শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার দ্রুত বিচার দাবি
বুয়েট শহীদ মিনারে মানববন্ধন
প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের হামলার প্রতিবাদ ও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন বুয়েট অ্যালামনাই। বুয়েটের বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য, বুয়েট শিক্ষক সমিতির সদস্য, জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী, স্থপতি, পরিকল্পনাবিদ এবং বুয়েটের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা এই মানব বন্ধনে অংশ নেন।
‘প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির আন্দোলনে ২৭ আগস্ট পুলিশের অমানবিক হামলার প্রতিবাদে এবং দ্রুত বিচারের দাবিতে’ ১ সেপ্টেম্বর, সোমবার বিকেল ৪টায় বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে অনুষষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বুয়েট অ্যালামনাইয়ের সভাপতি অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত।
এতে মহাসচিব প্রকৌশলী মাহতাব উদ্দিন, ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ কে এম মাসুদ, বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্যরা, সিনিয়র প্রকৌশলী, স্থপতি, পরিকল্পনাবিদ ও অ্যালামনাই সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকৌশল পেশার মর্যাদা ও স্বকীয়তা রক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করে অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেন, প্রকৌশলীদের পথ রুদ্ধ করা যাবে না। যে বিতর্ক দেখা যাচ্ছে, তা গোঁজামিল দিয়ে প্রকৌশলী বানানোর চেষ্টা। যোগ্যতা, দক্ষতার এবং জ্ঞানের প্রশ্নে কম্প্রোমাইজ করা (ছাড় দেওয়া) যাবে না। দেশের স্বার্থে মেধাবীদের তুলে ধরতেই হবে। প্রকৌশল খাতের তরুণেরা যে দাবিতে আন্দোলন করছেন, সেই দাবির সঙ্গে আমি একমত।
বুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি মীর তারেক আলী বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশ বর্বরভাবে শিক্ষার্থীদের লাঠিচার্জ করে এবং সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান নিক্ষেপ করে। প্রকৌশল খাতকে মেধাশূন্য করার যে চক্রান্ত দীর্ঘদিন ধরে হয়ে আসছে, সেটাই দেখা গেল।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, গত বুধবার (২৭ আগস্ট) ঢাকায় প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক অধিকার আদায়ের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অমানবিক হামলা চালিয়েছে পুলিশ। এতে বহু মেধাবী শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।
বক্তারা আরও বলেন, প্রকৌশল পেশার মর্যাদা ও স্বকীয়তা রক্ষায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ন্যায্য। অ্যালামনাই হিসেবে তাঁদের পাশে থাকার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন নেতারা। অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেন, ‘উন্নত বিশ্বের সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে যেতে হলে দেশের মেধাবী প্রকৌশলীদের যথাযথ মূল্যায়ন ও সম্মান নিশ্চিত করা জরুরি।’
প্রসঙ্গত, প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা গত মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগে তিন দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। বুধবার তাঁরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। লাঠিপেটায় আহত হন অনেক শিক্ষার্থী।





