বুয়েটের অধ্যাপক মাকসুদ হেলালীকে কুয়েটের উপাচার্য নিয়োগ
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মো. মাকসুদ হেলালীকে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বৃত্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব এ এস এম কাসেম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ২৪ জুলাই, বৃহস্পতিবার এই নিয়োগের বিষয়ে জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৩-এর ১০ (১) ধারা অনুযায়ী ড. মো. মাকসুদ হেলালী, অধ্যাপক (অব.) ডিপার্টমেন্ট অব মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-কে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো।’
গত ১০ জুন কুয়েটে উপাচার্য নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার দেড় মাসের মাথায় ড. মো. মাকসুদ হেলালীকে এ পদে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হলো। দেশের ইতিহাসে তিনিই প্রথম বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন করে উপাচার্য নিয়োগ পেলেন।
নিয়োগের শর্তে বলা হয়েছে, উপাচার্য হিসেবে তার নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর হবে। তিনি বুয়েট থেকে অবসর গ্রহণের আগে যে পরিমাণ বেতন-ভাতা পেতেন, তার সমপরিমাণ বেতন-ভাতা প্রাপ্য হবেন। তিনি বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। ঘটনার জের ধরে পরে আন্দোলনের মুখে ২৬ এপ্রিল উপাচার্য ও সহ–উপাচার্যকে অপসারণ করে সরকার। ১ মে চুয়েটের অধ্যাপক হজরত আলীকে অন্তর্বর্তী উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও শিক্ষকদের বিরোধিতার মুখে ২২ মে তিনি পদত্যাগ করেন। ১০ জুন উপাচার্য নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বুধবার অচলাবস্থা নিরসন ও দ্রুত শিক্ষা কার্যক্রম চালুর জন্য উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন করে শিক্ষক সমিতি। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরাও কিছুদিন ধরে দ্রুত উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে কুয়েটে সব রকমের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
শিক্ষক সমিতির ক্লাস বর্জন কর্মসূচি ও ক্যাম্পাস বন্ধের কারণে গত ৫ মাস ধরে কুয়েটে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সংকট নিরসনের জন্য শিক্ষক সমিতি দ্রুত উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছে। উপাচার্য নিয়োগ হওয়ায় এবার তাদের ক্লাস শুরুর অনুরোধ জানিয়েছেন অভিভাবকরা।



