ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের ‘লাল কার্ড’ দেখালো চুয়েট
দেশব্যাপী চলমান প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের ‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে বিক্ষোভ করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা।
১ সেপ্টেম্বর, সোমবার বিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনের সামনে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীরা ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘কোটা না মেধা, মেধা, মেধা’, ‘কোটার নামে বৈষম্য, চলবে না, চলবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের কারণে প্রকৌশল পেশায় বিএসসি ডিগ্রিধারীরা পদোন্নতি ও নিয়োগে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। সরকারি চাকরির দশম গ্রেডে একচেটিয়া শতভাগ ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের নিয়োগ হচ্ছে। নবম গ্রেডে পদোন্নতিতেও ৩৩ শতাংশ কোটা আছে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের। জুলাই অভ্যুত্থানের পরও চাকরিক্ষেত্রে এ রকম অন্যায্য কোটা থাকা শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি।
এর আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের হামলার প্রতিবাদে ৩১ আগস্ট রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক জিডি ও প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন দমন চেষ্টার প্রতিবাদে ‘মিট দ্য জাস্টিস’ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
চুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আতফান বিন নূর বলেন, আমরা দেখেছি ঢাকায় প্রকৌশলীদের যৌক্তিক আন্দোলনে আমাদের ভাইদের ওপর হামলা হয়েছে। চবি ও বাকৃবি শিক্ষার্থীদের ওপরও ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে। অথচ এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। এটি ইন্টারিম গভর্নমেন্টের ব্যর্থতা নির্দেশ করে। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
যন্ত্রকৌশল বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহি আল ওয়াহিদ বলেন, আমাদের ভাই-বোনদের ওপর যারা এমন বর্বর হামলা চালিয়েছে তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে শাস্তি দিতে হবে। আমরা চাই, দেশে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে তা যেন শিগগিরই সমাধান হয় ও দেশের স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।
বেশ কয়েক মাস ধরে সরকারি চাকরিতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে আন্দোলন করছেন বুয়েট, চুয়েট, কুয়েট, রুয়েটসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবিগুলো হলো প্রকৌশল নবম গ্রেডে সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদে প্রবেশ পরীক্ষার মাধ্যমে করার বিধান রাখা, কারিগরি দশম গ্রেডে উপসহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদ সবার জন্য উন্মুক্ত করা এবং বিএসসি ডিগ্রিধারী ছাড়া অন্য কেউ প্রকৌশলী পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না মর্মে আইন পাস করে গেজেট প্রকাশ করা।







