয়েছে’।
দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর জানানো হয় ৩০ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) ভোর ছয়টায়। বুধবার বিপুল মানুষের অংশগ্রহণে জানাজার পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে তার স্বামী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়।
এর পর লেখা প্রথম পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘গতকাল, আমার জীবনের এক গভীর শোকের মুহূর্তে, আমি আমার মায়ের শেষ বিদায় দিতে পেরেছি। এটি এমন এক ঐতিহাসিক বিদায়, যা দেশের মানুষের জন্য যথাযথ শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। আর সেটি সম্ভব হয়েছে যাঁদের যত্ন, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের কারণে; তাদের সবাইকে আমি অন্তরের গভীর থেকে ধন্যবাদ জানাই।’
দেশনেত্রীর অন্তিম যাত্রায় অবিরত দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যরা। আপনারা শুধু শৃঙ্খলা বজায় রাখেননি, শোকময় পরিবেশেও মানবিকতার উদাহরণ দেখিয়েছেন। আপনারা আমাদের সবাইকে নিরাপদে রেখেছেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে জানাজায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছেন।
নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সকল নারী ও পুরুষ সদস্যদেরও আমি ধন্যবাদ জানাই, যার মাঝে রয়েছেন মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, র্যাব এবং এপিবিএন। আপনাদের ধৈর্য, সততা ও দায়িত্ববোধের কারণে লক্ষ-লক্ষ মানুষ নিরাপদে একত্রিত হতে পেরেছে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে শোক প্রকাশ ও শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছে, এবং শান্তিপূর্ণভাবে ফিরে যেতে পেরেছে।
যাঁদের কাজ অনেক সময় চোখে পড়ে না, ডিজিএফআই, এনএসআই এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের নিবেদিত সদস্যদের প্রতিও আমি সমানভাবে কৃতজ্ঞ। আপনাদের সতর্কতা ও দায়িত্ববোধের কারণে দিনটি নিরাপদ এবং নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
মাননীয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসও, ডিজি এসএসএফ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, তথ্য ও সম্প্রচার, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক, সংস্কৃতি ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়সমূহের মাননীয় উপদেষ্টাগণ, ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবদানও আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। আপনাদের সমন্বয় এবং উপস্থিতির মাধ্যমে, আমরা শান্তিতে শোক প্রকাশ ও শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরও ধন্যবাদ। তাঁদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে বিদেশি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সরাসরি উপস্থিত হয়ে সমবেদনা জানাতে পেরেছেন। এটা প্রমাণ করে, দেশের সীমানার বাইরে থেকেও আমার মা’র প্রতি কতটা গভীর সম্মান ছিল।
ডিবিটেক/এফবি/ইহক







