খুলনায় শেষ হলো বিজ্ঞান উৎসবের আঞ্চলিক পর্ব; বিজয়ী যারা
দিন-ভর আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে ১৭ অক্টোবর, শুক্রবার অনুষ্ঠিত হলো বিকাশ-বিজ্ঞানচিন্তা বিজ্ঞান উৎসবের খুলনা আঞ্চলিক পর্ব। এতে এই বিভাগের ১০ জেলার বিভিন্ন স্কুলের মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় ৫৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। শিক্ষার্থীদের দারুণ সব প্রজেক্টের মধ্য থেকে সেরা ৭টি প্রজেক্টে মোট ২০ জনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। আর কুইজের নিম্ন মাধ্যমিকে ১০ জন ও মাধ্যমিক ক্যাটাগরিতে ১১ জনসহ মোট ২১ জনকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এর আগে নিজ নিজ বৈজ্ঞানিক প্রজেক্ট প্রদর্শনের পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা ও বিজ্ঞানভিত্তিক বক্তৃতায় অংশ নেয় উৎসবে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা। তাদের জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও ম্যাজিক শো।
উৎসবে প্রদর্শনীর জন্য নিবন্ধিত হয় ৬০টির বেশি প্রজেক্ট। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এই প্রদর্শনী চলে। একটি ক্যাটাগরিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয় এই প্রজেক্ট প্রদর্শনীতে। উৎসবে শিক্ষার্থীদের প্রজেক্ট মূল্যায়ন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
প্রদর্শনী চলাকালেই সকাল সাড়ে নয়টা থেকে শুরু হয় আঞ্চলিক কুইজ প্রতিযোগিতা। সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে শুরু হয় আলোচনা পর্ব। বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব, বিজ্ঞান ম্যাজিক শো ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। দুপুরে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই উৎসব। ম্যাজিক শো দেখান জাদুশিল্পী ব্রাইটস্টার এম সায়মন।
প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানবিষয়ক প্রশ্নের উত্তর দেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক কাজী মাসুদুল আলম, পদার্থবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক রিংকু মজুমদার, রসায়ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষক আসিফুর রহমান, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলমগীর হোসেন এবং খুলনা সরকারি ব্রজলাল কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. তৌহিদুল ইসলাম।
পুরস্কার বিতরণী পর্বে আরও উপস্থিত ছিলেন লেখক ও অনুবাদক ইসমাইল আরমান, বিজ্ঞানচিন্তার সহসম্পাদক উচ্ছ্বাস তৌসিফ ও কাজী আকাশ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক তুহিন রায়।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রতিটি ক্যাটাগরিতে কুইজে সেরা ১০ জন এবং প্রজেক্টে সেরা দলগুলো পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন সনদ, মেডেল, বই, বিজ্ঞান বাক্সসহ নানা উপহার। বিজয়ীরা রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় উৎসবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। সেখানে বিজয়ীদের জন্য থাকছে ল্যাপটপ, ট্যাবসহ আকর্ষণীয় পুরস্কার। ২৫ অক্টোবর সিলেটে হবে পরবর্তী আঞ্চলিক উৎসব।
প্রকল্প প্রদর্শনীতে সেরা দশ বিজয়ী হলেন- যশোর শিক্ষাবোর্ড স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহমিদ হাসান ও এস. এম. আলিউল হোসাইন ইশান; নেভি এ্যানকারেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শেখ আইয়ান আহমেদ, আহনাফ আরিব সায়ান, ফাহিমুল ইসলাম জিদান; নেভি এ্যানকারেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজের আরেকটি দলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জেরম মন্ডল, মাইয়াজ ইবনে মোহিত, অরিফ শাহ-রিয়ার; যশোর জিলা স্কুলে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এস এম জাওয়াদ হোসাইন, রাইয়ান সাদিক ও তানজিম রহমান মাহি; খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের অথেনা রায়, ভাষ্যতি মন্ডল, রাব্বি ইসলাম রনি; একই স্কুলের নবম শ্রেণির অপর দল নোমান চৌধুরি, পুনাম, ইরাম; আরেকটি দল অর্জুন রায়, সূর্য কুণ্ডু, সানরির রহমান স্বপ্নী।
এছাড়াও নিম্নমাধ্যমিক কুইজ বিজয়ীরা হলেন- পাইওনিয়ার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির জিয়ানা নিশাত সুলতানা; এসওএস হারম্যান মেইনার স্কুলের সপ্তম শ্রেণির সামীহা আলম; সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির বি.এম আরেফিন মুহিত; খুলনা পাবলিক কলেজের অষ্টম শ্রেণির আয়ান হাফিজ আহসান, সপ্তম শ্রেণির সমন্বয় মন্ডল, ষষ্ঠ শ্রেণির ময়ুম দেশনাম; সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির হাবিবা আকতার; খুলনা জিলা স্কুলের অষ্টম শ্রেণির মিশবাউর রহমান ও সপ্তম শ্রেণির মাহাদীন আহাম্মেদ রিমান এবং নেভি এ্যানকারেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শরণ্য সাহা।
মাধ্যমিকের কুইজ বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন খুলনা জিলা স্কুলে নবম শ্রেণির অর্পন সাহা ও অরিত্র দেবনাথ; সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির আরাধ্য সরকার যত্ন; সেন্ট জোসেফ্স উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির হাসিব মাহমুদ; খুলনা কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির তানজিম রায়হান; খুলনা কলেজিয়েট বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির মেহরিমা দোহা; পাইওনিয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির জিন্নাত আরা; খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের অর্জুন রায়; সেন্ট জোসেফ্স উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির কাজী তাহমীদ আলম; নবম শ্রেণির ঈশান ব্যানার্জী ও ইন্দ্রব্রত বিশ্বাস।







