পরামর্শের জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগের সুযোগ দিল ট্রাইব্যুনাল

ভার্চ্যুয়ালি বিচারে যুক্ত হলেন জিয়াউল আহসান

  • শতাধিক গুম ও হত্যার অভিযোগে ভার্চ্যুয়ালি বিচারে অংশ নেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান
  • শুনানিকালে আইনজীবীর সাথে মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের অনুমতি দিল ট্রাইব্যুনাল
  • এনটিএমসি সংক্রান্ত অভিযোগ ও তদন্ত কর্মকর্তার প্রথম দিনের জেরা সম্পন্ন ট্রাইব্যুনালে

ভার্চ্যুয়ালি বিচারে যুক্ত হলেন জিয়াউল আহসান
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:০৯  

শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানিতে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) কারাগার থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে অংশ নিয়েছেন অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই ভার্চ্যুয়াল প্রযুক্তিনির্ভর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় আধুনিক ভার্চ্যুয়াল ও ডিজিটাল টেলিকমিউনিকেশন প্রটোকল প্রয়োগ করে শুনানিকালে জিয়াউল আহসানকে ফোনে তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামকে জেরা করার নির্ধারিত প্রথম দিনে শুনানির শুরু থেকেই জিয়াউল আহসান কারাগার থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত হন। ট্রাইব্যুনালের এজলাসের দেয়ালে টাঙানো দুটি বড় মনিটর এবং বিচারপতি, বিচারক, প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সবার কম্পিউটার স্ক্রিনে তাঁকে সরাসরি দেখা যায়।

তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা শুরুর আগে জিয়াউল আহসানের আইনজীবী ও বোন নাজনীন নাহার একটি আবেদনের শুনানি করেন। তিনি এর আগে কারাগার থেকে জিয়াউল আহসানকে একা আনা-নেওয়ার বদলে অন্য আসামিদের সঙ্গে আনা-নেওয়ার যে আবেদন করেছিলেন, সেটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান এবং জিয়াউল আহসানকে সশরীর ট্রাইব্যুনালে হাজির রেখে শুনানির দাবি জানান। ট্রাইব্যুনাল জানান যে, গত ৮ অক্টোবর শুনানি শেষে আদেশ দেওয়া হয়েছিল যে তিনি ভার্চ্যুয়ালি অংশ নেবেন এবং বিষয়টি ইতোমধ্যে মীমাংসিত।

আইনজীবী নাজনীন নাহার জেরাকালে সম্পূরক প্রশ্ন ও পরামর্শের জন্য আসামির সশরীর উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরলে ট্রাইব্যুনাল এক প্রসংগমুখী আদেশে জানান, শুনানি চলাকালে ভার্চ্যুয়ালি কারাগারে থাকা আসামির কাছে একটি ট্র্যাকিংযুক্ত মুঠোফোন থাকবে এবং ট্রাইব্যুনালে থাকা আইনজীবীর কাছেও একটি মুঠোফোন থাকবে। প্রয়োজনে আসামি তার আইনজীবীকে মুঠোফোনে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কল দিতে পারবেন, যার সিমকার্ড আসামিপক্ষ সরবরাহ করবে। এ ছাড়া শুনানির দিনগুলোতে সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত আইনজীবী ও আসামি হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলতে পারবেন। ভার্চ্যুয়ালি শুনানির সময় জিয়াউল আহসান হাত তুললে ট্রাইব্যুনালে সরাসরি কথা বলার সুযোগও রাখা হয়েছে।

এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী, যেখানে এনটিএমসির ডিজিটাল নজরদারি, ফোন আড়ি পাতা ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগ সংক্রান্ত নথিপত্র এবং সর্বশেষ তদন্ত তথ্য উপস্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে ভার্চ্যুয়াল শুনানি শেষে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

//ডিবিটেক/এসবিএন/এসএমপি/এমভিএনও/ডিপিওই//