সুপ্রিম কোর্ট অডিটরিয়ামে আইনমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য

সাইবার আইনে সাংবাদিকদের উদ্বেগ বিবেচনা করবে সরকার

  • সাইবার আইন সংশোধনে সাংবাদিকদের উদ্বেগ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে আইন মন্ত্রণালয়
  • সোশ্যাল মিডিয়া ও এআই প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইনের প্রয়োজনীয়তায় সর্বসম্মত মত
  • প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা খসড়াটি পরবর্তীতে বিল আকারে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হবে

সাইবার আইনে সাংবাদিকদের উদ্বেগ বিবেচনা করবে সরকার
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:২৮  

সোশ্যাল মিডিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রস্তাবিত সাইবার আইনের খসড়া তৈরিতে সাংবাদিকদের উদ্বেগ গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় রাখা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

১৩ অক্টোবর, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট অডিটরিয়ামে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই আশ্বস্ত বার্তা দেন। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও এআই নিরাপত্তা ব্যবস্থার সাথে সংগতি রেখে খসড়া আইনটি প্রণয়ন করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এতে গণমাধ্যমকর্মীদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।

আইনমন্ত্রী জানান, সাইবার আইন নিয়ে বর্তমানে পাবলিক কনসাল্টেশন চলছে এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্য থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষকে যেভাবে হ্যারাসমেন্ট বা অ্যাবিউজ করা হচ্ছে এবং বিশেষ করে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে যেভাবে ক্ষতিসাধন করা হচ্ছে, তার হাত থেকে নাগরিকদের রক্ষা করতে একটি সমন্বিত আইন হওয়া প্রয়োজন- এই একটি জায়গায় সবাই একমত হয়েছেন।

আইনের ভাষা ও প্রয়োগ নিয়ে তিনি জানান, খসড়ার ভাষা কেমন হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন অংশীজন থেকে নানা মতামত আসছে। সরকার সেগুলো পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার পর পার্লামেন্টে বিল আকারে এগিয়ে যাবে। আইনটি এখনও একেবারেই প্রাথমিক বা ‘র’ স্টেজে রয়েছে এবং চূড়ান্ত ড্রাফটিংয়ের পর্যায়ে এখনও পৌঁছায়নি।

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও আইনটির অপব্যবহার সংক্রান্ত উদ্বেগ নিয়ে তিনি জানান, সাংবাদিকদের কনসার্নের জায়গাগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে। অতীতের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রচলিত কোনো আইনে- এমনকি আগের ড্রাকোনিয়ান ল’ এর অধীনেও খুব বেশি মামলা হয়েছে বলে মনে হয় না। তবুও অতীতে ৫৭ ধারা কিংবা ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের যে অপব্যবহার হয়েছে, সে বিষয়টি সরকারের মাথায় রয়েছে এবং তা বিবেচনায় রেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিতর্কিত সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩ রহিত করে সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছিল। পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অধ্যাদেশটি ‘সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬’ নামে পাস হলেও তখনই সরকারের দিক থেকে আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার কথা বলা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় সরকার নতুন খসড়া প্রস্তুত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও দেশীয় অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় শুরু করেছে, যা মন্ত্রিসভার অনুমোদন শেষে সংসদে উত্থাপিত হবে বলে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান আইনমন্ত্রী। 

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী, সুইডেনের অ্যাম্বাসেডর নিকোলাস উইকস, ইউএনডিপি বাংলাদেশের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টিটিভ স্টেপেন রদরিগ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

//ডিবিটেক/বিএনআর/এসএমপি/এমভিএনও/ডিপিওই//