স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে ডাক্তারদের তথ্যে নানা ভিন্নতা

চুয়েটে ২৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ উপাচার্য শরীফুল আলম

  • চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল আলম অবরুদ্ধ
  • চিকিৎসকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উপাচার্যের রক্তচাপ ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে তথ্যের ভিন্নতা
  • প্রশাসনিক সহযোগিতা চেয়ে নিজেকে ভবনের আলাদা কক্ষে বন্দি রেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

চুয়েটে ২৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ উপাচার্য শরীফুল আলম
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:২১  

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) কারিগরি ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার মধ্যে প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে নিজ কার্যালয় ভবনে অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। ১২ অক্টোবর, সোমবার দুপুর ১২টা থেকে তিনি উপাচার্য ভবনের ভেতরে অবস্থান করছেন। ১৩ অক্টোবর, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসকদের ওই তালাবদ্ধ ভবনে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। প্রকৌশল শিক্ষার শীর্ষ এই প্রতিষ্ঠানে সৃষ্ট এই জরুরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পরবর্তীতে কয়েকজন গণমাধ্যম প্রতিনিধিকেও ভবনের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেয় আন্দোলনকারীরা।

ভবনের ভেতরে সরেজমিনে দেখা যায়, সেখানে বেশ কয়েকজন অবস্থান করছেন। তবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম নিজেকে একটি আলাদা কক্ষে অবরুদ্ধ রেখেছেন। ওই কক্ষে তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন অবস্থান করছেন এবং পাশের আরেকটি কক্ষেও কয়েকজনকে অবস্থান করতে দেখা যায়।

গণমাধ্যমকর্মীরা উপাচার্যের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চাইলে তিনি প্রথমে রাজি হননি। পরে নিজ কক্ষের দরজার সামনে এসে তিনি জানান, তারা সেখানে খুবই অমানবিক অবস্থায় আছেন। এই অবস্থায় তারা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন এবং তারা কীভাবে সহযোগিতা করবে, সেটা তাদের বিষয়।

চিকিৎসকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা

দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে না পেরে প্রথমে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফিরে যান। পরে দুপুর দেড়টার দিকে পুনরায় চিকিৎসক দেখানোর আগ্রহ প্রকাশ করা হলে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে চিকিৎসক ডা. মো. সাহাবউদ্দিনকে সেখানে নেওয়া হয়।

চিকিৎসক ডা. মো. সাহাবউদ্দিন জানান, তিনি উপাচার্যের নাড়ির স্পন্দন ও রক্তচাপ মেপে দেখেছেন, যা বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। উপাচার্য তাঁর কাছে বুকে ব্যথা অনুভবের কথা বলেননি এবং হাসপাতালে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি।

পরে দুপুর ২টার দিকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. টিবলু কান্তি দে সেখানে গিয়ে উপাচার্যের দ্বিতীয় দফায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এ সময় তিনি উপাচার্যের নাড়ির স্পন্দন ও রক্তচাপ পরিমাপ করেন।

বুকে ব্যথা অনুভব করছেন কি না, জানতে চাইলে উপাচার্য চিকিৎসককে জানান, সকাল ১০টা থেকে তাঁর বুকে ব্যথা ছিল, তবে ধীরে ধীরে তা কমে এসেছে। এ সময় তিনি নিয়মিত রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ সেবন করেন না বলেও জানান, তবে কোন ওষুধ সেবন করেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্মরণ করতে পারেননি।

পরীক্ষার সময় চিকিৎসক ডা. টিবলু কান্তি দে প্রথমে উপাচার্যের রক্তচাপ ১৪০/১০০ মিলিমিটার পারদচাপ (মিমি পারদ) পান বলে জানা যায়। পরে বাইরে এসে তিনি রক্তচাপ ১৫০/১০০ মিমি পারদ বলে জানান এবং উপাচার্যের বুকে ব্যথা অনুভবের কথা উল্লেখ করেন।

রক্তচাপ পরিমাপে ভিন্নতা

দুই দফায় রক্তচাপের পরিমাপ ও উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে দেওয়া তথ্যে ভিন্নতা দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা পুনরায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন। এ জন্য চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. মো. সাহাবউদ্দিন এবং রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. টিবলু কান্তি দেকে আবারও উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়।

পুনরায় পরীক্ষার সময় দুই চিকিৎসকের পরিমাপেও রক্তচাপের কিছুটা পার্থক্য পাওয়া যায়। রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক উপাচার্যের ডান হাতে রক্তচাপ ১৪৫/১০০ মিমি পারদ পান। অন্যদিকে, চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. সাহাবউদ্দিন একই হাতে রক্তচাপ ১৩৯/১০০ মিমি পারদ পরিমাপ করেন।

বাম হাতে রক্তচাপ পরিমাপের ক্ষেত্রে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ১৩৫/১০০ মিমি পারদ পান, যার বিপরীতে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. সাহাবউদ্দিন পরিমাপ করেন ১৩০/১০০ মিমি পারদ। সার্বিক পরিস্থিতিতে উপাচার্য ভবনের পরিবেশ থমথমে রাখা হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়।

//ডিবিটেক/মো: রাকিব হাসান/এসভিপি/এমআইএসটি//