ডিসেম্বরে সম্পন্ন হবে সব চালান

রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ শুরু অক্টোবরে

  • প্রথম ইউনিটের জন্য ৪৮টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি আসবে দুটি বিশেষ কার্গো ফ্লাইটে
  • পাকিস্তানের আকাশসীমা জটিলতায় পিছিয়ে যাওয়া রূপপুরের জ্বালানি সরবরাহ শুরু হচ্ছে অক্টোবরে
  • রোসাটমের বিবৃতিতে ভিভিইআর-১২০০ চুল্লির বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাইলফলক বাস্তবায়নে নতুন অগ্রগতির নিশ্চয়তা

রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ শুরু অক্টোবরে
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০০  

দেশের বিজ্ঞান, পারমাণবিক প্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাতের বৃহত্তম মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) সরবরাহ আগামী অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন অংশীদারদের অবহিত করে এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটম। আকাশসীমা সংক্রান্ত জটিলতায় পূর্বনির্ধারিত একটি চালান বিলম্বিত হওয়ার পর রোসাটম জানাল, চুক্তি ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা মেনেই অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে কয়েকটি বিশেষ ফ্লাইটে এই জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ, সরবরাহ ও কারিগরি লজিস্টিকসের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত আকাশপথের একটি দেশের অনুমতি না মেলায় রাশিয়া থেকে জ্বালানিবাহী বিশেষ কার্গো ফ্লাইটটি সময়মতো উড়তে পারেনি। মূলত পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের ছাড়পত্র না পাওয়ায় এই জটিলতার সৃষ্টি হয়। পরিবর্তিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১ অক্টোবর থেকে এই চালান কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এই পারমাণবিক চালান সাধারণত কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতের আকাশপথ ব্যবহার করে বাংলাদেশে আসে।

এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক কবির হোসেন গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, “প্রথম ইউনিটের জ্বালানি এক বছর পর পরিবর্তন বা রিলোড করতে হয়। সেই নির্ধারিত রিলোডের জন্য দুটি ফ্লাইটে মোট ৪৮টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি আসার কথা ছিল; যার একটি ২৪ সেপ্টেম্বর এবং অপরটি ১ অক্টোবর নির্ধারিত ছিল।”

প্রকল্প পরিচালক আরও জানান, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে রোসাটমের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে আকাশপথের সবগুলো দেশের ছাড়পত্র নিশ্চিত না হওয়ায় ২৪ সেপ্টেম্বরের ফ্লাইটটি স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে সময়সূচি এক সপ্তাহ পিছিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ অক্টোবর থেকে ফ্লাইট শুরুর প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের রূপরেখা তুলে ধরে কবির হোসেন জানান, আগামী ৮ অক্টোবর থেকে সাপ্তাহিক সাতটি বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে দ্বিতীয় ইউনিটের সম্পূর্ণ জ্বালানি দেশে পৌঁছানোর শিডিউল রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিলম্বিত চালানটি দ্বিতীয় ইউনিটের বলে বিভ্রান্তি ছড়ালেও রোসাটম বিবৃতিতে পাকিস্তানের আকাশসীমার অনুমতির বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে স্পষ্ট করেছে যে, দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি চুক্তি অনুযায়ী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই সরবরাহ সম্পন্ন করা হবে।

//ডিবিটেক/ডিএফআর//এসএমপি/ইএমএস//