শুধু প্রযুক্তি নয়, মানসিকতারও উন্নয়ন চাই
বগুড়াসহ সাত জেলায় ই-বেইলবন্ড (অনলাইনে জামিননামা দাখিল) কার্যক্রম চালু হয়েছে। আর এই ‘ই-বেইলবন্ড’র মাধ্যমে জামিন পরবর্তী কারামুক্তির দীর্ঘসূত্রিতা ও দুর্ভোগ নিরসন হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, “শুধু প্রযুক্তির উন্নয়নই নয়; আমরা মানসিকতারও উন্নয়ন চাই। আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যে বিচার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী কিংবা মন্ত্রী, পুলিশ কর্মকর্তা কিংবা কর্মকর্তা এবং একজন সাধারণ নাগরিকের মধ্যে কোনো তফাৎ থাকবে না। যে বিচার ব্যবস্থা থাকবে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অনবদ্য পাদপীঠ।
“আমরা বিশ্বাস করি, অ্যাকসেস টু জাস্টিস ফর অল । ন্যায়বিচার কোনো দয়া বা করুণার বিষয় নয়। এটি প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। আজকের এই ডিজিটাল উদ্যোগ সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে একটি বিশাল মাইলফলক।”
২০ এপ্রিল, সোমবার দুপুরে বগুড়া জেলা আদালতে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম উদ্বোধনের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। বেলা পৌনে ১১টার দিকে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজের সম্মেলনকক্ষে সুইচ টিপে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। বগুড়া, রাজশাহী, নাটোর, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা ও কুষ্টিয়ায় একযোগে এই সেবা চালু করা হয়।
এর আগে ৯টি জেলায়—নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, বান্দরবান, মেহেরপুর, জয়পুরহাট, মৌলভীবাজার, পঞ্চগড়, ঝালকাঠি ও শেরপুর—এ কার্যক্রম চালু হয়েছে। বিচার বিভাগের ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ই-বেইলবন্ড পদ্ধতিতে বিচারকের স্বাক্ষরের পর বেইল বন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট কারাগারে পৌঁছে যাবে। ফলে আটক ব্যক্তি কয়েক ঘণ্টা অথবা সর্বোচ্চ এক দিনের মধ্যেই মুক্তি পাবেন। মধ্যবর্তী অপ্রয়োজনীয় ধাপগুলো বিলুপ্ত হবে। তা ছাড়া কে কখন স্বাক্ষর করছেন, তা ডেটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে। এতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। বিচারপ্রার্থীরা অপ্রয়োজনীয় সময়, অর্থ ও মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের যাতায়াত খরচ হ্রাসসহ সরকারের অপ্রয়োজনীয় কারা ব্যয় সাশ্রয় হবে।
ডিবিটেক/এমএআর/ইকে







