যুক্তরাজ্যে এশীয় রেস্তোরাঁর স্বীকৃতি
আরতা ২০২৬-এ সেরা মাই দিল্লি নিউক্যাসল
- ‘চ্যাম্পিয়ন অব চ্যাম্পিয়নস’ পুরস্কার জিতেছে নিউক্যাসলের মাই দিল্লি
- যুক্তরাজ্যজুড়ে ১ হাজার ২৫০টির বেশি রেস্তোরাঁ ও টেকওয়ে মনোনয়ন পেয়েছে
- শেফঅনলাইন, ওয়ার্ক পারমিট ক্লাউড, এনআরবি ব্যাংক ও কেমব্রিজ রিজিওনাল কলেজ সহযোগিতা করেছে
যুক্তরাজ্যের এশীয় রেস্তোরাঁ ও খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সাফল্য, উদ্ভাবন এবং মানসম্মত সেবার স্বীকৃতি হিসেবে আয়োজিত এশিয়ান রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড টেকওয়ে অ্যাওয়ার্ডস (আরতা) ২০২৬-এর সর্বোচ্চ সম্মান ‘চ্যাম্পিয়ন অব চ্যাম্পিয়নস’ জিতেছে নিউক্যাসল আপন টাইনের রেস্তোরাঁ মাই দিল্লি নিউক্যাসল। গত সোমবার (১২ অক্টোবর) লন্ডনের অভিজাত হিলটন হোটেলে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে এবারের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রেস্তোরাঁমালিক, শেফ, ব্যবসায়ী ও আতিথেয়তা খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এবারের পুরস্কারের জন্য দেশজুড়ে ১ হাজার ২৫০টির বেশি রেস্তোরাঁ ও টেকওয়ে প্রতিষ্ঠান মনোনয়ন পেয়েছিল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের রচডেল আসনের সংসদ সদস্য পল ওয়াহ, অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী লরেন গটলিব এবং ভারতের সংগীতশিল্পী ও লোকসভার সাবেক সদস্য হংস রাজ হংস। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন টেলিভিশন সংবাদ উপস্থাপক সামান্থা সিমন্ডস ও ব্রিটিশ কৌতুকশিল্পী পল সিনহা।
আরতার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুনিম বিজয়ী এবং চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়া সব প্রতিষ্ঠানকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের এশীয় রেস্তোরাঁ ও টেকওয়ে খাতের উদ্যোক্তা, শেফ এবং কর্মীদের নিষ্ঠা, সৃজনশীলতা ও মানসম্মত সেবা দেওয়ার অঙ্গীকার এ শিল্পকে এগিয়ে নিচ্ছে। তাঁর মতে, এ শিল্প শুধু খাবার পরিবেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ব্রিটেনের বহুসাংস্কৃতিক সমাজেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের আতিথেয়তা খাতের চলমান সংকটের কথাও তুলে ধরেন মোহাম্মদ মুনিম। তিনি বলেন, কর্মীদের বেতন, খাদ্যপণ্য, জ্বালানি এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। তা সত্ত্বেও স্বাধীন রেস্তোরাঁগুলো খাবারের মান, কর্মীদের দক্ষতা ও গ্রাহকসেবায় বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে।
যুক্তরাজ্যের এশীয় রেস্তোরাঁ ও টেকওয়ে শিল্পের উৎকর্ষ, উদ্ভাবন এবং পেশাগত সাফল্যকে স্বীকৃতি দিতে প্রতিবছর আরতা পুরস্কারের আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে ব্রিটেনের বহুসাংস্কৃতিক সমাজ, স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে এশীয় রেস্তোরাঁগুলোর অবদান তুলে ধরাও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
আরতা ২০২৬-এর কৌশলগত অংশীদার ছিল যুক্তরাজ্যভিত্তিক অনলাইন খাবার অর্ডার ও টেবিল বুকিং প্ল্যাটফর্ম শেফঅনলাইন। প্রতিষ্ঠানটি ১০ লাখের বেশি গ্রাহককে সেবা দিয়ে আসছে। আরতার মনোনয়ন কার্যক্রমে শেফঅনলাইন গ্রাহকদের নিজেদের পছন্দের রেস্তোরাঁর নাম প্রস্তাব করার সুযোগ দেয়।
অনুষ্ঠানে সহযোগী পৃষ্ঠপোষক হিসেবে যুক্ত ছিল ওয়ার্ক পারমিট ক্লাউড। গোল্ড পার্টনার হিসেবে সহযোগিতা করে এনআরবি ব্যাংক। এ ছাড়া আতিথেয়তা খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও পেশাগত উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরে এবারের আয়োজনে দক্ষতা উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে যুক্ত ছিল কেমব্রিজ রিজিওনাল কলেজ।
আয়োজকদের মতে, রেস্তোরাঁ ব্যবসার সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শেফ ও আতিথেয়তা খাতের পেশাজীবীদের উৎসাহিত করাও আরতার লক্ষ্য। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে এ শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে চায় সংগঠনটি।
বিজয়ীদের সম্মাননা প্রদান এবং যুক্তরাজ্যের এশীয় রেস্তোরাঁশিল্পের অবদান তুলে ধরার মধ্য দিয়ে শেষ হয় আরতা ২০২৬-এর গ্র্যান্ড ফিনালে ও গালা অনুষ্ঠান.
//ডিবিটেক/এইচএএইচএন/এসভিপি/এমআইএসটি//





