নজরদারিতে সাত হাজার নির্দেশক, ওআইএসএস প্রযুক্তি চালু হচ্ছে প্রথমবারের মতো

রূপপুরে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্থাপন সম্পন্ন

  • প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে
  • ৪৩টি উপব্যবস্থায় প্রায় ২০ হাজার যন্ত্রপাতি যুক্ত রয়েছে
  • ডিজিটাল টুইন সফটওয়্যার ৩৬০টি প্রক্রিয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে অপারেটরদের সহায়তা করবে

রূপপুরে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্থাপন সম্পন্ন
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:২৯  

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটে চুল্লির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য ত্রুটি শনাক্তে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে চুল্লির স্থিতিশীলতাসহ সাত হাজারের বেশি নির্দেশক সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি, জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মীদের সহায়তা করবে বিশেষ সফটওয়্যার।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের মিডিয়া উইং থেকে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমস এ ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে। এতে ৪৩টি উপব্যবস্থার অধীনে প্রায় ২০ হাজার যন্ত্রপাতি রয়েছে। এসব যন্ত্রপাতির সাহায্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

এ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে ‘অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম’ নামের বিশেষ সফটওয়্যার। ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তিতে তৈরি এ সফটওয়্যার বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য বিচ্যুতি শনাক্ত করতে পারবে। প্রথম ইউনিটে সফটওয়্যারটি যুক্ত করা হয়েছে এবং এটি প্রাথমিক চালুকরণ কার্যক্রমে সহায়তা করছে। দ্বিতীয় ইউনিটেও সফটওয়্যারটি স্থাপন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সফটওয়্যারটি ৩৬০টি প্রক্রিয়াসংশ্লিষ্ট ব্যবস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। সম্ভাব্য সমস্যা শনাক্ত করার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে ৮০টির বেশি নির্দেশিকার ভিত্তিতে অপারেটরদের পরামর্শ দেবে এটি। এর ফলে জটিল তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ বলেন, “রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র শুধু রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতার বৃহত্তম প্রকল্পগুলোর একটি নয়, আধুনিক স্বয়ংক্রিয়করণ ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এটি একটি অগ্রণী প্রকল্প। বিদেশে রোসাটমের নির্মিত কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রে এই প্রথম অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, এই ব্যবস্থা জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার সময় কমাবে, পরিচালন ব্যয় হ্রাস করবে এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মীদের জন্য নির্ভরযোগ্য সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।

জেনারেশন ৩+ প্রযুক্তির দুটি ভিভিইআর-১২০০ চুল্লি নিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। এতে দুটি ভিভিইআর-১২০০ চুল্লি রয়েছে, যার প্রতিটির বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। রোসাটমের প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

//ডিবিটেক/আরকেইসি//এসভিপি/এমআইএসটি//