ডিজিটাল হেলথ সিল্ক রোড গড়ার আহ্বান মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের
ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ‘বিলাসিতা নয়; ‘লাইফলাইন’
- ডিজিটাল হেলথ সিল্ক রোডের আহ্বান
- স্বাস্থ্যসেবায় এআই ও প্রযুক্তি সহযোগিতা
- বাংলাদেশের বৈশ্বিক অংশীদার হওয়ার অঙ্গীকার
উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তির সমতাভিত্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ‘ডিজিটাল হেলথ সিল্ক রোড’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি একটি ‘লাইফলাইন’ বা জীবনরক্ষাকারী অবকাঠামো।
২২ জুলাই, বুধবার চীনের শানসি প্রদেশের ঐতিহাসিক নগরী শি'আনের শি'আন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে দুপুরে অনুষ্ঠিত ‘ডিজিটাল অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্ট হেলথ ফোরাম’ এবং নবগঠিত ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ডিজিটাল অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্ট হেলথ’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ফোরামটি ২০২৬ ওয়ার্ল্ড ইন্টারনেট কনফারেন্স (WIC) ডিজিটাল সিল্ক রোড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম-এর অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এমন একটি ডিজিটাল রূপান্তর বাস্তবায়ন করছে, যেখানে কাউকে পিছিয়ে রাখা হবে না। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নগরকেন্দ্র পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে সরকার একীভূত ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা (Unified Digital Health System) গড়ে তুলছে।
তিনি জানান, প্রবর্তনাধীন জাতীয় স্বাস্থ্য কার্ড (National Health Card) চিকিৎসকদের দেশের যেকোনো স্থান থেকে রোগীর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যতথ্যে প্রবেশাধিকার দেবে। এর ফলে প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের একজন মা এবং রাজধানী ঢাকার একজন রোগী সমমানের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন (WAIC)-এ দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডেটা সার্বভৌমত্ব এবং প্রযুক্তিতে সমতাভিত্তিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে হবে।
ডিজিটাল হেলথ সিল্ক রোড বাস্তবায়নে তিনি তিনটি প্রধান স্তম্ভের প্রস্তাব দেন। এগুলো হলো— যৌথ গবেষণা ও প্রযুক্তি হস্তান্তর, আন্তর্জাতিক ইন্টারঅপারেবিলিটি ও অভিন্ন কারিগরি মানদণ্ড এবং মানবকেন্দ্রিক ও নৈতিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন।
এছাড়া বৈশ্বিক ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য নিরাপত্তা, সমতা, অভিযোজনযোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে চারটি মৌলিক অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, প্রাচীন সিল্ক রোড যেমন পণ্য, জ্ঞান ও সংস্কৃতির আদান-প্রদানের পথ ছিল, তেমনি ডিজিটাল যুগে একটি ডিজিটাল হেলথ সিল্ক রোড হাসপাতাল, গবেষক, চিকিৎসক এবং রোগীদের একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে পারে। এ উদ্যোগে বাংলাদেশ একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত।
চীন সরকারের অর্থায়নে বিশ্ব ইন্টারনেট কনফারেন্স (WIC) বা 'উঝেন সামিট' (Wuzhen Summit) সচিবালয় আয়োজিত এই সিল্ক রোড ফোরামটিতে উপস্থিত ছিলেন চীনের সাইবারস্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের শীর্ষ কর্মকর্তা, শানসি প্রদেশের নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও চীনা গ্লোবাল মিডিয়া আউটলেটগুলোর বরাতে জানা যায়, বেইজিংয়ের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI)-এর আওতায় স্বাস্থ্যখাতকে ডিজিটালাইজড করার অন্যতম প্রধান মাইলফলক এই ‘ডিজিটাল হেলথ ওয়ার্কিং গ্রুপ’।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জোর দিয়ে বলেন, "প্রযুক্তি যেন মানুষের সেবা করে, মানুষ যেন প্রযুক্তির দাসে পরিণত না হয়।" প্রাচীন সিল্ক রোড যেমন কেবল বাণিজ্য নয়, বরঞ্চ জ্ঞান, ভেষজ বিদ্যা ও আরোগ্য বিনিময় করেছিল, একবিংশ শতাব্দীর এ ডিজিটাল সিল্ক রোডও বৈশ্বিক বৈষম্য দূর করে মানবকল্যাণে কাজ করবে বলে বাংলাদেশ আশা প্রকাশ করে।
২১-২২ জুলাই অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও কম্বোডিয়া, আলজেরিয়া, জাম্বিয়া, কিউবা, নিকারাগুয়া, মরক্কো, সুদান, তিউনিসিয়া, রাশিয়া, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
//ডিবিটেক/আইএইচ/এসএমই//





