মোট চুক্তি ২৫টি উড়োজাহাজের

বিমান ১১টি অতিরিক্ত বোয়িং কিনছে

  • নতুন চুক্তিতে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ও ছয়টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স রয়েছে
  • প্রথম উড়োজাহাজ ২০৩১ সালের নভেম্বরে, শেষটি ২০৩৫ সালের মধ্যে সরবরাহের কথা
  • এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার আলোচনা চলছে; অন্তত একটি আগাম সরবরাহ চেয়েছে বিমান

বিমান ১১টি অতিরিক্ত বোয়িং কিনছে
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৫৭  

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করতে বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে সরকার। আগের ১৪টির সঙ্গে মিলিয়ে বোয়িংয়ের কাছ থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হলো। পরিকল্পনায় রয়েছে দীর্ঘপাল্লার ও আঞ্চলিক রুটের জন্য আলাদা ধরনের উড়োজাহাজ; পাশাপাশি এয়ারবাসের কাছ থেকেও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার আলোচনা চলছে।

২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ১৪টি বোয়িং কেনার চুক্তি সই হয়েছিল। ওই চুক্তির “Right to Purchase Additional Aircraft” ধারার আওতায় ২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার, নিউইয়র্কে আরও ১১টি বোয়িং কেনার চুক্তি সই হয়েছে।

নতুন চুক্তির ১১টি উড়োজাহাজের মধ্যে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ও ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স। ৩০ এপ্রিলের চুক্তিতে নির্ধারিত একই দরে সম্পূরক চুক্তিটি করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
সব মিলিয়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯, ১৩টি বোয়িং ৭৮৭-১০—মোট ১৫টি ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ—এবং ১০টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম উড়োজাহাজ ২০৩১ সালের নভেম্বরে এবং শেষটি ২০৩৫ সালের মধ্যে সরবরাহ করার কথা। তবে ২০২৭–২৮ সালের মধ্যে অন্তত একটি উড়োজাহাজ সরবরাহের অনুরোধ করেছে বিমান।

এ ছাড়া এয়ারবাসের কাছ থেকে চারটি এ৩৫০-৯০০ ও ছয়টি এ৩২১ নিও কেনার লক্ষ্যে আলোচনা চলছে। মন্ত্রী বলেন, টেকসই মিশ্র বহর গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার।

ক্রয়পরিকল্পনার ব্যাখ্যায় মন্ত্রী বলেন, যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী বিমানের নেটওয়ার্ক ও বহর পরিকল্পনা, উড়োজাহাজের পাল্লা ও যাত্রী ধারণক্ষমতা, প্রতি ফ্লাইটে সম্ভাব্য যাত্রী এবং সাপ্তাহিক ফ্লাইটের সংখ্যা বিবেচনা করে ওয়াইড-বডি ও ন্যারো-বডি উড়োজাহাজের সংখ্যা ঠিক করা হয়েছে। ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ মূলত মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চ চাহিদার রুট এবং ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘ রুটে চলবে। ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ ব্যবহার হবে আঞ্চলিক ও স্বল্পদূরত্বের রুটে; এগুলো বিমানের পুরোনো ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজও প্রতিস্থাপন করবে।

তিনি বলেন, বহর সম্প্রসারণে বিমান ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের মডেল অনুসরণ করছে। একসময় ছোট ঐতিহ্যবাহী পরিবহন সংস্থা থাকা ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বহরে এখন ১৬৭টি উড়োজাহাজ রয়েছে; বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবহন সংস্থা বিমানের বহরে রয়েছে মাত্র ১৯টি। মন্ত্রীর ভাষ্য, ইথিওপিয়ার তুলনায় বাংলাদেশের জিডিপি বেশি এবং বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রী চাহিদাও বেশি। বর্তমানে বিমান দেশের মোট চাহিদার ২০ শতাংশের কিছু বেশি পূরণ করতে পারছে; বাকি ৮০ শতাংশ বিদেশি এয়ারলাইন্স বহন করছে।

উড়োজাহাজের ঘাটতি কমাতে সরকার সময়োপযোগী ক্রয় উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি। এ সিদ্ধান্তে কোনো ভূরাজনৈতিক প্রভাব নেই বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

ক্রয়ের অর্থায়ন সম্পর্কে তিনি বলেন, বিমান একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। নিজস্ব আয় ও উপযুক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে উড়োজাহাজগুলোর মূল্য পরিশোধ করা হবে। সরবরাহ ধাপে ধাপে হওয়ায় অর্থ পরিশোধও ধাপে ধাপে হবে। বিমানের আর্থিক সক্ষমতা, রুট থেকে আয় এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বিবেচনা করেই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে; তাই সরাসরি জাতীয় বাজেটের ওপর চাপ পড়বে না।
//ডিবিটেক//টিআইপি/এসএমই/বিপিও//